ব্রি-৬০ ধান চাষে ঝুঁকছে কেশবপুরের চাষীরা

আব্দুল্লাহ আল ফুয়াদ ॥

কেশবপুর বোরো চাষে সাড়া ফেলেছে ব্রি-৬০ ধান চাষে। এ জাতের ধান চাষে রোগবালাই এবং ব্লাস্টের আক্রমণের প্রতিরোধ ক্ষমতা অনেক বেশি। সার ও কীটনাশক কম লাগে। যে কারণে একদিকে উৎপাদন খরচ যেমন কম, অন্যদিকে ফলন অনেক বেশি।  ব্রি-৬০ ধান ঘরে তুলতে ১শ’৪৫ দিন সময় লাগে। এ জাতের ধানে বিঘা প্রতি ফলন হচ্ছে ৩৩ মণ। যা পতি কাঠায় আসছে দুই’মণ। এ কারণে ব্রি-৬০ জাতের ধান চাষে ঝুঁকছেন চাষীরা।

কেশবপুরে বোরো মৌসমে ১৬ হাজার আটশ’ ৮০হেক্টর চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। এ জাতের ধানের ফলন সরকারি মতে প্রতি হেক্টরে সাত হাজার তিনশ’ থেকে আট হাজার পাঁচশ’ কেজি ধান উৎপাদন হয়। এ মৌসুমে ব্রি-৬০, ব্রি-৬৩, ব্রি-৫৮, ব্রি-৮১, ব্রি-৬২ ধান বেশি চাষের জন্যে বীজ সংগ্রহ করছে চাষী। অন্যদিকে কেশবপুরে ব্রি-২৮ ধানে গতবছর ব্লাস্টের আক্রমনে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। এ কারণে ব্রি-২৮ জাতের ধান চাষাবাদ কমে গেছে। এ উপজেলায় অন্যান্য বছর প্রচুর ব্রি-২৮ ধান চাষাবাদ হতো। কেশবপুর কৃষি অফিসার প্রদীপ কুমার সাহা এসব কথা জানান।

কেশবপুর ঘাঘা গ্রামের চাষী মশিয়ার রহমান জানান, তিনি গত বছর ব্রি-৬০ ধান চাষাবাদ করেছিলেন। এ ধান চাষাবাদে করে কাঠায় দু’মণ করে ফসল পেয়েছিলেন। তাছাড়া এ ধান দেখতে ব্রি-২৮ ধানের মতো চিকন। এবং খেতে ব্রি-২৮ জাতের ধান থেকে অনেক সু-স্বাধু ।

বায়সা গ্রামের চাষী আজিজুর রহমান জানান, ব্রি-৬০ ধানে ব্লাস্ট লাগে না। এর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা অনেক বেশি। সার কম লাগে। আবার কাঠায় ফলন দু’মণ করে পেয়েছিলাম। এ ধান চাষাবাদ অত্যান্ত লাভ। এ কারণে এ ধান আবারও চাষাবাদের জন্যে ব্রি-৬০ ধান বীজ সংগ্রহ করেছেন তিনি।

কেশবপুর উপজেলার লক্ষ্মীনাথকাটি গ্রামের কৃষক মোজাম্মেল হোসেন বলেন, গত দেড় বিঘা জমিতে ব্রি-৬০ জাতের ধান চাষ করেছিলেন। ১শ’৪০ দিনের মাথায় ফসল ঘরে তুলেছিলেন তিনি। বিঘাপ্রতি ফলন হয়েছিল তার ৩৪ মণ। উৎপাদন খরচও অনেক কম হয়েছিল তার।

একটি বেসরকারি কোম্পানির কর্মকর্তা আতিয়ার রহমান বলেন, বোরো মৌসুমে নভেম্বর মাসের শেষ সপ্তাহ হতে ডিসেম্বর মাসের শেষ সপ্তাহ পর্যন্ত ৩০-৩৫ দিন বয়সের চারা রোপন করলে ব্রি-৬০ ধান  ভালো ফলন দেয়। এ ধানের ফলন কাঠা প্রতি প্রায় দু’মণ হওয়ায় কৃষকের আগ্রহ বেড়েছে।

কেশবপুর কৃষি অফিসার প্রদীপ কুমার সাহা জানান, ব্রি-৬০ ধানের ফলন অনেক বেশি। কিন্তু এ ধান সম্পর্কে তেমন জানতো না চাষী। যার কারণে এ জাতের ধানের চাষ কেশবপুর কম ছিল। আস্তে কৃষক সচেতন হচ্ছে। এবং কোন জাতের ধানে  ফলন অনেক বেশি এবং রোগ ব্যাধী কম তা যাচায় বাছায় করে কৃষক চাষাবাদ করছেন। তাছাড়া কৃষকের চাষাবাদের ক্ষেত্রে সার্বিক ভাবে সহাযোগিতা করছেন তারা।

You May Also Like