শিক্ষকতার কষ্টার্জিত টাকায় দলীয় ফরম কিনেছেন আ’লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী রুহুল আমীন

আব্দুল্লাহ আল ফুয়াদ ॥ 

যশোর-৬ কেশবপুর আসন থেকে আওয়ামীলীগের মনোনয়ন ফরম কিনেছেন উপজেলা আওয়ামীলীগের টানা ২২ বছর সভাপতির দায়িত্ব পালনকারী শিক্ষাবিদ এস এম রুহুল আমীন। গতকাল শনিবার দুপুরে ধানমন্ডির দলীয় কার্যালয় থেকে মনোনয়ন ফরম কিনে পরে পূরণ করে কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক আব্দুস সোবহান গোলাপের কাছে জমা দেন।

দলীয় মনোনয়ন ফরম জমা দেওয়ার পরে এস এম রুহুল আমীন বলেন, বিগত ২২ বছর সভাপতির দায়িত্ব পালন কালে দল থেকে এমপি হয়ে অনেকেই মন্ত্রী, হুইপ হয়েছেন। নিজের মনোনয়নের জন্য বা এমপি-মন্ত্রী হওয়ার লোভ লালসা নিয়ে জীবনে কখনো লবিং করতে ঢাকায় আসিনি। ৩৫ বছরের রাজনীতিক জীবনে দলের জন্য ছাড়া কখনো নিজের জন্য একটা ব্যানার-পোস্টার টাঙায়নি। সারাজীবন মোটরসাইকেল চড়েই এলাকায় মানুষের জন্য রাজনীতি করে আসছি। নিজের উপজেলা শহরে বা দেশের অন্য কোন শহরে আমার এক টুকরো জমি কিংবা ফ্ল্যাট নেই। তবে সারা জীবন যাদেরকে নিয়ে রাজনীতি, সেই সাধারণ ভোটার, দলীয় নেতাকর্মীদের জন্য এলাকার উন্নয়নে নিজের অবদানের বাসনা নিয়ে জননেত্রী শেখ হাসিনার মনোনয়ন জরীপে শতভাগ আস্থা রেখেই জীবনের শেষপ্রান্তে এসে দলের মনোনয়ন ফরম কিনে জমা দিয়েছি।

এক প্রশ্নের উত্তরে শিক্ষাবিদ এস এম রুহুল আমীন বলেন, সকল জরিপ আর নেত্রীর ইচ্ছা থাকলে আমি মনোনয়ন পাবো সেই মনোবল নিয়েই শিক্ষকতার কষ্টার্জিত ৩০ হাজার টাকা দিয়ে মনোনয়ন ফরম কিনেছি। ইতোপূর্বে নিজের আয়-রোজগার হিসেবে শিক্ষকতার বেতনকে গুরুত্ব দেওয়ার কারণেই সুযোগ আসলেও চাকরি ছেড়ে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ভোট করার মতো সদিচ্ছা দেখায়নি। রাজনৈতিক জীবনে স্থানীয়ভাবে কখনো কখনো সুবিধাভোগি আর অরাজনৈতিক মানুষের হাতে ক্ষমতা গিয়ে দলীয় অভ্যন্তরীণ গ্রুপিংয়ের শিকার হয়ে বহু বঞ্চনার শিকার হয়েছি। তবে মারপিট কিংবা হাঙ্গামায় যাইনি, কোন নির্বাচনে দলের সিদ্ধান্তের বাইরে যাইনি, বাকি জীবনে যাওয়ার প্রশ্নই ওঠে না। একাদশ সংসদ নির্বাচনে আমি না পেলেও নেত্রী যাকে মনোনয়ন দিবেন তার পক্ষেই মাঠে থাকব।

তিনি আরও বলেন, এক সময়কার মৌলবাদী এলাকা হিসেবে চিহ্নিত জামায়াত-বিএনপির অধ্যুষিত যশোরের কেশবপুরে আওয়ামীলীগের নাম উচ্চারণ করাটাও দূরহ ছিলো। তবে সেই সময় এস এম রুহুল আমীন সুফলাকাটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি বঙ্গবন্ধুর আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে জড়িয়ে পড়েন আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে। ব্যক্তিগত জীবনে চল্লিশ বছর শিক্ষকতার পাশাপাশি উপজেলা আওয়ামীলীগের কার্যনির্বাহী কমিটিতে দায়িত্ব পালন করেছেন। তবে ১৯৯৬ সালে সভাপতি হিসেবে হাল ধরেন উপজেলা আওয়ামীলীগের। সেই থেকে আজ অবদি  টানা ২২ বছর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে যথাযথ ভাবে দায়িত্ব পালনের চেষ্টা করে আসছেন। একইসাথে ১৯৯২ সাল থেকে টানা ১৯ বছর উপজেলা মাধ্যমিক ও নিন্মমাধ্যমিক শিক্ষক-কর্মচারী সমিতির সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন। সুদীর্ঘ প্রায় দুই যুগ ধরে উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চল উপজেলা সদর হতে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দূরবর্তী দশকাহুনিয়া গ্রাম থেকে এসে নেতাকর্মীদের সুখে-দুঃখে পাশে থেকে দলকে সংগঠিত করেছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে,  উপজেলা আওয়ামীলীগের টানা ২২ বছরের সভাপতি এস এম রুহুল আমিনের সুযোগ্য নেতৃত্বের কারণে ১৯৯৬ সালের ১২ জুনে সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচন, ২০০১ সালের ১লা অক্টোবর অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচন, ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং সর্বশেষ ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত দশম জাতীয় নির্বাচনে শেখ হাসিনা মনোনীত নৌকা প্রতীকের প্রার্থীরা এই আসন থেকে নির্বাচিত হয়েছেন। ওই সব নির্বাচনে তার বলিষ্ঠ নেতৃত্বে উপজেলা আওয়ামীলীগ সর্বোচ্চ অবদান রেখেছেন। এছাড়াও এ সময়কালে উপজেলা পরিষদ নির্বাচন, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীর পক্ষে ভোট করেছেন। নিজের আয়-রোজগার হিসেবে শিক্ষকতার বেতনকে গুরুত্ব দেওয়ার কারণে চাকরি ছেড়ে ভোট করার মতো সদিচ্ছা কখনো দেখাননি তিনি।

You May Also Like