সুন্দরবন ছেড়ে দাকোপের লোকালয়ে হরিণ

মোঃ মেহেদি, খুলনা ||

দাকোপ উপজেলার সুন্দরবন ঘেঁষা গ্রাম রামনগর। গ্রামের দশঘর পাড়ায় ২৮ জানুয়ারি সকালে একটি বাড়ির উঠানে দেখা যায় মায়াবী এক চিত্রল হরিণ। ক্ষতি না করে হরিণটিকে আদর-যত্মে ধরা হয়। আড়াই ঘণ্টা পর আরেকটি হরিণ আসে। এভাবে হরিণ আসতে দেখে হতবাক স্থানীয়রা। পরে হরিণ দু’টিকে সুন্দরবনে ছেড়ে দেওয়া হয়। সুন্দরবনের আশাপাশের গ্রামগুলোয় সাধারণত বাঘ ঢুকে পড়ে। এবারই প্রথম রামনগরে হরিণ আসার ঘটনা ঘটলো।

সুন্দরবন সহ-ব্যবস্থাপনা কমিটির কমিউনিটি পেট্রোলিং গ্রুপের (সিপিজি) সদস্য জাহিদুল ইসলাম গাজী বলেন, লোকজন দেখে প্রথম আসা হরিণটি পুকুরে লাফিয়ে পড়ে। পরে স্থানীয়রা হরিণটিকে উদ্ধার করে। হরিণ ধরার খবর পেয়ে ফাঁড়ি ইনচার্জ আবু তাহের এবং টাইগার টিম ও ওয়াইল্ড টিমের সদস্যরা ওই বাড়িতে যান। হরিণটি নিয়ে দুপুর ১টার দিকে সুন্দরবনে ছেড়ে দেওয়া হয়।

তিনি জানান, দুপুরের দিকে ছোমেদ ফরাজীর বাড়িতে আরও একটি হরিণ দেখতে পাওয়া যায়। সবার সহযোগিতায় সেটিও ধরে তারা বন কর্মকর্তাদের মাধ্যমে সুন্দরবনে ছেড়ে দেন।

কৈলাশগঞ্জ টহল ফাঁড়ির ইনচার্জ আবু বলেন, মরা ভদ্রা নদীতে জোয়ার এবং রাতে কুয়াশায় পথ ভুলে হরিণ দু’টি লোকালয়ে আসতে পারে। হরিণ দু’টিকে আবার জঙ্গলে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

রামনগর দশঘরের বাসিন্দা রাসেল ইসলাম বলেন, সুন্দরবনের মরাভদ্রা নদীর এক পাশে সুন্দরবন, অপর পাশে তাদের গ্রাম। নদীতে পানি কমে যাওয়ায় হরিণ লোকালয়ে চলে আসছে। এছাড়া বনের ভেতর খাদ্য সংকটও হতে পারে। এর আগে কখনও সুন্দরবন থেকে হরিণ আসার ঘটনা ঘটেনি। ২০০৩ সালের শেষদিকে একটি বাঘ নদী পার হয়ে এ গ্রামে ঢুকেছিল। ওই বাঘের থাবায় চারটি ছাগল আহত হয়। পরে গ্রামবাসী পিটিয়ে বাঘটি মেরে ফেলে।

সুন্দরবনের নলিয়ান রেঞ্জ কর্মকর্তা সোয়েব খান বলেন, হরিণ দু’টি সুস্থ-সবল থাকায় তাদের সুন্দরবনে ছেড়ে দেওয়া হয়।

You May Also Like