পরীক্ষায় অতিরিক্ত ফিস আদায়কে কেন্দ্র করে শিক্ষক লাঞ্চিত, শ্রেণিকক্ষে তালা

আব্দুর রহিম রানা, মনিরামপুর (যশোর) ||

দাখিলে অতিরিক্ত ফিস আদায় নিয়ে যশোরের মণিরামপুর উপজেলার বাসুদেবপুর সিদ্দিকীয়া দাখিল মাদরাসায় শিক্ষকদের দুই গ্রুপের কোন্দল সংঘাতে রূপ নিয়েছে। ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে গত মঙ্গলবার দুই শিক্ষকের মাঝে হাতাহাতি হয়। তার সূত্র ধরে বৃহস্পতিবার সকালে এলাকাবাসীকে সাথে নিয়ে এক শিক্ষক আরেক শিক্ষককে বেধড়ক পিটিয়ে তাকেসহ ৭-৮ জনকে অফিসকক্ষে তালাবদ্ধ করে রাখেন। একই সাথে তারা শ্রেণিকক্ষেও তালা দেন। ফলে সকাল ১০ টা থেকে দুপুর ১২ টা পর্যন্ত দুই ঘণ্টা মাদরাসায় পাঠদান বন্ধ ছিল। খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

স্থানীয়রা জানায়, বহুদিন ধরে বাসুদেবপুর সিদ্দিকীয়া দাখিল মাদরাসায় কোনো ম্যানেজিং কমিটি নেই। এলাকাবাসী কমিটি গঠন করতে চাইলেও সুপার হারুন-অর-রশিদ কয়েকজন শিক্ষককে নিয়ে নিজের পকেটস্থ কমিটি গঠনের চেষ্টা করেন। যা নিয়ে আদালতে মামলা চলমান রয়েছে। ম্যানেজিং কমিটি না থাকায় এলোমেলোভাবে চলছে মাদরাসাটির কার্যক্রম।

এদিকে, এবারের দাখিল পরীক্ষায় সুপার নিজের ইচ্ছামত শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ফিস আদায়ে নেমেছেন। যার বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছেন ওই প্রতিষ্ঠানের গণিতের শিক্ষক সাইফুল ইসলাম ও কম্পিউটার শিক্ষক মফিজুর রহমান। এই নিয়ে শিক্ষকদের মধ্যে মতবিরোধ চলছে। গত মঙ্গলবার শিক্ষক সাইফুল এক ছাত্রীকে এনে বোর্ডের নির্ধারিত ফিস দিতে চান। তখন কথাকাটাকাটির এক পর্যায়ে সুপারের গ্রুপের শিক্ষক আব্দুল ওয়াহেদ ফারুকীকে ঘুষি মারেন সাইফুল। পরে আবার তা সাইফুলকে শোধ দেন ফারুকী। বুধবার সরকারি ছুটি থাকায় বিষয়টি চাপা ছিল।

এরপর বৃহস্পতিবার সকাল ১০ টায় এলাকাবাসীকে সাথে এনে সাইফুল ইসলাম শিক্ষক আব্দুল ওয়াহেদ ফারুকীকে মাদরাসা মাঠে ফেলে বেধড়ক পেটান। পরে তারা ফারুকীসহ ৭-৮ জন শিক্ষক-শিক্ষিকাকে অফিসকক্ষে তালাবদ্ধ করে রাখেন। একই সাথে এলাকাবাসীর সহায়তায় সাইফুল শ্রেণিকক্ষেও তালা দেন। মাদরাসার সুপার হারুন-অর-রশিদ  বিষয়টি ইউএনও এবং পুলিশকে জানান। খবর পেয়ে খেদাপাড়া পুলিশ ক্যাম্পের আইসি এসআই আইনুদ্দীন ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করেন।

সহকারী শিক্ষক আব্দুল ওয়াহেদ ফারুকী বলেন, ‘সকালে আমি মাদরাসায় আসার পরপরই এলাকার লোকজন এনে প্রথমে সাইফুল আমাকে মারধর করেন। তারপর মাদরাসার সাবেক ছাত্ররা আমাকে পেটায়। তখন এক শিক্ষক আমাকে উদ্ধার করে অফিসে বসান।’

তিনি আরও বলেন, ‘তাদের ভয়ে আমরা ভেতর থেকে সিটকিনি দিয়ে রাখি। পরে সাইফুল বাইরে থেকে তালা দেন। ফলে আমরা ৭-৮ জন শিক্ষক ভেতরে আটকা পড়ি।’

মাদরাসার এক ছাত্রীর সাথে সাইফুল মাস্টারের অনৈতিক সম্পর্ক আছে। যাতে বাধা দেয়ায় সাইফুল তার ওপর ক্ষিপ্ত বলে দাবি করেন ফারুকী।
তবে এই বিষয়ে কিছু জানাতে চাননি অভিযুক্ত শিক্ষক সাইফুল ইসলাম। বলেন,‘রোববারে মাদরাসায় আসেন।’

মাদরাসার সুপার হারুন-অর-রশিদ বলেন, ‘সকালে আমি খেদাপাড়ায় পরীক্ষার কেন্দ্রে ছিলাম। এলাকার লোকজন এনে সাইফুল এই কাজ ঘটিয়েছে।’
কী কারণে সাইফুল ইসলাম এমনটি করছেন- জানতে চাইলে সুপার বলেন,‘সাইফুলের একটা সমস্যা আছে। যা এখন বলা যাচ্ছে না।’

এসআই আইনুদ্দীন বলেন, ‘ওই মাদরাসায় দাখিল পরীক্ষার অতিরিক্ত ফিস ধরা নিয়ে শিক্ষকদের মধ্যে দুই গ্রুপ সৃষ্টি হয়েছে। তাই নিয়ে একপক্ষ পাঁচজন শিক্ষককে অফিসে আটকে রাখেন। আমি গিয়ে তাদের মুক্ত করি।’

মণিরামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ওবায়দুর রহমান বলেন, ‘তারা আমার কাছে এসেছিল। আমি বলেছি, যদি মারামারির কোনো ঘটনা ঘটে তাহলে থানায় মামলা করতে। আর মাদরাসা সংক্রান্ত কোনো ঘটনা থাকলে তা লিখিতভাবে জানালে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

You May Also Like