কেশবপুরে লেপ তোশক তৈরিতে ব্যস্ত ধুনকাররা

আব্দুল্লাহ আল ফুয়াদ॥

শীত যতই সামনে এগিয়ে আসছে, শীত নিবারণের জন্য মানুষ নতুন পুরাতন কাপড় কেনার জন্য দোকানগুলোতে ভিড় করছেন। সেই সঙ্গে কারিগররা লোপ-তোশক তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। কেশবপুর শহর ও গ্রামাঞ্চলের বাজারে লেপ-তোশক তৈরির কারখানাগুলোতে কাজে যেন দম ফেলার ফুরসত নেই।

দেখা গেছে, কারিগররা তুলার স্তুপ করে তার ওপর ধনুক দিয়ে আঘাত করে চলছেন। পুরোপুরি প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হলে সেই তুলো ঢোকানো হতে থাকে রঙ-বেরঙের কাপড়ের তৈরি লেপ-তোশকের কভারে। এরপর শুরু হয় সুই-সুতোর কাজ। কভার ও ভেতরে ঢোকানো তুলা ভেদ করে খসখস শব্দ তুলে চলতে থাকে সুই। সুই-সুতার গাঁথুনিতে বাঁধা পড়ে যায় সেই কভার তুলা। এতেই তৈরির হয়ে যায় এক একটি লেপ-তোশক। কেশবপুর শহরসহ উপজেলার পাঁজিয়া, গৌরিঘোনা,  সুফলাকাটি, সাতবাড়িয়া, মঙ্গলকোট, বিদ্যানন্দকাটি, ত্রিমোহিনী বাজারসহ বেশ কিছু দোকানের মালিক ও কারিগররা অর্ডার অনুযায়ী লেপ-তোশক তৈরিতে ভিশন ব্যস্ত। পাশাপাশি লেপ-তোশক মেরামত করতে হচ্ছে তাদের। সারা বছরের ব্যবসা শীতের কয়েক মাসে পুষিয়ে নিতে যেন মরিয়া তারা।

লেপ-তোশক প্রস্ততকারী বিভিন্ন দোকান ঘুরে দেখা গেছে, মালিক-শ্রমিক, ধুনকাররা এখন লেপ-তোশক তৈরি ও  সেলাইয়ের কাজে  ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। ধুনকার, ব্যবসায়ীরা জানায়, ভালো মুনাফা এবং বেশি বিক্রির আশায় দিন-রাত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। ক্রেতারাও লেপ-তোশক তৈরির জন্য ভিড় করছেন। ব্যবসায়ীরা জানান, শীতের তীব্রতা বাড়লে লেপ-তোশক তৈরি ও বিক্রি হয় বেশি। কেশবপুর শহরসহ ১১ টি ইউনিয়নে  প্রায় শতাধিক  লেপ-তোশকের দোকান রয়েছে। অনেকে পুরাতন লেপ তোশক ভেঙে নতুনভাবে বানিয়ে নিচ্ছেন । আবার কেউ নতুন তুলা দিয়ে নতুন ভাবে তৈরি করাচ্ছেন লেপ তোশক।  শহরের মহসীন বেডিং এ লেপ তৈরি করতে আসা পৌর শহরের ভোগতি এলাকার বাসিন্দা আবুল কালাম আজাদ বলেন, শীত আসলেই লেপ তোশকের দোকানে ভীড় লেগেই থাকে। তবে এ বছর লেপ তোশকের যে দাম, তাতে গরীব , ছিন্নমূল মানুষের লেপ তোশক বানানো কষ্টকর হয়ে পড়বে।

লেপ-তোশক বানানো কারিগর মহসীন আলী বলেন, গত বছরের চেয়ে এ বছর লেপ তোশক বানাতে খরচ একটু বেশী হলেও গ্রাহক সংখ্যা অনেক। শীত এখনো জেকে না বসলেও অনেকে আগে ভাগে শীতের জন্য লেপ তোশক বানাতে আসছেন। তিনি বলেন, আমাদের সারা বছর অনেকটা অলস সময় পার করতে হয়। শুধু এই দুই তিন মাস আমাদের একটু ব্যাস্ত থাকতে হয়। তিনি আরো বলেন, সাধারণত তিন ধরনের পদ্ধতিতে তারা লেপ তৈরি করে থাকেন। কার্পাস তুলার লেপ, গার্মেন্ট কালার তুলার লেপ ও গার্মেন্ট নরমাল তুলার লেপ। একটি উন্নত মানের কভারসহ লেপ তৈরির মূল্য ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৮০০ টাকা। মাঝারী মানের লেপ তৈরিতে খরচ পড়বে ৭০০ থেকে ৯০০ টাকা। পাইকারি ও খুচরাভাবেও লেপ তোশক বিক্রি হয়। একটি বড় সাইজের লেপ তৈরি করতে চার থেকে ছয় ঘণ্টা সময় লাগে। লেপ তৈরি ছাড়াও জাজিম, তোশক, বালিশ তৈরি করেন এই কারিগররা।

এদিকে শীত মৌসুমের শুরুতেই উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম্য পরিবারের গৃহবধূরা কাঁথা সেলাই শুরু করছেন। অনেক পরিবারই কাঁথা সেলাইয়ের মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করে থাকেন। গৃহবধূ আছিয়া খাতুন বলেন, শহরের অনেক মধ্যবিত্ত পরিবার শীত মৌসুম আসার সঙ্গে সঙ্গেই তাদের কাছে কাঁথা সেলাই করে দেয়ার জন্য কাপড় সরবরাহ করেন। নকশা ভেদে এক একটি কাঁথা সেলাই করতে মজুরি বাবদ দেয়া হয়  এক হাজার থেকে দুই হাজার টাকা। সাংসারিক ঝামেলা থাকলেও তার মতো অনেক গৃহবধূ কাজের ফাঁকে ফাঁকে এভাবে প্রতি বছর ১০ থেকে ১৫ টি কাঁথা সেলাই করে নগদ আয় করছেন।

You May Also Like