যশোরের মনিরামপুরে আলোচিত ভূতের বাড়ির সন্ধান লাভ

আব্দুর রহিম রানা ||
কাল্পনিক কোন গল্প নয় রীতিমত বাস্তব। যশোরের মনিরামপুর উপজেলার পৌর শহরের বিজয়রামপুর শেষ পেয়ারাতলা নামক স্থানে মনিরামপুরের সাবেক সাংসদ মুফতি মাওলানা মুহম্মদ ওয়াক্কাস এর বাড়ির সামনে যশোর সাতক্ষীরা মেইন সড়কের পাশে এ ভূতের বাড়ির সন্ধান পাওয়া গেছে। যশোর টু সাতক্ষীরা মেইন সড়কের পেয়ারা তলা ইসলাম বিক্সসের সাথে রাস্তার পশ্চিম পাশে একটু ফাঁকা আধা পাকা টিনের চাল আর পাকা ইটের তৈরী বাড়িটিই এখন সকলের কাছে ভূতের বাড়ি বলে বহুল আলোচিত।
প্রায় ১৫/২০ বছর পূর্বে স্থানীয় এক বাসিন্দা প্রথমেই বাড়িটি তৈরি করে বসবাস শুরু করেন। তার কিছু দিন পর ঐ বাড়িটির পূর্ব পাশের বারান্দা সংলগ্ন জায়গায় গ্রিল দিয়ে দোকান চালু করেন। যেখানে এলাকার সাধারণ মানুষসহ মেইন রাস্তা দিয়ে পথচারী অনেকেই ঐ দোকানে কেনা বেচা করত। কিন্তু সেসময়ে ঐ বাড়ি কাম মুদি দোকানের বিশেষ আলোচিত যে বিষয়টি ছিল, তা হল “এখানে সকল প্রকার মালামাল বিক্রয় করা হতো একদরে “।
কোন সংগঠিত জনবহুল এরিয়া ছাড়া বাড়িতে এমন ধরনের দোকান আবার দামের বিষয়ে নিদির্ষ্টতা সম্পন্ন সাইনবোর্ড সবার কাছে কৌতূহলের সৃষ্টি করে। আর এ কৌতূহল সৃষ্টির পেছনে সবচেয়ে বড় কারণ হল, সামান্য পাশেই পেয়ারাতলা বাজার। আর এমন বাড়িতে এইরকম একটি দোকান সত্যিই মানুষের মনে বেশ হাসির খোরাক জুগিয়েছিল।
মনিরামপুর পৌরশহরের দক্ষিণ অঞ্চলের শেষ প্রান্তের পেয়ারাতলা নামক স্থানের স্থানীয় বাসিন্দা আঃ রহমান আলোচিত এ ভূতের বাড়ির প্রকৃত মালিক।
দীর্ঘদিন বিদেশে থাকা অবস্থায় বাড়িটি নির্মাণ জনৈক আঃ রহমান। গোপন সূত্রে জানা যায়, আঃ রহমান বিদেশে থাকা অবস্থায় অ্যালকোহলের প্রতি আসক্ত হয়ে পড়েন। সেই কারণে বাড়িতে অবস্থান করা কালীন ও সেই নেশাতে আসক্ত থাকেন। দিন দিন সে মাত্রা বাড়তে থাকেন।
জানা যায়, ঐ সময় থেকেই নির্মাণ কৃত বাড়িতে বসবাস করা অবস্থায় গভীর রাতে কে বা কারা ভীতি সঞ্চারমূলক বিভিন্ন রকমের শব্দ সৃষ্টি করতে থাকে।
প্রথম দিকে বিষয়টি ভাল গুরুত্ব না দিলেও আস্তে আস্তে এ ধরনের কর্মকান্ড বাড়তে থাকে। হঠাৎ একদিন গভীর রাতে বাড়ির মালিক আঃ রহমান গলায় ফাঁস দিয়ে রুমের মধ্যে আত্মহত্যা করেন। পরিবারের সদস্যদের মধ্যে ভীতি আরও বাড়তে থাকে।
এ যেন রুপ কথা কাহিনীকেও হার মানাবে। বাড়ির মালিক আঃ রহমান আত্মহত্যা করলেও গভীর রাতে ঘরের মধ্যে অদ্ভূত সে শব্দ দিন দিন বাড়তে থাকে। অবশেষে পরিবারের অন্য সদস্যরা বাড়ি ত্যাগ করার মানসিকতা গ্রহণ করেন। বিভিন্ন এলাকার নাম করা কবিরাজ ও হুজুরের কাছ থেকে
দোয়া, তাবিজের পরও বাড়িতে এ ধরনের ভীতিকর পরিস্থিতি থেকে মুক্তি মেলেনি ঐ ভূতের বাড়ির মালিক পক্ষের। কিছুদিন পর বাড়ির প্রকৃত মালিক আঃ রহমানের উত্তরসূরিরা এ বাড়িটি অন্যের কাছে ভাড়া দিয়ে দেন। কিন্তু অবস্থা আরও বেগতিক হয়ে যায়। গভীর রাতে বাড়িরদরজায় এসে কে বা কারা কড়া নাড়ানাড়ি, উচ্চ স্বরে ভীতিকর আওয়াজ, বিভিন্ন ধরনের উৎপাতমূলক কর্মকাণ্ড চলতে থাকে। যার ফলে ঐ ভাড়াটিয়া ও অবশেষে বাড়ি
ত্যাগ করেন।
তবে এ বাড়িতে এ ধরনের ভীতিকর পরিস্থিতি নিয়ে এলাকার মানুষের মধ্যে তেমন কোন উৎসাহ, উৎবেগ,উৎকণ্ঠা দেখা যায়নি। এমনকি এ ভূতের বাড়ির মালিক পক্ষের কারও সাথেই শত চেষ্টার পরও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

You May Also Like