রাজগঞ্জের ভাসমান সেতুতে দর্শণার্থীদের উপচে পড়া ভিড়

আব্দুর রহিম রানা, যশোর ||

দীর্ঘ দিন ধরে ধারাবাহিক ভাবে নির্মাণ কাজের পর অবশেষে চলাচলের জন্য গত মঙ্গলবার উদ্ধোধনের মাধ্যমে উন্মুক্ত করা হয়েছে যশোরের মণিরামপুর উপজেলার রাজগঞ্জের ঝাঁপা বাঁওড়ে প্লাস্টিকের ড্রামের ওপর নির্মিত ভাসমান সেতুটি।

উদ্ধোধনের পর দিন (বুধবার) সকাল থেকে বৃহস্পতিবার  রাত পর্যন্ত বিভিন্ন এলাকা থেকে দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড় মিলন মেলায় পরিণত হচ্ছে।  দুর দুরান্ত থেকে নারী, পুরুষ, স্কুলের শিক্ষার্থীরা সেতুটি এক নজর দেখার জন্য ভীড় জমাচ্ছে ব্রিজের দু-পাশ৷

কথা হয় বাঁকড়া গ্রাম থেকে মেয়ের বাড়ী ঝাঁপা গ্রামে বেড়াতে আসা বয়োবৃদ্ধ আব্দুর রাজ্জাকের সাথে। তিনি বলেন, ঝাঁপা গ্রামে মেয়ে বিয়ে দিয়েছি ২৫ বছর আগে। তখন পারাপার হতাম হাতে চালিত নৌকায়, তার অনেক বছর পর পারাপার হতাম ট্রলার নৌকায়, আজ ব্রিজ দিয়ে হেটে হেটে মেয়ের বাড়ী আসলাম৷ আজ থেকে ঘাটে এসে নৌকার জন্য বসে থাকতে হবে না।

অভায়নগর নওয়াপাড়া থেকে আসা দর্শনার্থী বিল্লাল হোসেন আকাশ বলেন, পত্রিকা ও টিভিতে দেখে ফ্যামিলি নিয়ে এসেছি। ব্রিজ দেখে মনটা ভরে গেছে।

উল্লেখ্য, মঙ্গলবার (২ জানুয়ারী) যশোরের জেলা প্রশাসক আশরাফ উদ্দিন ফলক উন্মোচন ও ফিতা কেটে এক হাজার ফুট বা ৩০৫ মিটার লম্বা দেশের দীর্ঘতম এই ভাসমান সেতুটি উদ্বোধন করেন।

উদ্বোধন শেষে নিজের অভিমত ব্যক্ত করেন জেলা প্রশাসক। তিনি বলেন, ‘প্রাকৃতিক দুর্যোগসহ বিভিন্ন সময়ে সেনাবাহিনী অস্থায়ী ভাসমান সেতু তৈরি করে। পরে আবার সেটা উঠিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু প্লাস্টিকের ড্রামের ওপর এতো বড় ভাসমান সেতু হতে পারে, তাও আবার বেসরকারি উদ্যোগে- এমনটি কোনোদিন দেখিনি বা শুনিনি। গ্রামবাসীরা একত্রিত হয়ে এতবড় একটা কাজ করতে পেরেছেন সেই জন্য আমি উদ্যোক্তাসহ ঝাঁপা গ্রামবাসীকে সাধুবাদ জানাই।’

বাঁওড়ের ওপর স্থায়ী সেতু তৈরির ব্যাপারে সরকারের উচ্চ পর্যায়ে আলোচনা করবেন বলে ঘোষণা দেন জেলা প্রশাসক।

উদ্যোক্তারা সেতুটিকে ‘দেশের দীর্ঘতম ভাসমান সেতু’ বলে দাবি করছেন। সেতু নির্মাণের বিষয় জানতে চাইলে উদ্যোগতা শিক্ষক আছাদুজ্জামান জানান, ভাসমান সেতুটি তৈরি করতে ৮৩৯ টি প্লাস্টিকের ড্রাম, ৮০০ মণ লোহার পাত ও ২৫০ টি লোহার শিট ব্যাবহার করা হয়েছে৷ সেতুটি নির্মাণ করতে ষাট লক্ষ টাকা মত খরচ হয়েছে।

You May Also Like