পাঁচ গুণী ব্যক্তিকে সন্মাননা দিলো যশোর শিল্পকলা একাডেমি

আব্দুর রহিম রানা, যশোর ||

সংস্কৃতিতে বিশেষ অবদান রাখায় যশোরে পাঁচ গুনী ব্যক্তিকে সন্মাননা দিয়েছে জেলা শিল্পকলা একাডেমি। শুক্রবার সন্ধ্যায় শহরের মুন্শি মেহেরুল্লাহ ময়দানের রওশন আলী মঞ্চে এসব গুনী ব্যক্তিদের সন্মাননা দেওয়া হয়। উত্তোরীয় ও মেডেল পরিয়ে ফুল দিয়ে তাদের প্রতি সন্মান জানানো হয়। পাশাপাশি তাদের হাতে ১০ হাজার টাকার চেক ও সন্মাননা সনদ তুলে দেওয়া হয়েছে। এ সময় মঞ্চে সন্মাননা প্রাপ্তরা তাদের অনুভুতি ব্যক্ত করেন। এবছর যশোর শিল্পকলা একাডেমির সন্মাননা পেয়েছেন যশোর সরকারি মাইকেল মধুসূদন কলেজের সাবেক উপাধ্যক্ষ অশোকা দত্ত, যাত্রাশিল্পী হরেন্দ্রনাথ বিশ্বাস, কবি ও সাংবাদিক ফখরে আলম, নাট্য শিল্পী দিলীপ কুমার সাহা ও আলোকচিত্রী বিমল সরকার। সন্মাননা অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন যশোরের জেলা প্রশাসক আব্দুল আওয়াল। এতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন জেলা শিল্পকলা একাডেমির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মাহামুদ হাসান বুলু। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের কেন্দ্রীয় সদস্য অধ্যাপক সুকুমার দাস, সুরধুনীর সভাপতি হারুন অর রশিদ, বিবর্তন যশোরের সভাপতি সানোয়ার আলম খান দুলু, উদীচী যশোরের সহ-সভাপতি মাহাবুবুর রহমান মজনু, যশোর সাংবাদিক ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি সাজ্জাদ গণি খান রিমন, শেকড়ের সাধারণ সম্পাদক রওশন আরা রাসু, চঞ্চর সরকার প্রমুখ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন আবৃত্তি শিল্পী কামরুল হাসান রিপন। সন্মাননা প্রদান শেষে রওশন আলী মঞ্চে পরিবেশিত হয় গঙ্গাপুত্র ভীষ্ম।

শিল্পকলা একাডেমি সন্মাননা ২০১৮ প্রাপ্তদের সংক্ষিপ্ত জীবনবৃতান্ত :

অশোকা দত্ত : রবীন্দ্র সংগীতে নিবেদিত শিল্পী অশোকা দত্ত ১৯৫৩ সালের পয়লা জানুয়ারি খুলনার ডুমুরিয়ার নরনীয়া গ্রামে জন্মগ্রহন করেন। তার মা শোভা দত্ত ভালো গান গাইতেন। বাড়িতে মায়ের কাছ থেকেই তার সংগীত শেখার সূচনা। কলেজে পড়ার সময় সংগীতের উপর প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা নেন। কর্মজীবনে তিনি দেশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকতা করেছেন তিনি। যশোর সরকারি মাইকেল মধুসূদন কলেজ থেকে উপাধ্যক্ষ হিসেবে অবসরে যান। বর্তমানে তিনি বাংলাদেশ বেতার ও টেলিভিশনের ক শ্রেণিভুক্ত একজর রবীন্দ্র সংগীত শিল্পী।

হরেন্দ্রনাথ বিশ্বাস: ১৯৪৪ সালের ৫ই জানুয়ারি যশোরের মনিরামপুরের মনোহরপুর গ্রামে জন্মগ্রহন করেন। তার বাবা পঞ্চনন বিশ্বাস ছিলেন এ অঞ্চলের একজন সেরা যাত্রাশিল্পী। বাবার মতন তিনিও ১৯৬৪ সালে পেশাদার শিল্পী হিসেবে জয়লক্ষী অপেরায় যোগ দেন। এরপর বিভিন্ন খ্যাতনামা যাত্রাদলে অভিনয় করে অনেক সুনাম কুড়িয়েছেন।

ফখরে আলম: ১৯৬১ সালের ২১ জুন যশোওে জন্মগ্রহন করেন। ১৯৮৩ সালে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে হিসাব বিজ্ঞানে স্নাতোকত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ছাত্র জীবনেই সাংবাদিকতার সাথে যুক্ত হন তিনি। কাজ করেছেন সাপ্তাহিক রোববার, দৈনিক আজকের কাগজসহ বিভিন্ন স্বনামধন্য পত্রিকায়। বর্তমানে দৈনিক কালের কন্ঠ প্রত্রিকায় বিশেষ প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত আছেন। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ে, কৃষি বিষয়ে অনেক সেরা প্রতিবেদন লিখেছেন তিনি। একুশের বই মেলায় তার লেখা অনেক গল্প ও কবিতার বেরিয়েছে। সাংবাদিকতায় পেয়েছেন মোনাজাত উদ্দীন, এফবিএবিসহ নানা পুরস্কার।

দিলীপ কুমার সাহা: মুক্তিযুদ্ধে পাক বাহিনীর হাতে শহীদ নারায়ন চন্দ্র সাহার ছেলে দিলীপ যশোরের নাট্যাঙ্গনে খুবই পরিচিত মুখ। নাট্যাভিনয়ের পাশাপাশি নাট্য নির্দেশনাও দিয়েছেন। ১৯৬৬ সালে ডায়মন্ড ক্লাবে থিয়েটার নাটকে প্রথম অভিনয় করেন দুষ্টু বালকের চরিত্রে। এরপর বহু নাটকে অভিনয় করেছেন নির্দেশনা দিয়েছেন।

বিমল সরকার: ১৯৬৩ সালের পয়লা সেপ্টেমবর বরিশালের দোয়ানী কাচারিতে জন্ম নেন। বাল্যকালে বাবাকে হারান বিমল। ফলে অল্প বয়সেই তাকে নেমে পরতে হয় জীবন যুদ্ধে। স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে স্টুডিওতে ফটোগ্রাফির কাজ শেখা শুরু করেন। বিভিন্ন স্টুডিওতে কাজ করার এক পর্যায়ে প্রয়াত ক্রীড়া সাংবাদিক জীবন বোসের হাত ধরে সাংবাদিকতায় যুক্ত হন। ২০১৩ সাল পর্যন্ত টানা ত্রিশ বছর কাজ করেছেন। বর্তমানে যশোর থেকে প্রকাশিত দৈনিক প্রতিদিনের কথায় কর্মরত রয়েছেন।

You May Also Like