জনবল সংকটে কেশবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স

আব্দুল্লাহ আল ফুয়াদ ॥

কেশবপুরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোয় চিকিৎসক সংকট দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে উপজেলার ১০টি ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণকেন্দ্রে কোনো চিকিৎসক নেই। এছাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২২ চিকিৎসকের মধ্যে রয়েছেন ১৩ জন। এতে সরকারি স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন উপজেলার সাধারণ মানুষ। গত বছর উপজেলা পর্যায়ে শীর্ষ দ্বিতীয় স্থান অর্জনকারী এ হাসপাতালে স্বাস্থ্য সেবা নিতে আসা রোগিরা অভিযোগ করেছেন ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও ডাক্তার পাওয়া যায় না। শুধু ডাক্তার স্বল্পতা নয়, চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী স্বল্পতার কারণে হাসপাতালের পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে কর্তৃপক্ষ রীতিমত হিমশিম খাচ্ছে। প্রত্যাশিত চিকিৎসাসেবা না পেয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন রোগীরা । উপজেলাসহ আশ পাশের উপজেলার প্রায় পাঁচ লক্ষাধিক মানুষের চিকিৎসার ভরসাস্থল এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও স্বাস্থ্য উপকেন্দ্রগুলো ।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, হাসপাতালে ২০ জন মেডিকেল অফিসারের স্থলে রয়েছেন ৬ জন। ১০ কনসালটেন্ট পদে আছে ৬ জন। নেই আবাসিক মেডিকেল অফিসার, জুনিয়র কনসালটেন্ট (সার্জারী), জুনিয়র কনসালটেন্ট (চক্ষু), জুনিয়র কনসালটেন্ট (নাক, কান, গলা), জুনিয়র কনসালটেন্ট (চর্ম ও যৌন), সহকারি সার্জন, আরএমও, মেডিকেল অফিসার (ইউনানী ও হোমিও), ডেন্টাল সার্জন রয়েছেন প্রেষনে। হাসপাতালে নেই আল্ট্রাসনোগ্রাফ ও ডিজিটাল এক্সে।

চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারীদের ভেতর নেই নিরাপত্তা প্রহরী এক জন, এমএলএসএস এক জন, মালী এক জন, ওয়ার্ড বয় দুই জন, ইমারজেন্সি এটেনডেন্ট এক জন, আয়া এক জন ও ঝাড়ুদার তিন জন। এছাড়াও তৃতীয় শ্রেণীর প্রধান সহকারি এক জন, হিসাবরক্ষক এক জন, পরিসংখ্যানবিদ এক জন, ক্যাশিয়ার এক জন, অফিস সহকারি কাম মুদ্রাক্ষরিক দুই জন, মেডিকেল টেকনোলজিষ্ট (ফার্মাসিস্ট) দুই জন, মেডিকেল টেকনোলজিষ্ট (ফিজিও) এক জন, সহকারি সেবক/সেবীকা (নার্স) এক জন, কম্পাউন্ডার এক জন, স্বাস্থ্য পরিদর্শক তিন জন, সহকারি স্বাস্থ্য পরিদর্শক চার জনের পদ শুণ্য রয়েছে।

জানা গেছে, ডাক্তারদের অবহেলা, উদাসীনতার কারণে কেশবপুরের মানুষ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স বিমুখ হওয়ারও অভিযোগ রয়েছে। ডাক্তাররা বিশেষ করে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অপারেশনের জন্য আসা কোন রোগীকে অপারেশন বা চিকিৎসা সেবা না দিয়ে অধিক পরীক্ষা নিরীক্ষার অজুহাতে শহরে তাদের নিজস্ব চেম্বারে নিয়ে যান। পয়সা পান না বলে ডাক্তাররা মূলত স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কোন অপারেশন করেন না বলে রোগীর স্বজনদের অভিযোগ।

যশোর, খুলনা ও সাতক্ষীরা জেলার মধ্যবর্তী স্থান হওয়ায় কেশবপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের গুরুত্ব অপরিসীম। পশ্চিমে কলারোয়া, দক্ষিণে ডুমুরিয়া ও তালা, উত্তরে মনিরামপুর উপজেলার অবস্থান সন্নিকটে হওয়ায় এ ৪ টি উপজেলার অধিকাংশ দরিদ্র শ্রেণির মানুষের চিকিৎসা ও অপারেশনের জন্য কেশবপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আগমন ঘটে। কিন্তু সেখানে ভাল চিকিৎসা সেবা ও অপারেশন না হওয়ায় তারা কম খরচে শহরের বিভিন্ন বেসরকারি ক্লিনিকে চিকিৎসা নেন ও অপারেশন করিয়ে থাকেন।

হাসপাতাল সুত্র জানায়, বর্হিবিভাগে প্রতিদিন গড়ে প্রায় চারশো রোগী বিভিন্ন রোগের চিকিৎসা নিয়ে থাকেন। মাত্র ছয়জন ডাক্তারের পক্ষে এত রোগী দেখা সম্ভব হয় না । মেডিকেল অফিসার স্বল্পতার কারণে রোগিরা সুষ্ঠু ভাবে চিকিৎসা সেবা পাচ্ছে না বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি। গত বছর স্বাস্থ্য মন্ত্রী জাতীয় পুরস্কার উপজেলা পর্যায়ে শীর্ষ ৫ এর দ্বিতীয় স্থান অর্জন এ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ পূর্বের স্থান ধরে রাখার বিষয়ে চিন্তিত হয়ে পড়েছে। কেশবপুর উপজেলা যশোর, সাতক্ষীরা ও খুলনার মধ্যবর্তি স্থানে অবস্থিত হওয়ায় পার্শ্ববর্তী কলারোয়া, তালা ও মণিরামপুর উপজেলার বিভিন্ন অঞ্চল থেকে রোগিরা কেশবপুর হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা নিতে আসেন। যে কারণে এ হাসপাতালে রোগির চাপও অনেক বেশী। হাসপাতালে আল্ট্রাসনোগ্রাফ ও ডিজিটাল এক্সে না থাকায় রোগিরা এ সেবা থেকেও বঞ্চিত হচ্ছেন। তবে কর্তৃপক্ষ উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট চাহিদা প্রেরণ করেছেন বলে জানা গেছে।

উপজেলার কোমরপোল গ্রাম থেকে জাকির হোসেন তার শিশু সন্তানকে নিয়ে আসেন হাসপাতালে ডাক্তার দেখাতে। এক ঘণ্টা অপেক্ষা করেও ডাক্তার না পেয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। একই কথা জানালেন, ভোগতী নরেন্দ্রপুর গ্রাম থেকে চিকিৎসা সেবা নিতে আসা রূপা খাতুন। এ ব্যাপারে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাক্তার শেখ আবু শাহীন জানান, এ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কনসালটেন্টসহ ৩২ জন ডাক্তার থাকার কথা থাকলেও ইউনিয়নসহ আছে ১৩ জন। জনবল সংকট এবং সার্জন না থাকায় অপারেশন করা হয় না। বিশেষ করে চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী স্বল্পতায় পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে গিয়ে বিপাকে পড়তে হয়। এ বিষয়ে উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।

তিনি আরও জানান, ডাক্তার স্বল্পতার ভেতরও গত বারের স্বাস্থ্য মন্ত্রীর জাতীয় পুরস্কার উপজেলা পর্যায়ে শীর্ষ ৫ এর দ্বিতীয় স্থান ধরে রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মিজানূর রহমান জানান,  ছয় হাজার নতুন ডাক্তার নিয়োগের প্রক্রিয়া সম্পন্নের পথে। এই নিয়োগ সম্পন্ন হলে এ উপজেলার ডাক্তারের সংকট কমে যাবে।

You May Also Like