মণিরামপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এ্যাম্বুলেন্সটি বিকল, ব্যাহত হচ্ছে স্বাস্থ্যসেবা

আব্দুর রহিম রানা, যশোর ||

মণিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের একমাত্র এ্যাস্বুলেন্সটি দীর্ঘদিন ধরে বিকল হয়ে গ্যারেজে পড়ে আছে। এটি সংস্কারের উদ্যোগ না নেওয়ায় স্বাস্থ্য সেবা মারাত্বক ভাবে ব্যহত হচ্ছে। এটি বিকল হয়ে গেছে এমন অজুহাতে কর্তৃপক্ষ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের রোগী বহনকারী একমাত্র এ্যাম্বুলেন্সটি গ্যারেজে তালাবন্দি করে রেখেছেন। ফলে গত তিন মাস ধরে কোন রোগীরা এ্যাম্বুলেন্সটির সেবা পাচ্ছেন না।

দীর্ঘ সময় ধরে এটি বিকল পড়ে রয়েছে অথচ এটি সংস্কারের তেমন কোন উদ্যোগ নেই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের। প্রায় তিনগুণ ভাড়া দিয়ে বাইরে থেকে এ্যাম্বুলেন্স এনে সেবা নিতে হচ্ছে রোগীদের। এতে করে গরীব ও দুস্থ রোগীর স্বজনরা পড়ছেন বিপাকে। মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে গাড়িটি গ্যারেজে তালাবন্দি অবস্থায় দেখা গেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছেন, ‘সংস্কার নয়, নতুন এ্যাম্বুলেন্সের আবেদন করা হয়েছে। ১৭টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা মিলে গঠিত দেশের বৃহত্তম এই উপজেলায় প্রায় সাড়ে ৪ লাখ জনগণের স্বাস্থ্যসেবায় বহু বছর ধরে একটি মাত্র সরকারি এ্যাম্বুলেন্স নিয়োজিত আছে।

বহু বছর আগে থেকেই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এই এ্যাম্বুলেন্সটির সেবা প্রাপ্তি দিয়ে রোগীর স্বজনদের রয়েছে নানান অভিযোগ। বিশেষ করে চালকের বিরুদ্ধে রোগীদের অভিযোগটা বেশী। দিনের বেলায় সেবা জুটলেও গভীর রাতে নেই বললেই চলে। রাত হলেই এ্যাম্বুলেন্সের চালককে ফোন করে পাওয়া যেত না। যদিও ফোন ধরতেন এ্যাম্বুলেন্সের সমস্যা বা শরীর খারাপ এই অজুহাতে তিনি এড়িয়ে যেতেন। তবে রাতের সেবা না মিললেও দিনে যেটুকু মিলত সেটাও বন্ধ রয়েছে গত তিন মাস ধরে। এ্যাম্বুলেন্সটি চলাচলের অনুপযোগী অজুহাতে চালক তিন মাস ধরে তা গ্যারেজে তালাবন্দি করে রেখেছেন। যদিও চালকের দাবি, গত একমাস ধরে এ্যাম্বুলেন্সটি বিকল হয়ে গেছে।

অভিযোগ রয়েছে, এ্যাম্বুলেন্সের চালক ইকলাসসহ একটি চক্র এ্যাম্বুলেন্স বিকলের অজুহাত তুলে বাইরের থেকে এ্যাম্বুলেন্স ভাড়া করে এনে তা দিয়ে হাতিয়ে নিচ্ছেন বাড়তি টাকা। ব্যক্তি মালিকানা এ্যাম্বুলেন্স চালকদের সাথে যোগসাজসে রোগী প্রতি তারা নির্দিষ্ট হারে অর্থ ভাগিয়ে নিচ্ছেন। ফলে তারা চাইছেন না, এ্যাম্বুলেন্সটি মেরামত হোক।

এদিকে, ড্রাইভার ইকলাস ঘরে শুয়ে বসেই গুণছেন মাসিক বেতন। উপজেলার চিনাটোলা এলাকার ফারুক হোসেন জানান,‘মাসখানেক আগে রাত ১২ টার দিকে তার চাচা ইউসুফ আলী হঠাৎ হৃদরোগে আক্রান্ত হলে তাকে মণিরামপুর হাসপাতালে আনা হয়। অবস্থা গুরুত্বর হওয়ায় সেখানকার জরুরি বিভাগের চিকিৎসক রোগীকে যশোর সদর হাসপাতালে রেফার করেন। তখন হাসপাতালের এ্যাম্বুলেন্স চালককে কল করা হলে গাড়ি নষ্ট, তিনি যেতে পারবেন না বলে জানিয়ে দেন। পরে ১ হাজার ২০০ টাকায় বাইরের এ্যাম্বুলেন্স ডেকে তার চাচাকে যশোরে নেওয়া হয়েছে বলে জানান ফারুক। যদিও হাসপাতালের সরকারি এ্যাম্বুলেন্সের ভাড়া মাত্র ৪৪০ টাকা।

শুধু ফারুক নয় প্রতিনিয়ত হাসপাতালে আসা ৫-৬ জন রোগীর স্বজনকে এমনি করে ১২০০ থেকে ১৩০০ টাকা গুণে এ্যাম্বুলেন্স সেবা পেতে হয়। অভিযোগ রয়েছে, বাইরে থেকে ডেকে আনা এইসব এ্যাম্বুলেন্স চালকের কাছ থেকে মাথাপিচু ২০০-৩০০ টাকা পান হাসপাতালের এ্যাম্বুলেন্স চালক ইকলাসসহ জরুরি বিভাগে দায়িত্বরত কেউ কেউ। যদিও অভিযোগটি ভিত্তিহীন বলে দাবি চালক ইকলাসসহ সংশ্লিষ্টরা।

হাসপাতালের এ্যাম্বুন্সের ড্রাইাভার ইকলাস আলী বলেন, মণিরামপুর হাসপাতালের এ্যাম্বুলেন্সটি তৈরি ২০০৬ সালে। বেশ পুরোনো হওয়ায় কয়েক মাস ধরে তা বিকল হয়ে পড়েছে। মাঝে মধ্যে এটি মেরামত করে চালানো সম্ভব হলেও এখন আর সম্ভব হচ্ছে না। গাড়ির ইঞ্জিনের অবস্থা ভালো না। বেশ খারাপ আর গতিবেগ নেই বললেই চলে। তাই গ্যারেজে রাখা হয়েছে। এটি ঠিক না করে চালালে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

মণিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কর্মকর্তা আব্দুল গফ্ফার বলেন,‘সরকারি নিয়ম অনুযায়ী একটি এ্যাম্বুলেন্স প্রতি লিটার পেট্রোলে কমপক্ষে ৬ কি.মি. পথ চলার কথা। কিন্তু এখানকার এ্যাম্বুলেন্সটি প্রতি লিটারে যাচ্ছে ৪ কি.মি.। ফলে অতিরিক্ত তেল খরচ বহন করা সম্ভব নয়। আর পুরোনো হওয়ায় এই গাড়িটিও ব্যবহারের উপযোগী নয়।

তিনি বলেন,‘গত ৬ মাসে তিন বার এ্যাম্বুলেন্সের জন্য অবেদন করা হয়েছে। এমপি মহোদয়কেও জানানো হয়েছে। তিনি চেষ্টা করছেন। অতি সম্প্রতি এ্যাম্বুলেন্স সরবরাহ কর্তৃপক্ষের সাথে কথা হয়েছে। দ্রুতই নতুন এ্যাম্বুলেন্স পাওয়া যাবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।

You May Also Like