এভাবেও মেরে ফেলা যায় ! বাস শ্রমিকদের এ কেমন খুন!

নাহিদ ইসলাম ||

নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির ছাত্র সাইদুর রহমান ওরফে পায়েল (হানিফ-ভলবো) পরিবহনে গত শনিবার চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় আসার পথে দীর্ঘ যানজটের সময় বাস থেকে নেমে বাথরুমে যায়। এর মধ্যেই যানজট কিছুটা ছাড়লে বাস এগোতে থাকে। সাইদুর দৌড়ে এসে বাসে উঠতে গিয়ে নাকেমুখে আঘাত পান। নাক মুখ ফেটে রক্তাক্ত অবস্থায় ছেলেটি রাস্তায় অজ্ঞান হয়ে পড়ে যায়। আহত সাইদুরকে মৃত ভেবে আসন্ন ঝামেলা এড়াতে চিকিৎসা দেওয়ার বদলে বাসটির চালক, সুপারভাইজার ও চালকের সহকারী মিলে একটি সেতু থেকে নদীতে ফেলে দেন। এর পূর্বে যা ঘটেছে, তা যে কোন বিকৃত খুনিকেও হার মানাবে। সাইদুরকে নদীতে ফেলে দেবার আগে, ইট দিয়ে তার চেহারা থেতলে দেয় তারা, যাতে লাশ সনাক্ত না করা যায়। বাসের সুপার-ভাইজার জনির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে জানা যায়, ছেলেটা তখনও জীবিত ছিলো।

তুর্কি কবি নাজিম হিকমতের লেখা ‌‍”জেল খানার চিঠি(বাংলা অনুবাদঃ সুভাষ মুখোপাধ্যায়) কবিতায় বলেছেন, “বিংশ শতাব্দীতে মানুষের শোকের আয়ু বড় জোর এক বছর”; চারদিকে বীভৎস্য ও অকল্পণীয় মৃত্যু দেখতে দেখতে মনের গহীনে একটি প্রশ্ন বারংবার আলোড়িত হচ্ছে, একাবিংশ শতাব্দীতে শোকের আয়ু কত ক্ষণ?

মৃত্যুর হিমশিতল কোলে আশ্রয় নেওয়ার প্রক্রিয়াটি স্বাভাবিক। কিন্তু নিষ্ঠুরভাবে জোর করে কারও নিঃশ্বাসের অধিকার কেড়ে নিলে প্রাণ হরণের হৃদয় অগ্রাহ্য প্রক্রিয়া মানবতার অধঃপতনের নতুন মাত্রা সৃষ্টি করে। সাম্প্রতিক কালে এদেশে ঘটে যাওয়া বর্ণনাতীত অকাল মৃত্যুর বহর দেখে আমরা অনুভূতিহীন হয়ে নিরর্থক পরিমাপ করতে থাকি শোকের আয়ু কত, মানবতার অধঃপতনের মাত্রা কত খানি বাড়লো!!

 

You May Also Like