কেশবপুরের এস বি গার্ডেন ইকো পার্কটি অর্থাভাবে এগোতে পারছে না

আব্দুল্লাহ আল ফুয়াদ, কেশবপুর (যশোর) ॥
নিজ উদ্যোগে প্রতন্ত অঞ্চল কেশবপুর উপজেলার পাঁচারই গ্রামে গড়ে উঠেছে একটি ইকো পার্ক। যা এস বি গার্ডেন নামে পরিচিত। অবসরে মানুষের বিনোদন ও মন-মানষে বিকাশ সাধনের লক্ষে গত ২০১০ সালে অজ পাড়া গায়ে ৮ বিঘা জমি নিয়ে স্থাপিত হয় পার্কটি। এই পার্কটি দর্শনার্থীর ভিড় দিন দিন বৃদ্ধি হচ্ছে। তাদের চাহিদা অনুযায়ী বর্তমানে ১৩ বিঘা জমির উপরে সুন্দর মনোরম পরিবেশে গড়ে উঠেছে নিরিবিলি ইকো পার্ক। চারপাশে প্রাচির ঘেরা বিভিন্ন প্রকারের শোভাবর্ধনকারী ফলজ বাগান দেখলে মন জুড়িয়ে যায়। ছায়াঘেরা গাছ গাছালির মধ্যে একটি পুকুর রয়েছে। পুকুরে চাষ করা হয় নানান প্রজাতির মাছ ।

সরেজমিনে দেখা যায়, গাড়ি পার্কিং ব্যবস্থা রয়েছে। শিশুদের বিনোদনের জন্য সব ধরনের ভাষ্কর্য রয়েছে। উল্লেখযোগ্য হাতি, ঘোড়া, জিরাফ, শিয়ালের কাঁঠাল চুরি, ডলফিন, ক্যংগারু, পেগুইন, বাঘের গল থেকে বকের কাটা বের করা, পরি, ভুত, গন্ডার, রাখাল বাঁশি, বক, কচ্ছপ, বর্মিমেয়ের চা উত্তোলনের দৃশ্য এছাড়া বাঘে হরিণ ধরার দৃশ্য ইত্যাদি।

তাছাড়া শিশুদের জন্য চর্কি, সড়ক খেলা, এক্কা-দুক্কা, দোলনা, মিনি ট্রেন, কেবল কার, প্যাডেল বোর্ড, নানাবিধ দর্শনিয় ভাষ্কর্য রয়েছে যা দেখে শিশুসহ সাধারন মানুষদের মন আকৃষ্টি হয়। প্রতিদিন দূরদূরান্ত থেকে দর্শনার্থীদের ভিড় জমে।

পিকনিক পার্টিতে আসা ডুমুরিয়া উপজেলার ভদ্রদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক লীনা জেসমিন বলেন, প্রতি বছরের ন্যায় এবারও আমরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে এই পার্কে বনভোজনে এসেছি। কোমলমতি ছেলে-মেয়েদের নিয়ে দূরে যাওয়ার চেয়ে নিকটে এসেছি। এখানকার পরিবেশ ভাল অল্প খরচে পিকনিক ও আনন্দ করা গেছে।

পাঁজিয়া গ্রামের মানিক জানান, আমি একজন ব্যবসায়ী কাজের ব্যস্ততার কারণে দূরে যাওয়ার চেয়ে নিকটে ছেলে মেয়ে নিয়ে ঘুরতে এসেছি। পরিবেশ মোটামুটি ভাল তবে চারপাশে সীমানা প্রাচীর দেওয়া উচিৎ।

পাথরা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ৮ম শ্রেণির ছাত্রী পূর্নিমা দাশ, ফতেমা খাতুন ও পূজা দাশ জানায়, আমারা কোথাও যাওয়ার সুযোগ পাইনা তাই বাড়ির পাশে একটু আনন্দ করতে এই পার্কে আসি। এখানে মোটামুটি নিরাপত্তা রয়েছে, আমাদের কোন অসুবিধা হয়না।

পাঁচারই গ্রামের মিজানূর রহমান জানান, এই পার্কটি এলাকার সুনাম বয়ে এনেছে। কিন্তু গ্রামের কিছু কুচক্রি মহল স্বার্থ উদ্ধারের জন্য অপপ্রচার চালাচ্ছে।

নাইট গার্ড আবু তালেব মোড়ল জানান, পার্কটি সন্ধ্যা ৬ টায় বন্ধ করে দেওয়া হয় আর সকাল ১০ টায় কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে খোলা হয়।

ম্যানেজার দেবাশিষ চক্রবর্তি জানান, প্রতিদিন শত শত লোক এই পার্কে আসে, কোন অসংগত কাজ কর্ম প্রশ্রয় দেয়া হয় না।

এস বি গার্ডেনের মালিক শফিকুল ইসলাম জানান, দুই ঈদসহ বিশেষ বিশেষ দিন বিশ্ব ভালবাসা দিবস, বাংলা নববর্ষ, ইংরেজী নববর্ষতে লোকের ভিড় খুব বেশী হয়। তাছাড়া জানুয়ারি থেকে মে মাস পর্যন্ত লোকের সমাগম হয় বেশী। সরকারি সাহায্য পেলে ইকো পার্কটি পর্যটকদের জন্যে আরো আধুনিক করা যেত। আমি সেই লক্ষে কাজ করছি।

You May Also Like