সাহিত্য কথন

সাহিত্য,  কত ছোট একটা শব্দ অথচ এর তাৎপর্য অনেক। সাহিত্য ভালবাসে না এমন মানুষ যেমন নিতান্তই হাতে গোনা, তেমন সাহিত্যকে উপলব্ধি করবার মত মানুষও বড্ড কম। বহু মানুষের ভালবাসায় স্নাত এই সাহিত্য। তবুও মাঝে মাঝে মন্দবাসার তীক্ষ্ণ সূঁচ এসে বিঁধে যখন শুনতে হয়, “কি রে, সাহিত্য পড়ে করবি টা কি? রবিঠাকুর হবি? না নজরুল?”

সাহিত্যকে আমরা অবসরে সঙ্গী করি কিন্তু প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষারূপে স্থান দিতে চাই না। হয়ত মনে করি এটি নিতান্তই চাকরির বাজারে মূল্যহীন। কিন্তু সত্যিই কি সাহিত্যের অবসরযাপন ছাড়া আর কোন মূল্যই নেই?? হ্যাঁ, আছে; অবশ্যই আছে। রবিঠাকুরের “হৈমন্তী” কি শুধুই কবির কল্পনা? শুধুই মনগড়া? না, কখনই নয়। তাহলে আজও সমাজে হৈমন্তীর মত মেয়েরা যৌতুকপ্রথার শিকার হতো না। সাহিত্য সমাজের কথা বলে। সমাজকে তুলে ধরে। সাহিত্য ইতিহাসকে পুনর্জাগরিত করে। শুধুমাত্র লোকের মুখে শুনেই কি আমরা মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বাঁচি না।  “একাত্তরের দিনগুলি” অথবা “একাত্তরের ডায়েরী “র মত সাহিত্যকর্মগুলোই সেই চেতনাকে ধরে রাখে, ছড়িয়ে দেয় প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে।

সাহিত্য অতীতকে চেনায়, বর্তমানকে বুঝতে শেখায়। সাহিত্য প্রাণের কথা বলে, প্রেমের কথা বলে। সাহিত্য বাঁচতে শেখায়, ভালবাসতে শেখায়। এখানেই সাহিত্যের সার্থকতা। তাই আসুন সাহিত্যকে ভালবাসি শুধুমাত্র অবসরের সঙ্গী হিসেবে নয়, জীবনের প্রয়োজনীয় অনুষঙ্গ হিসেবে।

লিখেছেনঃ
দীপশিখা কুণ্ডু
শিক্ষার্থী, ইংরেজি বিভাগ
নর্থ ওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটি

You May Also Like