যশোরে ঠাণ্ডায় শিশু রোগী বাড়ছে || দুই দিনে সেবা নিয়েছে আড়াইশ’

আব্দুর রহিম রানা, যশোর ||

যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে রোববার বিকাল ৪টা বহিঃবিভাগে শিশু রোগীর ভিড়। ঠাণ্ডাজনিত রোগে অধিকাংশ রোগীরা এসেছে বলে রোগীর স্বজনরা জানিয়েছেন। চিকিৎসকের চেম্বারের সামনে বসা আনোয়ারা খাতুন জানান, ঠান্ডাজনিত কারণে তার আড়াই বছরের ছেলে অসুস্থ্য। তিনি আরও জানিয়েছেন, ৪/৫ দিন ধরে জ্বর, বমি, ও ঠান্ড কাশিতে আক্রান্ত হওয়ায় স্থানীয়ভাবে চিকিৎসায় ফল না পেয়ে হাসপাতালে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের কাছে এসেছি। শুধু আনোয়ারা বেগম না; তার মত শুকুর আলী, আছিয়া বেগম, আঞ্জুআরাসহ একাধিক শিশুর অভিভাবক একই কারণ বর্ণনা করলেন।’

এদিকে হাসপাতালের পরিসংখ্যানে দেখা গেছে অন্তঃবিভাগ ও বহিঃবিভাগ মিলে শনি এবং রোববার বিকাল চারটা পর্যন্ত মোট ২৪৯ জন শিশু ঠান্ডা জনিত রোগে হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা নিয়েছে। এর মধ্যে শিশু ওয়ার্ডে ৬৯ শিশু, ডায়রিয়া ওয়ার্ডে ৩৬ শিশু এবং বহিঃবিভাগ থেকে ১৪৪জন শিশু চিকিৎসা নিয়েছে।

শিশু ওয়ার্ডের সেবিকা রিনা সুলতানা জানিয়েছেন, আবহাওয়া জনিত কারণে শিশুরা ঠান্ডা জনিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। তবে আক্রান্তদের মধ্যে বয়স্ক রোগীও রয়েছেন। এ সময় রোগীর চাপে সেবা দিতে হিমসিম খেতে হয়। ফলে অন্যান্য সময়ের তুলনায় এ সময় ওয়ার্ডে সেবিকা সংখ্যা বাড়ালে সেবা দিতে সুবিধা হয়।

শিশু ওয়ার্ডের চিকিৎসক মাহাবুবুর রহমান জানিয়েছেন, ‘হিমেল হাওয়ার, রাতে ঘন কুয়াশা এবং রাতে তাপমাত্রা কমে আসায় সকালে শীতের তীব্রতা বাড়ছে। এছাড়া গত কয়েকদিন ধরে মাঝারি শৈত্য প্রবাহর কারণে শীতজনিত নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে শিশুরা। শহরের অভিভাবক সচেতন হওয়ার ফলে তাদের শিশুরা সুস্থ্য আছেন। কিন্তু গ্রামের অভিভাবকরা একটু সচেতন হলে তাদের শিশুদের শীতজনিত রোগ থেকে মুক্ত রাখতে পারবেন।

শিশুরোগ চিকিৎসক আব্দুস সামাদ জানিয়েছেন, ‘শীতের প্রকোপে বেশির ভাগ শিশুরা সর্দি, কাশি, ডায়রিয়া ও নিউমোনিয়াসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। আক্রান্তদের বেশির ভাগ বহিঃবিভাগ থেকে চিকিৎসা নিয়ে বাসায় ফিরে যাচ্ছেন। কিন্তু গ্রামে অভিভাবকরা সচেতন না হওয়ার কারণে তাদের শিশুরা খুব খারাপ অবস্থায় হাসপাতালে আসছে। ফলে তাদেরকে ভর্তি হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। তিনি আরও জানিয়েছেন, শিশুদের পাশাপাশি বয়স্করাও শীতজনিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছে।

হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আবুল কালাম আজাদ লিটু জানিয়েছেন, প্রচন্ড শীত মানুষের শরীরে নাড়া দিয়েছে। ফলে শীত জনিত রোগে কোন বয়সের মানুষেই ঝুঁকিমুক্ত নন। তবে চিন্তার কোন কারণ নেই। চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র অনুযায়ী ওষুধ সেবন করলে এবং নিয়ম মেনে চললে রোগী দ্রুত সুস্থ্য হয়ে উঠবে।

You May Also Like