বক্স আউটলেট পদ্ধতিতে কেশবপুরে ১৫ হাজার বিঘা জমিতে ফসল আবাদের সম্ভবনা

নিজস্ব সংবাদদাতা ॥
যশোরের কেশবপুর উপজেলার বরনডালি বিল সংলগ্ন এলাকার কৃষকের সুবিধার্তে ৪৭ লাখ ৫৬ হাজার ৬৪৮ টাকা ব্যয়ে একটি বক্স আউটলেট নির্মাণ করা হয়েছে। ফলে লাখ লাখ টাকা ব্যয়ে মেশিন দিয়ে আর পানি নিষ্কাশন না করে প্রায় ১৫ হাজার বিঘা জমিতে সময় মত সমান ২ ফসল আবাদের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।

কপোতাক্ষ নদের তীরবর্তী গ্রামগুলোর মানুষের জীবন জীবিকা গড়ে উঠেছিল এ নদকে ঘিরে। এ নদে মাছ শিকার ও নদের পানি ব্যবহার করে কৃষকরা ফলাতো সোনালী ফসল। এ কারণেই অন্য এলাকার মানুষেরা এসে এর তীরবর্তী এলাকায় বসতি গড়ে তোলে। কিন্তু আশির দশকে আবহাওয়ার বিরূপ প্রভাবে এ নদ নাব্যতা হারালে প্রতিবছর উপচে পড়া পানিতে তীরবর্তী ২০/২২টি গ্রাম প্লাবিত হতো। দীর্ঘদিনেও কপোতাক্ষ সমস্যার সমাধান না হওয়ায় ২০০১ সাল থেকে তীরবর্তী এলাকার জলাবদ্ধতা স্থায়ী রূপ ধারণ করে। তখন এ নদই এ জনপদের জীবন জীবিকার পথের কাটা হয়ে দাঁড়ায়। বন্যার পানিতে প্লাবিত হতে থাকে তীরবর্তী বরনডালি বিল, ঘোচ মারা বিল, পদ্মবিল, বিষ্ণুপুর বিল, কোমরপোল বিল, কাদার বিল, বগা, মহাদেবপুর বিলসহ বিস্তৃর্ণ জনপদ। স্থায়ী জলাবদ্ধতার কারণে এ সমস্ত বিলগুলিতে কোন ফসল আবাদ হতো না। এ অবস্থায় পানি উন্নয়ন বোর্ড কপোতাক্ষ নদ খনন না করে এ নদের দু‘পাশ দিয়ে গ্রামরক্ষা বাঁধ নির্মাণ প্রকল্প গ্রহণ করে। কিন্তু এতেও তীরবর্তী বিলগুলো জলাবদ্ধতার অভিশাপ থেকে মুক্তি পায় না। বেঁচে থাকার তাগিদে এলাকাবাসি লাখ লাখ টাক ব্যয়ে স্বেচ্ছাশ্রমে বিলের পানি নিষ্কাশন করে বোরো আবাদ করতে থাকেন।

বরনডালি গ্রামের ৮০ বছর বয়সী কৃষক ইব্রাহিম সরদার, সোলাইমান খান, রুহুল আমীন, আবুল কাশেম, আলীবক্স মোড়লসহ একাধিক কৃষক জানান, বরনডালি গ্রামকে বন্যার হাত থেকে রক্ষা করতে ২০০৩ সালে গ্রামবাসি আব্বাজ উদ্দীন মোল্যার নেতৃত্বে স্বেচ্ছাশ্রমে কপোতাক্ষ তীরের মীরেরডাঙ্গা থেকে সরসকাটি বাজার পর্যন্ত গ্রাম রক্ষাবাঁধ নির্মাণ কাজ শুরু করে। ২০০৫ সালে বাঁধটি পানি উন্নয়ন বোর্ড আয়ত্বে নিয়ে পুনঃসংস্কার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। এ বাঁধের কারণে বরনডালি পশ্চিম মাঠের বিলে স্থায়ী জলাবদ্ধতা দেখা দিলে প্রতিবছর দেড় হাজার বিঘা জমি অনাবাদি হয়ে পড়ে। ফলে বিলের ওপর নির্ভরশীল প্রায় ২ হাজার পরিবারকে খাদ্য সংকটে পড়তে হয়।

বরনডালি গ্রামের সমাজ সেবক আব্বাজ উদ্দীন মোল্যা জানান, ২০০৬ সাল থেকে কৃষকদের ফসল আবাদের সুযোগ করে দিয়ে তার নেতৃত্বে ওই বিলের পানি ডিজেল চালিত স্যালো মেশিন দিয়ে নিষ্কাশন করে বোরো ধান আবাদের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। বিলটি ২০১৫ সাল থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত ৫ বছরের জন্যে কৃষকরা তার কাছে লীজ দিয়েছে। প্রতিবছর বোরো আবাদের আগেই লাখ লাখ টাকা ব্যয়ে বিলের পানি নিষ্কাশন করে কৃষকের বোরো আবাদের সুযোগ করে দেয়া হয়। শুধু ওই বিল নয় তীরবর্তী ৮/১০টি বিলে এ ব্যবস্থা আজও চলমান রয়েছে। ইতোমধ্যে তারই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে পানি উন্নয়ন বোর্ড সাড়ে ৪৭ লাখ টাকা ব্যয়ে চলতি বছর বরনডালি, মীরেরডাঙ্গা গ্রাম রক্ষাবাঁধে একটি বক্স আউটলেট নির্মাণ করেছে। যার সুফল আগামীতে এলাকাবাসি ভোগ করতে পারবেন। তিনি দাবি করে বলেন, প্রত্যেকটা বিলে এ ব্যবস্থা চালু থাকলে কৃষকরা বিলে ধান, পাটসহ বিভিন্ন ফসল আবাদ করতে পারবেন।

এ ব্যাপারে পানি উন্নয়ন বোর্ডে উপসহকারী প্রকৌশলী সায়েদুর রহমান জানান, বরনডালি বিল সংলগ্ন এলাকার ২ হাজার কৃষকের সুবিধার্তে ৪৭ লাখ ৫৬ হাজার ৬৪৮ টাকা ব্যয়ে একটি বক্স আউটলেট নির্মাণ করা হয়েছে। ফলে লাখ লাখ টাকা ব্যয়ে মেশিন দিয়ে আর পানি নিষ্কাশন করা লাগবে না। কৃষকরা সময়মত ফসল আবাদ করতে পারবে। তারা আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হবেন।

You May Also Like