সাবেক মন্ত্রী ও বিএনপি নেতা তরিকুল ইসলাম আর নেই

কেশবপুর নিউজ ডেস্ক ||

বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ, সাবেক মন্ত্রী ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য তরিকুল ইসলাম (৭২) ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহি…. রাজেউন)। তিনি দীর্ঘদিন ধরে কিডনিসহ অন্যান্য শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন। ৪ নভেম্বর, রবিবার বিকেলে রাজধানীর অ্যাপোলো হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।

এর আগে তরিকুল ইসলামের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে গত ১০ অক্টোবর পুরান ঢাকার আজগর আলী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে তার অবস্থার আরও অবনতি ঘটলে ১২ অক্টোবর অ্যাপোলো হাসপাতালের করোনারি কেয়ার ইউনিটে (সিসিইউ) ভর্তি করা হয়। সেখানেই চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি।

তরিকুল ইসলাম বিএনপির প্রতিষ্ঠাকালীন আহ্বায়ক কমিটির অন্যতম সদস্য। দলের বিভিন্ন পর্যায়ে কাজ করেছেন তিনি। চার দলীয় জোট সরকারের সময় তথ্য এবং পরিবেশ ও বনমন্ত্রীর দায়িত্ব পান তিনি।

১৯৪৬ সালের ১৬ নভেম্বর যশোরে জন্ম হয় তরিকুল ইসলামের। যশোর এমএম কলেজের শিক্ষার্থী থাকাকালে কলেজের শহিদ মিনার জরাজীর্ণ হওয়ায় ১৯৬২ সালে সহপাঠীদের শহিদ মিনার তৈরি করে পাকিস্তান সামরিক সরকারের রোষানলে পড়ে গ্রেফতারও হন। কারাগারে কমিউনিস্ট পার্টির নেতাদের সঙ্গে পরিচয়। সেই সূত্রে দীক্ষা বাম রাজনীতিতে। ১৯৬৩-৬৪ শিক্ষাবর্ষে ছাত্র ইউনিয়নের প্রার্থী হিসেবে যশোর এমএম কলেজ ছাত্র সংসদের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। ১৯৬৮ সালে আইয়ুববিরোধী আন্দোলনের জন্য রাজবন্দী হিসেবে যশোর ও রাজশাহীতে কারাভোগ করেন ৯ মাস। ১৯৬৯ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে গণ-আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়ায় গ্রেফতার হন তিনি।

১৯৭০ সালে মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টিতে যোগ দেন তরিকুল। মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয় অংশগ্রহণ করেন। ন্যাপ থেকে জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক দল (জাগদল), পরে বিএনপিতে যোগ দেন বরেণ্য এ রাজনীতিক। জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে বিএনপির ৭৬ সদস্যের প্রথম আহ্বায়ক কমিটির অন্যতম সদস্য তরিকুল ইসলাম। সেই সঙ্গে বিএনপির যশোর জেলা আহ্বায়কের দায়িত্ব পান। ১৯৮০ সালে জাতীয়তাবাদী দলের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন তিনি। পরে পর্যায়ক্রমে তিনি দলের যুগ্ম মহাসচিব, ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব, ভাইস চেয়ারম্যান ও ২০০৯ সালে অনুষ্ঠিত দলের পঞ্চম জাতীয় কাউন্সিলে স্থায়ী কমিটির সদস্য পদ পান।

You May Also Like