শ্রীলঙ্কার রহস্যময় আদম পাহাড়

আব্দুর রহিম রানা ||

রহস্যময় আদম পাহাড়ের অবস্থান শ্রীলঙ্কায়। রহস্যের কারণটা হলো এর চূড়ায় অবস্থিত বিরাট আকারের এক পায়ের ছাপ। হ্যাঁ, মানুষের পায়ের ছাপ! পাহাড়ের চূড়ায় অবস্থিত ওই পায়ের চিহ্নটি সত্যিই রহস্য, আকারেও বিশাল।

মুসলমানদের বিশ্বাস, পৃথিবীর প্রথম মানব হজরত আদম (আ.) এর নামেই নামকরণ হয়েছে এই পাহাড়ের। তবে এর চূড়ায় অবস্থিত ওই পায়ের ছাপকে সব ধর্মের মানুষই পবিত্র হিসেবে মনে করে। শ্রীলঙ্কার মুসলমানরা বিশ্বাস করে পৃথিবীর প্রথম মানব হজরত আদম (আ.) প্রথম শ্রীলঙ্কায় পদার্পণ করেছিলেন। আর পাহাড়ের চূড়ায় অবস্থিত পায়ের ছাপটি তারই। তাই এই ছাপকে মুসলমানরা পবিত্র হিসেবে গণ্য করে।

আদম পাহাড় শুধু মুসলমান নয়, হিন্দু, খ্রিস্টান, বৌদ্ধ সবার কাছেই সমানভাবে শ্রদ্ধার স্থান। হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা মনে করে এই পদচিহ্নটি শিবের পায়ের, আবার খ্রিস্টানরা মনে করে এটা যিশুর পায়ের ছাপ, বৌদ্ধরা মনে করে এটা বুদ্ধের পায়ের ছাপ। সবার ধর্মের সঙ্গে সম্পৃক্ত হওয়ায় জায়গাটি সবার কাছেই শ্রদ্ধার।

১৫০৫ সালে শ্রীলঙ্কা সফরে এসেছিলেন পর্তুগিজ এক নাগরিক। তিনি এ পাহাড় দেখে বলেছিলেন পিকো ডি আদম। সেই থেকেই পাহাড়ের নাম আদম পাহাড়। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে এই পায়ের ছাপটি রয়েছে এখানে।

এই আদম পাহাড় নিয়ে মানুষের জানার আগ্রহ দীর্ঘদিনের। অনেক মুসলমানই বিশ্বাস করে হজরত আদম (আ.) পৃথিবীতে অবতরণের সময় সর্বপ্রথম পা রাখেন শ্রীলঙ্কার এই পাহাড়ে। এই পাহাড়ের চূড়াটি একটি সমতল ক্ষেত্র। সর্বপ্রথম ১৮১৬ সালে লেফটেন্যান্ট ম্যালকম এর পরিমাপ করেন। পরিমাপ অনুযায়ী এর দৈর্ঘ্য ৭৪ ফুট, প্রস্থ ২৪ ফুট এবং মোট আয়তন ১৭৭৬ বর্গফুট।

You May Also Like