প্রার্থনা

– আব্দুর রহিম রানা

এক শুভ লগ্ন
সন্ধ্যার আধারে নিমগ্ন খোলা আকাশ
বৈদ্যুতিক আলোয় আলোকিত শহর
অপেক্ষমান সমগ্র উপাসনালয়।

বাতাসে এখনো তরঙ্গায়িত হচ্ছে…
আযানের সুমধুর ধ্বনি প্রতিধ্বনি।
মুসল্লিরা ছুটে গেছে মসজিদে। অতঃপর
একসাথে দাড়িয়ে সগৌরবে, সাত সাতটি মন্দির।
দুই একজন ভক্তের ভিড়
বাজছে ঘন্টা, সুসজ্জিত ভোগের থালা।
জ্বলছে প্রদীপ বাতাসের ধাক্কায় নিবু নিবু শিখা।
গোছানো পরিপাটি ছিলো সব, সব কিছুই।
অশান্ত অগোছালো ছিলো শুধু মানুষের মন।
কি যে যন্ত্রনা ছিলো তাতে, কি ব্যাথা ভারে?
দেখিনু অন্তর চক্ষু মেলে দিয়ে তাতে।
আমি নাস্তিক নই, প্রশ্ন সৃষ্টিকর্তার তরে
শান্তি কি দিতে পারে উপাসনালয়ে?
দেখেছি জনশূণ্য এক গির্জা, এক পথিক।
মা মরিয়মের চোখে চোখ রেখে তাকিয়ে
বুঝিনি সে হিন্দু বৌদ্ধ মুসলিম নাকি খ্রীষ্টান।
এ জগত সংসার শুধুই পার্থক্যের বেড়াজাল।
আরও ছিলো প্রার্থনায় দুটো প্রাণ।
একজন স্বাকারে ঈশ্বরের পদতলে
আরেকজন নিরাকারে ঈশ্বরের কাছে চোখ বুজে।
কি এমন প্রার্থনা ছিলো একসাথে
সময়কে সাক্ষি রেখে একে অন্যকে ভেদে।

অজানাই থেকে গেলো, থাক সব শব্দ কণা ইথারে।
আমি নাস্তিক নই, আমার সৃষ্টিকর্তা আছে।
আমি ঈশ্বরের সৃষ্টির অংশ, এক মানব রূপে।
যদি বলি মানুষের মাঝেই আছে সব
মসজিদ মন্দির গির্জা আর প্যাগোডা।

যদি প্রদীপ জ্বালাতে হয় তবে জ্বালাও
জ্বালাও একসাথে আপন হৃদয়ের মাঝে
সকল মিথ্যে লোভ হিংসে বিভেদ ভূলে
দেখো লক্ষ কোটি আলোকবর্তিকা জ্বলবে এক সাথে।

বইবে সবুজের শান্তি, ভালোবাসা ভাসবে বাতাসে।
যে যার মত নেবে প্রাণ ভরে।
মর্ত্য স্বর্গ হবে, মন্দির মানুষের হৃদয়ে।
মানুষ দেবতা হবে, মনের মন্দিরে নিরাকারে।
দেবতারা চলে যাবে স্বর্গবাসে।

প্রার্থনা আমার এমনি ছিলো
উপাসনালয়ের পূণ্যভূমিতে দাঁড়িয়ে।
নিরাকার সৃষ্টিকর্তা আমার, তাঁরই দরবারে।।

You May Also Like