কেশবপুরে কম দামে ঔষধ বিক্রয় সংক্রান্ত ঘটনা ক্রমশ সংঘর্ষের দিকে মোড় নিচ্ছে

কেশবপুর নিউজ ডেস্ক ||

কেশবপুরে কর্মরত রেনেটা কোম্পানীর প্রতিনিধি প্রদীপ কুমার এক চায়ের দোকানীর কাছে কম দামে ঔষধ বিক্রি করার ঘটনা ক্রমশ: সংঘর্ঘের দিকে মোড় নিচ্ছে। এ ঘটনায় কেশবপুরের বিসিডিএস এর নামধারী সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক তৃতীয় পক্ষ কেশবপুর হাসপাতাল গেটের খান মেডিসিনকে অবরোধ করেছেন। প্রতিবাদে হাসপাতাল গেট ঔষধ সমিতি ঘটনার সুষ্ঠু সমাধান এবং খান মেডিসিনের উপর অনির্দিষ্টকালের অনৈতিকভাবে চাপিয়ে দেয়া অবরোধ তুলে নেয়ার দাবিতে ২৩ জানুয়ারি কেশবপুরে কমর্রত সকল ঔষধ কোম্পানীর প্রতিনিধিদের সাথে লেনদেন ও ডাক্তার ভিজিট বন্ধ রাখার অনুরোধ করে পাল্টা কর্মসূচি পালন করছে।

কোম্পানীর প্রতিনিধি ও কর্মকর্তাগন ২৩ জানুয়ারি হাসপাতাল গেট ঔষধ সমিতির আহবায়কের সাথে মতবিনিময় করে ঘটনার সমাধানে চেষ্টা করছেন। অথচ কতিপয় কোম্পানীর স্থানীয় প্রতিনিধি সমাধান না করে ঘটনাটি সংঘর্ষের দিকে নিয়ে যাচ্ছে বলে ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেছেন। এমন কি তারা রক্তক্ষয়ী হামলারও পরিকল্পনা করছে! দীর্ঘ ১০ দিন অতিবাহিত হলেও সমিতি খান মেডিসিনের অবরোধ তুলে না দেয়ায় ব্যবসায়ীদের মধ্যে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে।

বিসিডিএস এর কেশবপুর উপজেলা কমিটির সভাপতি আলহাজ ডা. আনোয়ার হোসেন ও সাধারন সম্পাদক স্বাক্ষরিত এক নোটিশে রেনেটা কোম্পানীর প্রতিনিধি প্রদীপ কুমারকে লাঞ্চিত করা ও সকল কোম্পানীর প্রতিনিধিদের অভিযোগের প্রেক্ষিতে হাসপাতাল গেটের খান মেডিসিনকে অনির্দিষ্টকালের জন্য অবরোধ জারি করা হয়েছে। দীর্ঘ ৮দিন পার হলেও সমিতি ওই ফার্মেসীর অবরোধ তুলে না দেয়ায় ২৩ জানুয়ারি কেশবপুর হাসপাতাল গেট ঔষধ সমিতি ঘটনার সুষ্ঠু সমাধানের জন্য সকল ঔষধ কোম্পানীর সাথে ব্যবসায়িক লেনদেন বন্ধ করে দেয়।

ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা জানান, বিসিডিএস এর যশোর শাখার মনোনীত কেশবপুরের প্রতিনিধি দলের ডা. আনোয়ার হোসেন, শংকর কুমার পাল ও ইখতিয়ার হোসেনই সকল কিছু নিয়ন্ত্রণ করে। তারা সকল ব্যবসায়ীর ভাগ্যদাতার ভূমিকা পালন করে। সাধারন ব্যবসায়ীরা তাদের ভয়ে মুখ খুলতে পারে না। বিসিডিএস এর নিয়ম অনুযায়ী কেশবপুরে কোন কমিটি হয় না।

চায়ের দোকানী বাদশাহ জানান, তার এক আত্নীয়ের জন্য হাসপাতাল গেটের সোহান ফার্মেসি থেকে ঔষধ নেন। ওই ঔষধটি রেনেটা কোম্পানীর হওয়ায় তিনি ওই কোম্পানীর প্রতিনিধি প্রদীপের কাছে ঔষধটির দাম জানতে তিনি ফার্মেসির চেয়ে অনেক কম দামের কথা জানান। এরপর চা দোকানী বাদশাহ সোহান ফার্মেসীর বাবুর সাথে কথা কাটাকাটি করতে থাকে। এ সময় পাশের খান মেডিসিনের মালিক আব্দুল মোমিন খান তাদের থামাতে গেলে প্রদীপের সাথে মোমিনের বাকবিতন্ডা হয় বলে মোমিন খান জানান। এ ঘটনা প্রদীপ সমিতির কাছে নালিশ করলে খান মেডিসিনকে অবরোধ করা হয়। ১৫ জানুয়ারি থেকে আজ পর্যন্ত খান মেডিসিনে অবরোধ চলছে।

এ ব্যাপরে হাসপাতাল গেট ঔষধ সমিতির সভাপতি কবির হোসেন জানান, বিসিডিএস এর মনোনীত সভাপতি ও সাধারন সম্পাদক নিয়ম বহিঃভূতভাবে খান মেডিসিনের অবরোধ করেছেন। এর আগেও তারা ব্যক্তি আক্রোশে রাবেয়া ফার্মেসী ও রুমী ফার্মেসীকে অবরোধ করেছিলেন। কেশবপুরের সকলে বিসিডিএস এর সদস্য। কিন্তু কতিপয় ব্যক্তি হীনস্বার্থে বিসিডিএস এর সুনাম ক্ষুন্ন করছে। তাদের হাত থেকে রক্ষা পেতে আমরা সকল ব্যবসায়ীরা খুব তাড়াতাড়ি তাদের বিরুদ্ধে সমিতির উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে লিখিত অভিযোগ করবো।

You May Also Like