কেশবপুরে অবৈধ জামান ব্রিকসের কালো ধোঁয়ায় কৃষকের ক্ষেতের ধান নষ্ট

আব্দুল্লাহ আল ফুয়াদ, কেশবপুর (যশোর) ॥

কেশবপুর পৌর এলাকার মধ্যে নিয়মনীতি না মেনে তিন ফসলী কৃষি জমিতে অবৈধ ভাবে গড়ে ওঠা জামান ব্রিকসের কালো ধোঁয়া ও আগুনের তাপে কৃষকের ২০-২৫ বিঘা ক্ষেতের বোরো ধান নষ্টের অভিযোগ উঠেছে। এ ব্যাপারে ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকরা উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নিকট লিখিত অভিযোগ করেছেন।

জানা গেছে, চলতি মৌসুমে কেশবপুর পৌরসভার ভোগতি নরেন্দ্রপুর ওয়ার্ডে কৃষি জমিতে অবৈধ ভাবে জামান ব্রিকস নামে একটি ইটভাটা নির্মাণ ও ইট উৎপাদন শুরু করে। ওই সময় এলাকাবাসির অভিযোগের প্রেক্ষিতে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মিজানূর রহমান চলতি বছরের ১৫ জানুয়ারী ভ্রাম্যমান আদালত বসিয়ে ভাটার মালিক মমতাজ বেগমকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা ও ৬ মাসের কারাদন্ডাদেশ প্রদান করেন।  পরদিন তিনি যশোর এডিএম কোর্টে আপিলের প্রেক্ষিতে জরিমানার ৫০ হাজার টাকা জমা দিয়ে সাজা থেকে খালাস পান। এরপর প্রভাবশালীদের ম্যানেজ করে আরো বেপরোয়া হয়ে ওই ভাটায় ইট উৎপাদন শুরু করা হয়। সম্প্রতি ওই ইট ভাটায় ইট পোড়ানোর জন্য কয়লার পরিবর্তে পোড়া মবিল, টায়ার ও কাঠের গুড়া ব্যবহার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ ওঠে। এতে এলাকার পরিবেশদূষণ ও ভাটার কালো ধোঁয়ায় চিমনির পার্শ্ববর্তী ২০-২৫ বিঘা জমির ফলন্ত বোরো ধানের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

এ ব্যাপারে ০৩ এপ্রিল ভুক্তভোগী ২৫ জন জমির মালিক ভাটা বন্ধ ও ক্ষতিপূরণের দাবিতে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নিকট লিখিত অভিযোগ জমা দেয়। গত মঙ্গলবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ওই ইটের ভাটার চিমনী সংলগ্ন ৩ পাশের বোরো ক্ষেতের ধান গাছ পুড়ে শুকিয়ে গেছে

এ সময় ভুক্তভোগী কৃষক আব্দুল করিম, আলী হুসাইন, আনন্দ দত্ত, আজিজুর রহমান জানান, ইউএনও অফিসে অভিযোগ করায় ভাটার মালিক তাদের দেখে নেওয়ার হুমকী দিয়েছে। তারা ভাটা করতে জমি না দেওয়ায় তার ভাড়াটিয়া বাহিনী এর আগেও হুমকি দিয়েছে। ক্ষেতে ফসল না হলে ভাটায় জমি দিতেই হবে।    

জামান ব্রিকস ভাটার মালিক মমতাজ বেগম উত্তেজিত হয়ে বলেন, জমি লিজ নিয়ে ভাটা করা হয়েছে। ধানের জমির মালিকদের টাকা নেয়ার ধান্দা। প্রশাসন ও আওয়ামীলীগের দায়িত্ববান নেতারা আমার পক্ষে আছে। আপনার যা খুশী তাই লিখতে পারেন।  

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মিজানূর রহমান বলেন, প্রয়োজনীয় নির্দেশনার জন্য ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকদের লিখিত অভিযোগটি যশোর জেলা প্রশাসকের নিকট পাঠানো হয়েছে। মৌসুমের শুরুতে এ উপজেলার অবৈধ ইট ভাটার বিষয়ে একটি প্রতিবেদন যশোর জেলা প্রশাসনের নিকট পাঠানো হয়েছিল। পরবর্তীতে জেলা প্রশাসনের একটি টিম ভাটাগুলো সরেজমিন পরিদর্শন করেন। ওই টিমের প্রতিবেদনের প্রেক্ষিতে অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে জেলা প্রশাসনের একটি নির্দেশনা চলতি সপ্তাহে পাওয়া গেছে। নির্দেশনা মোতাবেক এ ব্যাপারে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

You May Also Like