যশোরে ট্রাফিক কনস্টেবলের বুদ্ধিমত্তা ও সততায় ব্যবসায়ী ফিরে পেলেন ৩ লাখ ৬০ হাজার টাকা

আব্দুর রহিম রানা, যশোর ||

যশোরে কর্মরত ট্রাফিক কনস্টেবল সেলিম হোসেনের বুদ্ধিমত্তায় বুধবার রাতে সাইদুজ্জামান বিটন নামে এক সিঅ্যান্ডএফ ব্যবসায়ী নগদ ৩ লাখ ৬০ হাজার টাকা ফেরত পেয়েছেন। টাকা হারিয়ে বিটন যখন এদিক সেদিক পাগলের মতো ঘুরছিলেন, ঠিক সেসময় আরো কয়েকজন কনস্টেবল তাকে খুঁজে ট্রাফিক পুলিশের যশোর কার্যালয়ে নিয়ে যান। ফেরত দেন টাকাসহ ব্যাগটি।

বিটন জানান, রাত সাড়ে সাতটার দিকে স্ত্রী-সন্তানসহ শহরের ঘোপ সেন্ট্রাল রোড এলাকা থেকে রিকশায় করে দড়াটানার কাছে প্রাইম হাসপাতালের সামনে নামেন। সেখানে তিনি সন্তানকে নিয়ে ডাক্তার দেখাতে এসেছিলেন। তড়িঘড়ি করে নামার কারণে রিকশার সিটের পেছনে তার টাকাভর্তি কালো রঙের ব্যাগটি ফেলে যান। ব্যাগের ভেতরে ছেলের চিকিৎসাপত্রটিও ছিল। ডাক্তারের চেম্বারে ঢোকার আগমুহূর্তে চিকিৎসা ব্যবস্থাপত্রটি খুঁজতে গিয়ে দেখেন ব্যাগটি নেই! সে সময়ই তিনি ও তার স্ত্রী হাসপাতাল থেকে বের হয়ে সেই রিকশাটি খুঁজতে থাকেন। কিন্তু খুঁজে পাননি। প্রায় আধাঘণ্টা এভাবে খুঁজে যখন হয়রান, তখনই দেখতে পান কয়েক ট্রাফিক পুলিশ তাদের সামনে।

এদিকে, শহরের দড়াটানা মোড় ট্রাফিক বক্সের সামনে দায়িত্ব পালন করছিলেন কনস্টেবল সেলিম হোসেন। তিনি খালি একটি রিকশায় কালো রঙের ব্যাগটি দেখতে পেয়ে চালককে থামতে বলেন। জানতে চান, ব্যাগটি কার, এরমধ্যে কী আছে? রিকশাচালক সাদ্দাম হোসেন ব্যাগটি সম্বন্ধে কিছুই বলতে না পারলে ট্রাফিক কনস্টেবল সেলিম সেটি খুলে দেখেন। এ সময় ব্যাগের মধ্যে এক হাজার, ৫০০, ১০০ টাকার নোটের বেশকিছু বান্ডিল দেখতে পান। তিনি তখনই ব্যাগটি তাদের অফিসে নিয়ে যান এবং ট্রাফিক ইনসপেক্টর (প্রশাসন) মো. শাখাওয়াৎ হোসেনের জিম্মায় দেন।

রিকশাচালক সাদ্দাম জানান, ট্রাফিক পুলিশ দাঁড় করিয়ে ব্যাগ কার এবং ওর মধ্যে কী আছে- জানতে চান। ‘আমি কিছুই জানি না’ বললে তিনি ব্যাগটি খুলে তাতে টাকা দেখতে পান এবং আমাকে সহ ব্যাগটি অফিসে নিয়ে আসেন।

ট্রাফিক ইনসপেক্টর (প্রশাসন) শাখাওয়াৎ হোসেন বলেন, ‘ব্যাগের ভেতর অনেক টাকা দেখে আমি সেসময় অফিসের বকশি সোহরাবসহ তিনজন কনস্টেবলকে দড়াটানায় পাঠায় এবং কারও টাকা হারিয়েছে কিনা খুঁজে বের করতে। কিছু সময় পর বিটন সাহেব ও তার স্ত্রী-সন্তানকে পুলিশ সঙ্গে করে অফিসে নিয়ে আসে। আমরা তার কাছ থেকে যাবতীয় তথ্য সংগ্রহ করে নিশ্চিত হই ব্যাগটি বিটন সাহেবেরই। এরপর তার কাছ থেকে লিখিত নিয়ে নগদ তিন লাখ ৬০ হাজার টাকা, একটি সোনার আংটি, একটি মানিব্যাগসহ আরো কিছু জিনিসপত্র তাদের বুঝিয়ে দিই।’

ব্যবসায়ী বিটন বলেন, ‘বৃহস্পতিবার একটি জলমহাল ইজারার দিন। আমি সেই টেন্ডারে অংশ নিতে এবং পে-অর্ডারের জন্যে টাকা এনেছিলাম। ঘোপে শ্বশুরবাড়ি। ছেলেটি অসুস্থ হওয়ায় তাকে হাসপাতালে ডাক্তারের কাছে নিয়ে আসি।’

তিনি বলেন, ট্রাফিক কনস্টেবল সেলিম হোসেনের বুদ্ধিমত্তা এবং রিকশাচালকের মহানুভবতার কারণে টাকা ফেরত পেয়েছি। এজন্যে তাদের প্রতি অশেষ কৃতজ্ঞতা।

বিটনের বাড়ি যশোরের শার্শা উপজেলার উলাশী-পানবুড়ি এলাকায়। তিনি সিঅ্যান্ডএফ ব্যবসায়ী এবং একটি মোবাইল ফোন নেটওয়ার্কের ডিলার।

You May Also Like