আম, কাঁঠাল ও লিচুর মুকুলের গন্ধে মুখরিত কেশবপুর

আব্দুল্লাহ আল ফুয়াদ ॥

“ফাগুনের ছোঁয়ায়, পলাশ-শিমুলের বনে লেগেছে আগুন, রাঙ্গা ফুলের মেলা”। শীতের জড়তা কাটিয়ে কোকিলের সেই সু-মধুর কুহুতানে মাতাল করতে আবারও ফিরে এলো প্রকৃতির বুকে ঋতুরাজ বসন্ত। ফুলের সমারোহে বাংলা সেজেছে বর্ণিল সাজে। তেমনি নতুন সাজে যেন সেজেছে কেশবপুর উপজেলার আম, কাঁঠাল ও লিচু গাছগুলো। আমের মুকুলে ভরপুর আর গন্ধে মুখরিত এ উপজেলার একটি পৌরসভারসহ ১১ টি ইউনিয়ন। মুকুলে মুকুলে ভরে গেছে গাছগুলো। প্রায় ৮০ শতাংশ গাছেই এসেছে মুকুল।

বাগান মালিক ও আম চাষীরা আশা করছেন বড় ধরনের কোনো প্রাকৃতিক দূর্যোগ না হলে এবং আবহাওয়া অনুকুলে থাকলে আমের বাম্পার ফলন হবে। সাথে লিচু গাছ গুলোতেও দেখা মিলছে মুকুলের কুঁড়ির। কাঁঠালের ইঁচড়ও যেন উকি দিয়ে দেখতে চাইছে নতুন পাতার খোলস ভেদ করে। প্রকৃতির এ মনোমুগ্ধকর পরিবর্তনই যেন জানান দিচ্ছে মধুমাস আসতে আর বাকি নাই।

আম দুধ দিয়ে এ অঞ্চলের মেয়ে জামাইকে আদর করে খাওয়ানো হয়ে থাকে। শুধু মেয়ে জামাইকে নয় বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অথিতিকে অন্যান্য ফলের চেয়ে আম ও কাঁঠাল খাওয়ার ধুম পড়ে যায় পল্লী অঞ্চলের বাড়ীতে। তাই আম ও কাঁঠালের প্রতি এ অঞ্চলের মানুষের গুরুত্ব অনেক বেশি। এ উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ঘুরে জানা যায়, অন্যান্য ফলের চেয়ে আম ও কাঁঠাল ফলটি এখানে অনেক সু স্বাদু ফল হিসাবে বিখ্যাত। এ উপজেলায় বাণিজ্যিকভাবে আমের চাষ করা হলেও কাঁঠাল ও লিচুর চাষ করা হয় না । এ অঞ্চলের বিভিন্ন জাতের আম পাওয়া যায় তাদের মধ্যে হিমসাগর, ল্যাংড়া, ফজলি, আম্রাপালি, ভুতোবোম্বাই, লতা আম উল্লেখযোগ্য। আম ফলটি খাওয়া ছাড়াও এটি বাণিজ্যিক ভাবে হাট-বাজারে বিক্রি করে সংসারের স্বচ্ছলতা ফিরিয়ে এনেছেন অনেকেই। তাই ভাল ফলন পাওয়ার জন্য আম চাষী ও বাগান মালিকরা বাগানের পরিচর্যা করে আসছেন শুরু থেকেই । যাতে করে গাছে মুকুল বা গুটি বাঁধার সময় কোন সমস্যা সৃষ্টি না হয়।

সাগরদাঁড়ি গ্রামের আমচাষী আতাউর রহমানের সাথে কথা হলে তিনি জানান, আমার এক একর বাগানে প্রায় দেড় শতাধিক আম গাছ আছে । এবার সব গুলোরই প্রচুর ফুল দেখা দিয়েছে । নিয়মিত যত্ন পরিচর্যা করছি। আবহাওয়া অনুকুলে থাকলে আশা রাখি ভাল ফলন পাব।

গড়ভাংগা গ্রামের আম চাষী দিপঙ্কর মন্ডল ও সাত্তার মোড়ল  জানান, আমাদের আম বাগানে  ২০ জাতের প্রায় ৪০ টি আমগাছ আছে সবগুলো গাছের মুকুল বেশি দেখা যাচ্ছে। কোন ধরনের প্রাকৃতিক দূর্যোগ না হলে আমের ভাল ফলন হবে আর যাতে মুকুল ঝরে না যায় সে জন্য ছত্রানাশক ঔষধ দেয়ারও চিন্তা করছেন। ছত্রাক থেকে আমের মুকুল রক্ষা পেলে আমের বাম্পার ফলন হবে বলে আশা করছেন তারা।

উপজেলা কৃষি অফিসার মহাদেব চন্দ্র সানা জানান, এ বছর উপজেলার ৫৩৮ হেক্টর জমিতে ৬ হাজার কৃষক বাণিজ্যিকভাবে আমের চাষ করছেন। গতবারের চেয়ে এ বছর আমের মুকুল বেশি ধরেছে। আমের মুকুল না ঝরার জন্য ছত্রাকনাশক ঔষক প্রয়োগ করার জন্য পরামর্শ দেয়া হচ্ছে । এ ছাড়াও কৃষকদেরকে উপজেলা কৃষি অফিসের মাধ্যমে বিভিন্ন প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে।

  তিনি আশা করছেন কোন ধরণের প্রাকৃতিক দূর্যোগ না হলে আম চাষিরা এবছর লাভের মুখ দেখবেন।

You May Also Like