কেশবপুরে অবৈধ বালি উত্তোলনের হিড়িক ॥ ব্যাপক ভূমিধ্বসের আশংঙ্কা

আব্দুল্লাহ আল ফুয়াদ, কেশবপুর (যশোর) ॥

কেশবপুর পৌর শহরসহ উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের পুকুর, খাল, বিল, নদী ও জলাবদ্ধ স্থান থেকে অবৈধ ভাবে বালি উত্তোলন করে চলেছে কতিপয় অসাধু ব্যক্তি। বালি উত্তোলনের এই ধারা অব্যাহত থাকলে ওই এলাকার বাড়িঘর, ফসলি জমি, গাছপালাসহ ব্যাপক ভূমি ধ্বসের আশংঙ্কা করছেন সচেতন মহল।  প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে বছরের পর বছর এলাকার বড় ধরনের ক্ষতি করে আসলেও তাদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট  কর্তৃপক্ষ কোন ব্যবস্থা না নেয়ায় সাধারণ মানুষের মাঝে ক্ষোভ বিরাজ করছে।

জানা গেছে, উপজেলার মজিদপুর গ্রামের মহিদুল ইসলাম, শ্রীরামপুর গ্রামের আব্দুর রাজ্জাক, প্রতাপপুর গ্রামের, জাহাঙ্গির আলম, আব্দুস সালাম, বিদ্যানন্দকাটি গ্রামের হযরত আলীসহ উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে প্রায় শতাধিক ব্যক্তি অবৈধ বালি উত্তোলনের কাজে লিপ্ত রয়েছেন।  এর মধ্যে মহিদুল ইসলাম উপজেলার বিভিন্ন  গ্রামে প্রায় পাঁচ বছর ধরে অবৈধ ভাবে বালি উত্তোলন করছেন। তার ডেজি ২০-২২ ও ৩২ মডেলের ২ টি ম্যাশিনসহ বালি উত্তোলন সেট রয়েছে। তা দিয়ে প্রতি ফুট বালি ২ টাকা হারে  দিনে ৭/৮ হাজার ফুট পর্যন্ত বালি উত্তোলন করেন।  এতে দুটি ম্যাশিনে  প্রতিদিন ৩৫ শত টাকার ডিজেল, ৪ জন শ্রমিক এবং আনুষঙ্গিক খরচ মিলে প্রায় ৫ হাজার  টাকা খরচ হয়। উত্তোলনের পর মজুদ করে রাখা বালির মালিকরা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তির নিকট বিক্রিসহ তা পিকআপ, ট্রাক  অথবা ইঞ্জিন চালিত বাহন টলি যোগে গন্তব্যে পৌঁছে দেন। এতে গ্রামের অনেক কাঁচা রাস্তার ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে।

এ বছর মহিদুল বুড়িভদ্রা নদীর চরে বাজিতপুর গ্রামের সাখাওয়াতের জমিতে পানি থাকা অবস্থায়, দেউলি গ্রামের মোস্তফার ফসলি জমিতে পানি থাকা অবস্থায়, বায়সা গ্রামের মনোজের বাড়ির পাশে একটি পুকুর, মির্জাপুর নুরে আলমের পুকুর, কুশলদিয়া কামরুলের পুকুর, শীফলা সায়েমের পানি জমে থাকা ফসলি জমিসহ অনেক স্থান থেকে ৫০ ফুটের কম/বেশি মাটির নীচে পাইপ দিয়ে বালি উত্তোলন করেছেন। বর্তমানে তার এ ম্যাশিন দিয়ে দেউলি গ্রামে শহিদুলের মৎস্য ঘেরে বালি উত্তোলন করা হচ্ছে বলে খবর পাওয়া গেছে। বালি উত্তোলনের এসব যন্ত্রপাতি প্রশাসনের পক্ষ থেকে জব্দ করার চেষ্টা করলেও কৌশলে তারা পার পেয়ে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

তদন্ত পূর্বক অভিযুক্ত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় নেয়ার জোর দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী এলাকার মানুষ। এ ব্যাপারে মহিদুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, বালি তুলতে ফুট চুক্তিতে আমার ম্যাশিন ভাড়া দেয়া হয়। তেমন জায়গা হলে আমি নিজেও বালি উত্তোলন করে থাকি। বর্তমানে দেউলি গ্রামে একটি ঘেরে বালি উত্তোলন কাজ চলছে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মিজানূর রহমান জানান, ভূগর্ভ থেকে বালি উত্তোলন করা বেআইনি। ইতিপূর্বে খবর পেয়ে ভ্রাম্যমান আদালতের মাধমে অনেক মেশিন জব্দ করে পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে। এ ধরনের অভিযোগ পেলে তদন্ত পূর্বক আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

You May Also Like