সাইকেল চালিয়ে ৬৪ জেলা ভ্রমণে বের হওয়া আহসান হাবিব এখন কেশবপুরে

আব্দুল্লাহ আল ফুয়াদ ॥

সাইকেল চালিয়ে বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয়, সামাজিক ও জন কল্যাণে বাস্তবায়িত ও নির্মিত স্থান দর্শন এবং দেশের ৬৪ জেলার দর্শণীয় স্থান সম্পর্কে জানতে ও জ্ঞান অর্জন করতে ঘর ছেড়েছেন ঠাঁকুরগাও জেলার রানীশংকৈল উপজেলার ভান্ডারা গ্রামের আহসান হাবিব (২৯)। তিনি ঠাঁকুরগাও জেলার রানীশংকৈল উপজেলার আইনুল হকের ছেলে। আহসান হাবিব পেশায় কাঁচামাল ব্যাবসায়ী।

তিনি জানান, গত ২ এপ্রিল  ঠাঁকুরগাও জেলার রানীশংকৈল উপজেলার ভান্ডারা গ্রামের নিজ বাড়ী থেকে তিনি বাই সাইকেল নিয়ে “দেশের উন্নয়ন করি মূল্যায়ন” স্লোগান নিয়ে যাত্রা শুরু করেন। এখন পর্যন্ত ২৭ দিনে তিনি ২১ জেলা ভ্রমণ শেষে বর্তমানে যশোর জেলার কেশবপুর উপজেলায় অবস্থান করছেন। তিনি কেশবপুর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী ও দর্শনীয় স্থানগুলো ভ্রমণ করেছেন।

রোববার কেশবপুর শহরের মাইকেল মোড়ে তার সাথে কথা হয় এ প্রতিবেদকের। এরপর তিনি সাতক্ষীরা হয়ে আগামী তিন মাসের মধ্যে বাকি ৪৩ জেলা ঘুরে ঢাকাতে গিয়ে ভ্রমণ শেষ করবেন বলে জানান। একান্ত আলাপচারিতায় আহসান হাবিব জানান, অভাবের সংসারে থেকে লেখাপড়া শিখতে না পারলেও সারাদেশের দর্শনীয় স্থান সম্পর্কে জানতে ও জ্ঞান অর্জন করতেই বের হয়েছি।

পরিবারের উৎসাহ ও নিজের ইচ্ছের কারনে এই কাজে বের হয়েছেন বলেও জানান। তিনি বলেন, “দর্শনীয় স্থানগুলোর তথ্য ও কিছু নমুনা সংগ্রহ করছি”। ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা বা ডাক বাংলোতে অথবা হোটেলে রাত্রিযাপন করেন। আর খাবারের খরচ বাড়ি থেকে পাঠানো হয় বলে জানান তিনি।

তিনি বলেন, ছোটবেলা থেকেই সাইকেল চালানো অভ্যাস। সাইকেল নিয়ে ঘুরাফেরা করতে ভাল লাগে। সাইকেল নিয়ে সারাদেশ ভ্রমণের জন্য একই এলাকার বীর মুক্তিযোদ্ধা হামিদুর রহমান তাকে উদ্বুদ্ধ করেছেন। পরে স্ত্রী ও বাবা-মায়ের অনুমতি নিয়ে ঘর ছেড়েছেন তিনি।

এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, তারা ৪ ভাই ২ বোন, আহসান হাবিব মেঝ, বাবা ব্যাবসায়ী -মা গৃহিনী। পাশের পীরগঞ্জ উপজেলার মুসলেমা আক্তার চম্পাকে বিবাহ করেছেন। দীর্ঘ প্রায় একযুগের দাম্পত্য জীবনে তাদের মুনতা হামিম নামে তিন বছরের একটি মেয়ে রয়েছে।

তিনি সারাদেশে সাইকেল ভ্রমণ করে যেন সফলতা অর্জন করে বাবা-মায়ের কাছে ফিরে আসতে পারে সেজন্য সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন।

You May Also Like