স্কুলছাত্রী মুক্তার মৃত্যু নাড়া দিল আলতাপোলের যুবকদের || দূর্ঘটনারোধে ঝোপ অপসারণ

আব্দুল্লাহ আল ফুয়াদ, কেশবপুর (যশোর) ॥

সড়ক দুর্ঘটনা রোধে কেশবপুরে স্বেচ্ছাশ্রমে যশোর-সাতক্ষীরা সড়কের মঙ্গলকোট বাজার থেকে কেশবপুর পর্যন্ত সড়কের দু’পাশ পরিস্কার করে ফুটপাত তৈরী করা হয়েছে। উপজেলার আলতাপোল গ্রামের চারের মাথা এলাকার একদল যুবক ও এলাকার  শিক্ষক, ব্যবসায়ী, ঈমাম, শিক্ষার্থী ও যুব সমাজ দলবদ্ধ হয়ে ১৭ কিলোমিটার সড়কের দু‘পাশের ঝোপঝাড় স্বেচ্ছাশ্রমের মাধ্যমে অপসারণ করে ফুটপাথ তৈরীর ব্যতিক্রমী উদ্যোগ গ্রহণ করে সড়ক দুর্ঘটনা এড়ানোর চেষ্টা করছেন।

যশোর-সাতক্ষীরা মহাসড়কটি দিনদিন ব্যস্ততম সড়কে পরিণত হয়েছে। এ সড়কের দু‘পাশের বাগান পরিস্কার না করায় পথচারীদের চলতে দুর্ভোগ পোহাতে হয়। বিশেষ করে এ সড়কের মঙ্গলকোট থেকে গোলাঘাটা মোড় পর্যন্ত সড়কের দু‘পাশ ঝোপঝাড়ে পরিপূর্ণ হয়ে গেছে। সম্প্রতি স্কুল পারাপারের সময় চারের মাথা এলাকার ২য় শ্রেণীর ছাত্রী মুক্তা খাতুন বাসের চাকায় পিষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই মর্মান্তিকভাবে নিহত হয়। স্কুল শিশুর করুন এই মৃত্যুর ঘটনা ওই এলাকার সচেতন মহলের বিবেককে ব্যাপকভাবে নাড়া দেয়। একথা উপলদ্ধি করে এলাকার যুবকরা সিদ্ধান্ত নেন এভাবে আর যেন কোন প্রাণ অকালে সড়কে ঝরে না যায়। এ উপলক্ষে এলাকার যুবক জিএম মিন্টু ও হাফেজ রবিউল ইসলামের নেতৃত্বে ২৫ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। “এসো করি কাজ” এ স্লোগানকে সামনে নিয়ে শনিবার থেকে স্বেচ্ছাশ্রমের মাধ্যমে ওই যুবকেরা মানুষের কল্যাণে ফুটপাত তৈরীর কাজ শুরু করে। শনিবার সরেজমিন দেখা যায় ওই যুবকেরা সকাল থেকেই একই রঙের গেঞ্জি গায়ে দিয়ে রাস্তার দু‘পাশের বাগান পরিস্কারের কাজ করছেন। তাদের এই উদ্যোগে আরও অনেক যুবক উদ্বুদ্ধ হয়ে তাদের সাথে কাজ করছে।

এই কাজের প্রধান উদ্যোক্তা চাকুরিজীবী জি এম মনিরুজ্জামান  মিন্টু কেশবপুর নিউজকে বলেন, তার এলাকার মসজিদের ঈমাম হাফেজ রবিউল ইসলাম, ব্যবসায়ী হাফিজুর রহমান, ডাক্তার বাবলা, মোস্তফা কামাল, ইউসুফ আলী টিটু, সাহিত্যিক  রুবেল, সোহেল কবীর, শিক্ষার্থী ফিরোজ হোসেন, রিজাউল হোসেন, কৃষক আব্দুস সালাম, আব্দুল মজিদ, আব্দুল আজিজসহ ২৫ জন যুবক স্বেচ্ছা শ্রমে জনস্বার্থে কাজ করছে। সপ্তাহের প্রতি শুক্রবার সকালে তারা রাস্তার দু‘পাশের বাগান পরিস্কার করে ফুটপাথ তৈরীর কাজ করবেন। প্রথম দিনে মঙ্গলকোট বাজার থেকে চারের মাথা হয়ে ২৩ মাইল পর্যন্ত তারা ফুটপতা তৈরীর কাজ করেছেন। পর্যায়ক্রমে তারা কেশবপুর বাজার পর্যন্ত কাজ করবেন। অপর উদ্যোক্তা রেজাউল ইসলাম বলেন, শুধু রাস্তার দু‘পাশ পরিষ্কার নয় মঙ্গলকোট বাজার থেকে কেশবপুর পর্যন্ত সড়কের দু‘পাশের যে সমস্ত গাছ মরে গিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় দাঁড়িয়ে আছে সেগুলোও অপসারণে তারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে অভিযোগ করবেন। এছাড়া এলাকার বাল্য বিবাহ, জঙ্গীবাদ, মাদক মুক্ত সমাজসহ রক্তদান কেন্দ্র করারও পরিকল্পনা রয়েছে তাদের। পর্যায়ক্রমে তারা উপজেলা ব্যাপী একাজ করবেন বলে জানান।

সংশ্লিষ্ট ইউপি সদস্য  গৌতম কুমার রায় বলেন, ওই যুবকেরা খুব ভালো উদ্যোগ নিয়েছে। আমি যতদূর সম্ভব তাদের সহযোগিতা করব।

You May Also Like