কেশবপুরে অধ্যক্ষকে মারপিটের ঘটনায় স্ত্রীর সংবাদ সম্মেলন

কেশবপুর নিউজ ডেস্ক ||

কেশবপুরের ত্রিমোহিনী মাদ্রাসার সুপারের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে শিক্ষক নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগে সুপারকে শারীরিকভাবে লাঞ্চিত করার ঘটনার বিরুদ্ধে শনিবার কেশবপুর প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেছেন আহত অধ্যক্ষের স্ত্রী ফাতেমা খাতুন।

এ ঘটনায় কেশবপুর থানায় ইউপি চেয়ারম্যানসহ  ৪ জনকে আসামি করে মামলা হয়েছে। মামলায় সামছুর রহমান নামে এক আসামিকে আটক করেছে পুলিশ।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে অধ্যক্ষের স্ত্রী ফাতেমা খাতুন উল্লেখ করেন যে, তার স্বামী মোহাম্মদ আব্দুল গফুর কেশবপুর উপজেলার ত্রিমোহিনী দারুল ইসলাম ফাযিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। মাদ্রাসায় শিক্ষক নিয়োগের যথাযথ প্রক্রিয়া সম্পন্ন শেষে গত ১৯/০১/২০১৭ ইং তারিখে নিয়োগকৃত শিক্ষকরা যোগদান করেন। এ নিয়োগের পর থেকে ত্রিমোহিনী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আনিসুর রহমান, সিরাজুল ইসলাম, মুজিবুর রহমান, সামছুর রহমান, মেম্বার আবুল কাশেম মোড়ল, সিরাজুল ইসলাম গং বিভিন্ন সময়ে নিয়োগের ৭ লাখ টাকা চাঁদা হিসেবে দাবি করে আসছিলো। এ টাকা না দেয়ার কারণে গত ২৪/০২/২০১৯ ইং তারিখে অধ্যক্ষকে ইউপি চেয়ারম্যান লাঞ্ছিত করা সহ নিয়োগকৃত শিক্ষক ও প্রতিষ্ঠানের সভাপতি আব্দুল কাদির বিশ্বাসকে মারপিট করে। এ ঘটনার পর থেকে অধ্যক্ষ  ওই চেয়ারম্যানের ভয়ে পালিয়ে মাদ্রাসায় যাতায়াত করে আসছিলেন। গত ১২ মার্চ সকাল ৯ টার দিকে মাদ্রাসায় যাওয়ার পথে মির্জানগর হাম্মামখানার সামনে পৌঁছালে ইউপি চেয়ারম্যান আনিসুর রহমান, সিরাজ, মুজিবর, ও শামসু তাকে ধরে নিয়ে স্থানীয় তজিবরের বাড়ির রান্না ঘরের মধ্যে উলাঙ্গ ল্যাংটা করে দঁড়ি দিয়ে বেঁধে মধ্যযুগীয় নির্যাতন চালায়  এবং গুরুতর আহতাবস্থায় ফেলে রেখে যায়। পরবর্তীতে তিনি এলাকাবাসির সহায়তায় কেশবপুর হাসপাতালে ভর্তি হন। এ ঘটনায় ১৪ মার্চ থানায় আসামিদের নামে মামলা হয়েছে, যার নম্বর- ১৩। এ হামলা ও চাঁদা দাবির মামলা ভিন্নখাতে নেয়ার জন্য ওই চেয়ারম্যান বিভিন্ন পত্রিকায় মনগড়া সংবাদ প্রকাশ করিয়েছে। যার কোন সত্যতা নেই।

সংবাদ সম্মেলনে ফাতেমা খাতুন সন্ত্রাসী চাঁদাবাজ ইউপি চেয়ারম্যান ও তার সাঙ্গ পাঙ্গদের শাস্তির দাবি করেন। তিনি আরও জানান যে, ইউপি চেয়ারম্যানের নামে মামলা হলেও তিনি আটক না হওয়ায় বিভিন্নভাবে হুমকি দিয়ে চলেছেন।

তিনি একজন শিক্ষকের উপর মধ্যযুগীয় নির্যাতনের সু-বিচার দাবি করেন।

You May Also Like