সান্তাক্লজ কি এবং কেন?

জেমস্ আব্দুর রহিম রানা।। 
সান্তাক্লজ বলতেই আমরা আম আদমি ছোট্টো থেকেই এক থুত্থুড়ে বুড়ো সাদা দাড়িওলা হেব্বি মোটুসোটু হাসিখুশি দাদুকে দেখতে পাই, যার মাথায় ইয়াব্বড় টুকটুকে লাল টুপি, পিঠে ইয়াব্বড় গিফট ভর্তি বস্তা।একদম ছোট্টবেলায় খুব শান্ত মেয়ে ছিলাম তো, তাই পাড়াতে অচেনা কাগজ কুড়ানি বা অন্য কারো পিঠে ওরকম বস্তা দেখলেই মা ভয় দেখাতো ছেলেধরা ঝোলায় পুরে নিয়ে যাবে। কিন্তু কি আশ্চর্য, কোনোদিন সান্তাবুড়োর ঝোলা দেখিয়ে কিন্তু ওরকম কিচ্ছু বলেনি। পরে বড় হয়ে ভেবেছি,  ছোটদের জন্যে নিরাপদ আর আনন্দের বস্তা নিয়ে শুধু একজনই আসেন বছর বছর।  ছোটরা বড় হয়ে যায়, আর সান্তার ঝোলার গিফট এক জেনারেশান থেকে আর এক জেনারেশানে ট্র্যান্সফার হয়ে যায়।
যেটা বলছিলাম, সান্তাদাদুর বস্তার রংটাও লাল। গায়ে লাল জোব্বা। শুধু জুতোটা চামড়ার। এরকমআ’লালে’র ঘরের দু’লাল‘ মানুষটির বাড়ি নর্থ পোলে। অত্ত দূর থেকে আমাদের কাছে এসে পৌঁছাতে বাবুটির ভরসা শুধু স্লেজ গাড়িখানা। সেটিকে টানে ৮খানা রেন-ডিয়ার, যাদের আবার নাকটাও টুকটুকে লাল(বোধহয় ঠাণ্ডাতে)।
‘বুড়ো দাদু যায়, লাল জামা গায়ে’।
যদিও দরজার বদলে কোনো বাড়িতে এই ভদ্রলোক চিমনি দিয়ে ঢুকতেই বেশি পছন্দ করেন।
সান্তাক্লজকে কোনো কোনো দেশে Father Christmasও বলে। যে সন্ন্যাসীটিকে ঘিরে এই মিথ গড়ে উঠেছে, তাঁর নাম ছিলো সেন্ট নিকোলাস। চতুর্থ শতাব্দীতে এশিয়া মাইনরের টার্কিতে তাঁর বাস ছিলো। কম বয়সেই বাবা মা আকাশের তারা হয়ে যেতে তিনি দুনিয়াতে একা ছিলেন। বাবা মা যথেষ্ট টাকা রেখে যাবার জন্য নিকোলাস আর্থিকভাবে যথেষ্ট ধনী ছিলেন। কিন্তু ভগবানের এক রেয়ার সৃষ্টি হবার কারণে নিকোলাসের ভেতরে দরিদ্রদের সাহায্য করার মনটিও ছিলো। কোনো নাম বা প্রচারের তোয়াক্কা না করেই তিনি দরিদ্রদের অজান্তেই তাঁদের দান করতেন।
ডাচ ভাষায় ওনাকে ডাকা হতো Sint Nikolas অথবা Sinterklaas। সেখান থেকেই ডাচ পাবলিকের হাত ধরে এই হাসিখুশি দয়ালু মানুষটির আমেরিকায় আগমন। শুধু আমেরিকান জিভের জড়তায় Sinterklaas এভিডেভিট হয়ে হয়েছে সান্তাক্লজ।
এই গিফট দেবার দিনটিকে ডিসেম্বরের ২৪ তারিখে এনে ফেলেছে আমেরিকানরা। এখনো হল্যান্ড সহ অনেক দেশে ডিসেম্বরের ৬তারিখকে সান্তাদিবস পালন করা হয়, কারণ সেই দিনটিই ছিলো সেন্ট নিকোলাসের মৃত্যুদিন।
1823-এ Clement Moore-এর লেখা ‘A visit from St. Nicholas’ কবিতাটি থেকেই আমাদের বর্তমান সময়ের সান্তাদাদুর প্রচলন হয়েছে বলে অনেকের ধারণা। ওনার বাচ্চাদের জন্য লেখা এই কবিতাটি পরে সাধারণ মানুষদের জন্যেও ছাপা হয় এবং সেখানে Thomas Nast-এর আঁকা Santa Claus-এর ছবিটিও সংযুক্ত করা হয়।
এই সান্তাক্লজ পৃথিবীতে প্রচলিত বিভিন্ন আলাদা ট্রাডিশান, যেমন- খ্রিস্টান ও প্যাগান সভ্যতা, ওল্ড গ্যাথলিক সভ্যতা, স্ক্যানডিনেভিয়ান, ডাচ, জার্মান, ইংরেজ ইত্যাদি বহু সভ্যতার যোগসূত্র।
সান্তাক্লজ প্রতিবছর এসে শুধু একটাই কথা মনে করিয়ে যান,-
“সকলের তরে সকলে আমরা,
প্রত্যেকে আমরা পরের তরে”।

You May Also Like