যশোরের মণিরামপুরে স্থাপিত হচ্ছে বিশেষ ভিলেজ মার্কেট

আব্দুর রহিম রানা, যশোর ||

যশোরের মণিরামপুর উপজেলায় জলাবদ্ধতার শিকার ভবদহ অঞ্চলে ৮ কোটি ৪২ লক্ষ টাকা ব্যয়ে স্থাপিত হতে যাচ্ছে বিশেষ ভিলেজ মার্কেট। সেই লক্ষে উপজেলার নেহালপুর ইউনিয়নের পাঁচাকড়িতে প্রকল্প বাস্তবায়নে একটি বেসরকারি সংস্থা জাগরনী চক্র ফাউন্ডেশনের তত্ত্বাবধানে সলিডারিডাড নেটওয়ার্ক এশিয়ার অর্থায়নে ১ একর ৫৪ শতক জমি ক্রয় করে মার্কেটের নির্মাণ কাজ চলছে। চলতি বছরের মধ্যে প্রকল্পের নির্মান কাজ শেষ হবে বলে জানা গেছে।

খোঁজ খবর নিয়ে জানা যায়, ভিলেজ মার্কেট দ্বারা প্রান্তিক চাষীরা তাদের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্য মূল্য পাবেন। এই মার্কেটে অত্যাধুনিক প্রক্রিয়াজাতকরণ যন্ত্রের মাধ্যমে কৃষকরা তাদের উৎপাদিত পণ্য (সকল প্রকার সবজি, মাছ ও দুধ) সরাসরি ঢাকাসহ বড় বড় বাজার গুলোতে পাঠাতে পারবেন। এখানে কোন মধ্যস্বত্বভোগী থাকবে না। কৃষকরা তাদের কষ্টে অর্জিত উৎপাদিত ফসলের ন্যায্য মূল্য পাবেন। এ মার্কেটের আওতায় থাকবে ২৫’শ প্রান্তিক চাষী, যারা নিয়মিত তাদের উৎপাদিত মাছ ও সবজি বিক্রি করে তাদের সংসার চালানোসহ দেশের উন্নয়নে অংশ গ্রহন করতে পারবেন।

মার্কেটটিতে বিভিন্ন প্রকারের মাছের আড়ৎ থাকবে ১২টি, সবজি আড়ৎ ৮টি, পাঁচ হাজার লিটার দুধের ২টি চিলারসহ প্রতিদিন ১০ হাজার লিটার বরফ উৎপাদনের ব্যবস্থা থাকবে। এছাড়া মাছ একুয়া প্রসেসিং জোন, হর্টি প্রসেসিং রুম যার তাপমাত্রা থাকবে ১০ ডিগ্রী সেলসিয়াস। চাষীদের উৎপাদিত মাছ ও সবজির ন্যায্য মূল্যের জন্য থাকবে ডিজিটাল চার্টার থাকায় চাষীদের কোন দুর্ভোগ পোহাতে হবে না। সার্বক্ষনিক বিদ্যুৎ ব্যবস্থার জন্য থাকবে ৩শ কিলো ওয়ার্ডের নিজস্ব সাব স্টেশন। ১২শ ফিটের ২টি ডিপটিউবয়েল, ৮০ ফিটের ১টি ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট টাওয়ার যার সাথে সংযোগ থাকবে ঢাকা ও নেদারল্যান্ডের। পর্যাপ্ত নিরাপত্তা জন্য থাকবে গার্ডের ব্যবস্থা।

বিশেষ এ ভিলেজ মার্কেট স্থাপনের খবরে স্থানীয় কৃষকরা দারুন খুশী হয়েছে। চাষী হাফিজুর রহমান বলেন, আমরা বেজায় খুশি, এ মাকের্টে আমাগে আবাদ করা মাছ ও সবজি দেশ- বিদেশে যাবে। সংসার চালায়েও আমরা দেশের জন্যি কাজ করতে পারবো। এ জন্য আরো ভাল লাগছে।

প্রকল্প বাস্তবায়নে দায়িত্বরত প্রকৌশলী অনিরুদ্ধ কুমার সরকার জানান, চলতি বছরের মধ্যে প্রজেক্টের নির্মান কাজ শেষ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

স্থানীয় নেহালপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান নাজমুস সাদাত জানান, মার্কেটি নির্মান হলে এলাকার চাষীরা লাভবান হবেন। তাছাড়া এলাকার উন্নয়ন হবে।

You May Also Like