মেধাই সম্বল হাত-পা ছাড়া জন্ম নেয়া লিতুন জিরা’র

আব্দুর রহিম রানা, যশোর ||

পরনির্ভর নয়, লেখাপড়া শিখে মানুষের মতো আত্মমর্যাদার নিয়েই বাঁচতে চায় পৃথিবীর আশ্চর্য লীলায় হাত, পা ছাড়াই জন্ম নেওয়া লিতুন জিরা। ‘আমার একটাই ইচ্ছা, পরনির্ভর নয়, লেখাপড়া শিখে নিজেই কিছু করতে চাই। এ জন্য আমি সকলের কাছে দোয়া চাইছি।’ মণিরামপুর উপজেলার শেখপাড়া খানপুর গ্রামের হাবিুবুর রহানের মেয়ে লিতুন জিরা ইতিমধ্যে তার মেধা দিয়ে জয় করেছে অনেক কিছুই। পা না থাকায় স্কুল যায় হুইল চেয়ারে চড়ে। আর হাতের অভাবে লেখা বা আঁকার কাজ সারেন মুখ দিয়ে।

সরেজমিন লিতুন জিরার বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, লিতুন অন্য শিশুদের মতো খাওয়া-দাওয়া, গোছল সব কিছুই করছে। মুখ দিয়েই লিখে সে। তার চমৎকার হাতের লেখা যে কারো দৃষ্টি কাড়বে। লিতুন জিরা বর্তমানে উপজেলার খানপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ছে। লেখাপড়ার প্রতি প্রবল আগ্রহী লিতুন প্রখর মেধাবী। প্রতিদিন হুইল চেয়ারে বিদ্যালয়ে আসে। বর্তমানে হুইল চেয়ারটি পুরাতন হয়ে যাওয়ায় তা চলাচলের প্রায় অনুপযোগী হয়ে পড়েছে বলে জানালো লিতুন জিরা। তার বাবা উপজেলার এআর মহিলা কলেজের প্রভাষক। গত ১৫ বছর ধরে এই কলেজে চাকুরি করছেন। কিন্তু কলেজটি এমপিওভূক্তি হয়নি। তাই বেতন না পাওয়া বাবার কাছে হুইল চেয়ার কেনার বায়না করতে পারছে না লিতুন। বছর পাঁচেক আগে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে হুইল চেয়ারটি দেয়া হয়। বর্তমানে একটি নতুন চেয়ার তার খুব দরকার। লিতুন জিরার বাবা হাবিবুর রহমান ও মা জাহানারা বেগম জানান, জন্মের পর মেয়ের ভবিষ্যত নিয়ে নানা চিন্তায় পড়তেন তারা।

তবে মেয়ের মেধা এখন তাদের সেই চিন্তা দূর হয়েছে। বুকে আশার সঞ্চায় করছেন তারা। লিতুন জিরার প্রধান শিক্ষক সাজেদা খাতুন বলেন, ‘২৯ বছর শিক্ষকতা জীবনে লিতুন জিরার মতো মেধাবী শিক্ষার্থীর আমি পাইনি। এক কথায় সে অসম্ভব মেধাবী। শুধু লেখাপড়ায় না, সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডেও অন্যদের থেকে সে অনেক ভাল।’

You May Also Like