কেশবপুরে জরাজীর্ণ ঘরে চলছে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা কার্যক্রম

আব্দুল্লাহ আল ফুয়াদ, কেশবপুর ॥

কেশবপুরে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ৬৩ টি প্রাক-প্রাথমিক স্কুলের শিশু শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। চারিপাশে বাঁশের চটার বেড়া, উপরে টিনের ছাউনি। মেঝেতে পাটের চট বিছানো। ভাঙাচোরা ব্লাক বোর্ড। মাটির মেঝেতে শীতের সকালে এমনই ঘরে চলছে পাঠদান। কর্তৃপক্ষের অবহেলার পরও শিক্ষিকারা ঝরে পড়া রোধে শিক্ষার্থীদের পাঠদান করে প্রাথমিক স্কুলে পড়ার সুযোগ সৃষ্টিতে ভূমিকা রেখে চলেছেন।

জানা গেছে, ইসলাম প্রচার ও প্রসারের লক্ষ্যে বাংলাদেশের মহান স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭৫ সালের ২২ মার্চ এক অধ্যাদেশ বলে ইসলামিক ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠা করেন। মসজিদ ভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রম প্রকল্প ইসলামিক ফাউন্ডেশনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি বৃহৎ প্রকল্প। শিক্ষা বিস্তারের কাজে মসজিদের ইমামদের সম্পৃক্ত করার লক্ষ্যে সরকার ১৯৯৩ সালে মসজিদ ভিত্তিক শিক্ষা কার্যক্রমের আওতায় প্রাক-প্রাথমিক ও ঝরে পড়া কিশোর-কিশোরী এবং অক্ষরজ্ঞানহীন বয়স্কদের জন্য মসজিদ ভিত্তিক শিক্ষা কর্যক্রম শুরু করে। পরবর্তীতে প্রকল্পের সফল বাস্তবায়ন দেশের আপামর জনসাধারণকে নাড়া দেয়ায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নজরে আসলে তার প্রত্যক্ষ হস্তক্ষেপে প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হয়ে আসছে। সারা দেশের ন্যায় কেশবপুরেও এ প্রকল্পের আওতায় প্রাক-প্রাথমিক, সহজ কোরআন শিক্ষা, বয়স্ক শিক্ষা কার্যক্রম বাস্তবায়িত হচ্ছে। কিন্তু কর্তৃপক্ষের অবহেলার কারণে চাহিদামত শিক্ষা উপকরণ সরবরাহ না করায় শিক্ষার্থীদের পাঠদান চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে। সোমবার সরেজমিনে এ প্রকল্পের কয়েকটি প্রাক-প্রাথমিক স্কুল পরিদর্শণকালে এ চিত্র ফুটে ওঠে।

উপজেলার আটন্ডা গ্রামের সোলাইমান হোসেনের বাড়িতে শিক্ষিকা রহিমা খাতুন প্রাক-প্রাথমিক স্কুলে শিশু শিক্ষার্থীদের পাঠদান করাচ্ছেন। এ প্রকল্প বাস্তবায়নে তিনি নিজের তৈরী ঘরে শিক্ষার্থীদের সকাল ৮টা থেকে সাড়ে ১০টা পর্যন্ত পাঠদান করান। ঘরটি টিনের ছাউনী হলেও মেঝে মাটির। চারিপাশে বাঁশের চটার বেড়া। তিনি এর ওপর চট বিছায়ে শীতের সকালে শিক্ষার্থীদের পাঠদান করাচ্ছেন। তিনি আরবী, বাংলা, অংক ও  ইংরেজী বিষয়ে পাঠদান করান। তার প্রচেষ্টায় এ কেন্দ্রে চাহিদার চেয়ে অতিরিক্ত শিক্ষার্থী পড়াশুনা করে থাকে। শিক্ষার্থী লাবিবা সুলতানা ঐশী, মরিয়াম খাতুন, তারিন জামান জেবা, আব্দুল আওয়ালসহ অধিকাংশ শিক্ষার্থী শীতে জড়োসড়ো হয়ে বসে আছে। একটি ব্লাক বোর্ড থাকলেও তা জ্বরাজীর্ণ। এরপরও ওই শিক্ষিকা শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। শুধু ওই স্কুল নয় উপজেলার অধিকাংশ স্কুলের এ বেহাল দশা।

এ ব্যাপারে ইসলামিক ফাউন্ডেশন কেশবপুর উপজেলা শাখার সুপারভাইজার আশিকুর রহমান বলেন, এ উপজেলায় ৬৩টি প্রাক-প্রাথমিক স্কুল, ৮৮টি সহজ কোরআন শিক্ষা ও একটি বয়স্ক শিক্ষা কেন্দ্র চালু রয়েছে। প্রাক-প্রাথমিকে সাড়ে ৪ বছর থেকে সাড়ে ৫ বছরের বাচ্চারা লেখাপড়া করে থাকে। ব্লাক বোর্ড নষ্টের কথা তিনি স্বীকার করে বলেন, গত ডিসেম্বর মাসে প্রতিটি স্কুলের চাহিদাপত্র নিয়ে ঊধ্বর্তন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রেরণ করা হয়েছে। খুব তাড়াতাড়িই এসব সমস্যার সমাধান হবে।

You May Also Like