মণিরামপুরে লেখাপড়া করতে চাওয়ায় স্ত্রীকে এসিডে ঝলসে দেওয়া স্বামী আটক

কেশবপুর নিউজ ডেস্ক ||

দীর্ঘ প্রায় ৯ মাস বিভিন্ন সময় ছদ্মবেশ ধারন করে পালিয়ে থেকেও শেষ রক্ষা হয়নি কামরুজ্জামানের। চলতি বছরের ২৪ জানুয়ারি ভোর রাতে ঘুমন্ত স্ত্রী রাজিয়া সুলতানার মুখে এসিড মেরে ঝলসে দেয় স্বামী কামরুজ্জামান। সোমবার রাতে মণিরামপুর উপজেলার উত্তরপাড়া গ্রাম থেকে পুলিশ তাকে আটক করে।

স্বামী কামরুজ্জামানের বাঁধা উপেক্ষা করে পড়ালেখা চালিয়ে চাকরির চেষ্টা করায় ক্ষিপ্ত হয়ে এসিডে ঝলসে দেয় স্ত্রী রাজিয়ার দুই চোখ। সেই থেকে রাজিয়ার পিতা পরিবার চিকিৎসা করিয়ে আসছে। রাজিয়া ডান চোখে দেখতে পান না। বাম চোখেও ঝাঁপসা দেখেন। এখন রাজিয়ার পুরো জীবনটাই যেন ধীরে ধীরে ঝাঁপসা হয়ে আসছে। উন্নত চিকিৎসা নিতে ভারতের চেন্নাই শংকর নেত্রালয় অথবা সিঙ্গাপুরে যেতে বলেছেন চিকিৎসকরা। না হলে দুইটি চোখ অকেজো হয়ে পড়বে। কিন্তু উন্নত চিকিৎসার জন্য প্রচুর অর্থের প্রয়োজন।

কামরুজ্জামান আটকের পর এক প্রতিক্রিয়ায় এসব কথা বলতে গিয়ে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন রাজিয়া। এ সময় তিনি কামরুজ্জামানের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি করেন।

জানা যায়, বছর দশেক আগে একই উপজেলার গোবিন্দপুর গ্রামের আব্দুস সামাদের ছেলে কামরুজ্জামানের সাথে এসএসসি পাশের পর রাজিয়া সুলতানার পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। তাদের ৮ বছর বয়সী কার্জন নামের একটি পুত্র সন্তান রয়েছে। রাজিয়ার ইচ্ছা ছিল পড়া-লেখা শেষ করে নিজের পায়ে দাঁড়ানো। ভাল চাকরি করে প্রতিষ্ঠিত হতে চেয়েছিলেন তিনি। আর এ চাওয়াটাই কাল হয় রাজিয়ার।

এসএসসি’র গন্ডি পেরিয়ে পড়া- লেখা আর করেনি রাজিয়ার স্বামী কামরুজ্জামান। আর রাজিয়া সংসার সামলানোর পাশাপাশি যশোর এম এম কলেজ থেকে ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিষয়ে অনার্স-মাস্টার্স শেষ করে চাকরির চেষ্টা করছিলেন। ঘটনার কয়েকদিন আগে রাজিয়া ঢাকায় চাকরির পরীক্ষা দিয়ে বাবার বাড়িতে আসেন। স্ত্রীর ইচ্ছা শক্তির কাছে যখন পরাজিত হচ্ছিল স্বামী কামরুজ্জামান, ঠিক তখনই পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী স্বামী কামরুজ্জাান চলতি বছরের ২৪ জানুয়ারি ফজরের আযানের সময় ঘুমন্ত অবস্থায় স্ত্রী রাজিয়ার মুখে এসিড নিক্ষেপ করে পালিয়ে যায়। এরপর রাজিয়ার পরিবারের লোকজন তাকে চিকিৎসা করিয়ে আসছিলো।

এ ঘটনায় ২৪ জানুয়ারি বুধবার রাতে ভিকটিমের বড় ভাই আবু তাহের বাদী হয়ে কামরুজ্জামানকে আসামী করে মামলা দায়ের করেন। যার মামলা নং ২৪। ঘটনার পর থেকে কামরুজ্জামান পলাতক ছিলো। এসময় রাজিয়া ক্ষোভ করে বলেন, এসিডের যোগানদাতা পৌরশহরের নাঈম জুয়েলার্সসের মালিক ও কামরুজ্জামনের ভগ্নিপতি মোয়াজ্জাম হোসেনকে গ্রেফতারের দাবি জানালেও পুলিশ তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়নি বলেও তিনি অভিযোগ করেন।

থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোকাররম হোসেন জানান, ঘটনার পর থেকে কামরুজ্জামানের উপর নজর রাখা হলেও বার বার অবস্থান পরিবর্তন করায় তাকে আটক করা সম্ভব হচ্ছিল না। সোমবার রাতে উপজেলার উত্তরপাড়া গ্রামের কামরুজ্জামানের এক বন্ধুর বাড়ি থেকে আটক করা হয়।

 

You May Also Like