যশোরের মণিরামপুরে ভুয়া এনজিও’র প্রতারণা || ৬০ লাখ টাকা নিয়ে উধাও

আব্দুর রহিম রানা ||

হাজারে ২শ’ টাকা কমিশনের টোপ দিয়ে মুদি ব্যবসায়ীসহ ৩ শতাধিক অসহায়-দরিদ্র গৃহবধূর কাছ থেকে প্রায় ৬০ লক্ষ টাকা নিয়ে লাপাত্তা হয়েছে সামী ডিরেক্ট নামের এক ভুয়া এনজিও। প্রায় মাস খানেক আগে যশোরের মণিরামপুরের পৌরশহরের নির্জন এলাকায় ঘরভাড়া নিয়ে ওই এনজিও’র এক নারীসহ ৫ প্রতারক অর্থ হাতিয়ে পালিয়েছেন। এ ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্থ এক মুদি ব্যবসায়ী থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন বলে জানা গেছে।

এদিকে ক্ষতিগ্রস্থ গৃহবধূর অনেকেই স্বামীকে না জানিয়ে ওই এনজিও’তে অর্থ লগ্নি করে। পরে প্রতারিত হওয়ার বিষয়টি জানাজানি হলে ক্ষতিগ্রস্থ গৃহবধূর অনেকের পরিবারে অশান্তি বিরাজ করছে।

জানাযায়, প্রায় মাসখানেক পূর্বে পৌর এলাকার গাংড়া মোড় নামক স্থানে আসে এক নারীসহ ৫ জন অপরিচিত ব্যক্তি জনৈক হাশেম আলীর ঘর ৫ হাজার টাকায় ভাড়া নিয়ে সাইন বোর্ড বিহীন সামী ডিরেক্ট নামে এনজিওর অফিস খোলে। স্থানীয়দের ম্যানেজ করতে গাংড়া মোড়ের আবু তালেব মিস্ত্রির স্ত্রী রেশমা বেগমকে এনজিও’তে চাকুরি দিয়ে হাত করে নেয় বলে অভিযোগ। ওই চক্রের সদস্যরা স্থানীয় রেশমা বেগমকে সামনে রেখে এনজিও’তে অর্থ বিনিয়োগ করে চাল, চিনি, তেল, ডাল ও সাবানসহ ৭০/৭৫ রকমের মালামাল ব্যবসার জন্য গাংড়া গ্রামসহ উপজেলার বিভিন্ন অঞ্চলের প্রায় ৩ শতাধিক নারীকে ম্যানেজ করতে সক্ষম হয়। এরপর স্থানীয় রেশমা বেগমের উপর বিশ্বাস করে অসহায়-দরিদ্র পরিবারের গৃহবধুরা সর্বোচ্চ এক লক্ষ ও সর্বনিম্ন ৭ হাজার করে টাকা দেয় ওই চক্রের হাতে।

গাংড়া এলাকার শফিকুলের স্ত্রী মরিয়ম, কাশেমের স্ত্রী রেশমা, তরিকুলের স্ত্রী তাসলিসমা, আমিরুলের স্ত্রী ডলি, ভ্যান চালক রিপনের স্ত্রী সনিয়া, হামিদের স্ত্রী শাহিদা, হাসানের স্ত্রী রহিমা এবং সিদ্দিকের স্ত্রী পারুল খাতুনসহ একাধিক ক্ষতিগ্রস্থ নারী বলেন, ওই এনজিও কর্মকর্তারা তাদেরকে এক লাখ টাকা বিনিয়োগের বিনিময়ে ২০ হাজার টাকা কমিশন অর্থাৎ প্রতি হাজারে ২’শ টাকা কমিশন দেয়ার কথা বলে গ্রামের এসব সহজ-সরল দরিদ্র নারীদের আকৃষ্ট করা হয়। ক্ষতিগ্রস্থদের অভিযোগ তাদের কাছ থেকে অর্থ হাতানো হলেও বিপরিতে কোন রশিদ দেয়া হয়নি। ওই চক্রটি গত মাসের ২৯ জানুয়ারি অফিস গুটিয়ে পালিয়েছে বলে তারা জানান।

পৌর শহরের মালিক দুলাল ঘোষ নামের মুদি ব্যবসায়ী জানান, ওই চক্রের সদস্যরা প্রথম পর্যায় তাদের মুদি দোকানে নগদ লেনদেন করেছে। তাদের নেয়া এক দিনের মালামালের মূল্যে হতো প্রায় ৩ লক্ষ টাকা। এভাবে মাসের শেষ সপ্তাহে মালামাল বাকিতে নেয়ায় তাদের কাছে প্রায় ৩ লক্ষ ৫৮ হাজার ৩’শ ২৭ টাকা পেতে যান। এদিকে ওই চক্রের গতিবিধি সন্দেহজনক হওয়ায় হাশেম আলী তার বাড়ি থেকে নামিয়ে দেয়ার পর পাশ্ববর্তী ব্যাংকার কামরুজ্জামানের বাড়ি ভাড়া নিয়ে অফিস চালু করার প্রস্তুতি নেয় তারা। একই সাথে ওই চক্রের সদস্যরা গাংড়া গ্রামের মাস্টার আলমগীর হোসেনের বাড়ি ভাড়া নিয়ে থেকেছে।

জানতে চাইলে মাস্টার আলমগীর হোসেন বলেন, আবু তালেব মিস্ত্রি ও তার স্ত্রী রেশমা বেগম ভাড়াটিয়াদের আত্মীয় বলায় বাসা ভাড়া দেয়া হয়েছিলো।

You May Also Like