কেশবপুরের হাসপাতাল সড়কের সংস্কার ও নতুন ড্রেন নির্মাণ কাজ শুরু

আব্দুল্লাহ আল ফুয়াদ ॥

কেশবপুর হাসপাতাল সড়কের সংস্কার ও পাশ দিয়ে নির্মাণ করা হচ্ছে নতুন করে বড় ড্রেন। দীর্ঘকাল ধরে ত্রিমোহিনী মোড় থেকে হাসপাতাল পর্যন্ত এক কিলোমিটার সড়কের পাশে পানি নিস্কাশনের ড্রেন ব্যবস্থা বন্ধ থাকায় জনসাধারনের চলাচলে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে প্রায় ৩৬ কোটি টাকা ব্যয়ে ত্রিমোহিনী মোড় থেকে হাসপাতাল পর্যন্ত ৯শ’ মিটার ড্রেন এবং প্রায় সাড়ে ১০ কিলোমিটার সড়কের নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করা হয়েছে। নির্মাণ কাজ উদ্বোধনের পর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মিজানূর রহমান, পৌরসভার মেয়র রফিকুল ইসলাম মোড়ল ও সড়ক বিভাগের কর্মকর্তা মামুনূর রহমান নির্মান কাজ পরিদর্শণ করেন।

সড়ক ও জনপদ বিভাগের কর্মকর্তা মামুনুর রহমান জানান, কেশবপুরের সবচেয়ে ব্যস্ততম কেশবপুর-বেতগ্রাম সড়কের সাড়ে ১০ কিলোমিটার সড়ক সংস্কার ও ত্রিমোহিনী মোড় থেকে হাসপাতাল পর্যন্ত ৯শ’ মিটার ড্রেন নির্মানের জন্য ৩৬ কোটি টাকা বরাদ্ধ করা হয়েছে। ৩ ফুট চওড়া পানি নিস্কাশনের এই ড্রেনটি ত্রিমোহিনী মোড় থেকে শুরু হয়ে হাসপাতালের পাশে বুড়িভদ্রা নদীর সাথে সংযুক্ত করা হবে। সড়ক ও ড্রেন নির্মাণ করতে সড়কের দু’পাশের প্রাচীর ও বিল্ডিং প্রয়োজন অনুযায়ী ভেঙ্গে ফেলা হবে। ইতোমধ্যে সড়কের দু’পাশের জায়গা মেপে চিহিৃত করে দেয়া হয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মিজানূর রহামান জানান, স্থানীয় সংসদ সদস্য ও সাবেক জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ইসমাত আরা সাদেকের একান্ত প্রচেষ্টায় কেশবপুর পৌরসভার ভেতরের জলাবদ্ধতা নিরসনের লক্ষ্যে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও জেলা প্রশাসকের উদ্যোগে ড্রেন নির্মাণ ও সড়কের সংস্কার কাজ দ্রুত শুরু করা সম্ভব হয়েছে। এর ফলে আশা করা হচ্ছে আগামী বছর বর্ষা মৌসুমে পৌরসভার ভেতর কোন জলাবদ্ধতা হবে না।

উল্লেখ্য, কেশবপুরের ত্রিমোহিনী মোড় হতে হাসপাতাল পর্যন্ত ব্যস্ততম এই সড়কের ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় আবহমান কাল থেকে জনসাধারন চরম দূর্ভোগ পোহাচ্ছেন। দূর্ভোগ দূর করতে ১৯৯৬ সালে স্থায়ী সমাধানের জন্য প্রয়াত সাবেক শিক্ষামন্ত্রী এ এস এইচ কে সাদেক এই সড়কের পাশ দিয়ে উন্নতমানের ড্রেনেজ ব্যবস্থা নির্মাণ করেন। রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে সেই ড্রেনের খাদ্য গুদামের নিকটে খুব অল্প জায়গার ড্রেন সড়ক সংস্কারের সময় ব্লক হয়ে যায়। সেটা সংস্কার না করে প্রতি বছরই অপরিকল্পিতভাবে এই সড়কের পাশে ভিন্নভিন্ন ভাবে ড্রেন নির্মাণ করা হয়েছে। তাতে ঠিকাদার ও প্রকল্প গ্রহণকারীদের পকেট ভারি হলেও জনসাধারনের কোন উপকারে আসেনি। উল্টো খোলা ড্রেনের মানুষ পড়ে হাত-পা ভেঙ্গে আহত হয়েছেন। সামান্য বৃষ্টি হলেও সড়কে পানি জমে যায় এবং সড়ক ভেঙ্গে নষ্ট হয়ে যায়। বর্তমানেও শহরের পানি জমে রয়েছে সড়কের দু’ধারে। একদিকে সড়কের দু’পাশে খোলা ড্রেনের পচা পানিতে পরিবেশ দূষিত হচ্ছে অন্যদিকে দুর্ঘটনা ঘটছে প্রতিনিয়ত।

এবারও পূর্বের নির্মাণ করা উন্নতমানের ড্রেনটি সংস্কার না করে নতুন করে ড্রেন নির্মাণ করা হচ্ছে। নবনির্মিত ড্রেন কতোটা সুফল দেবে তা দেখার জন্য জনগণকে অপেক্ষা করতে হবে। অনেকেই মতামত দিয়েছেন, পূর্বের নির্মিত ড্রেনটি সংস্কার করলেই এই সড়কে পানি জমা বন্ধ হবে। কারণ ওই ড্রেন নির্মাণের পর বহু বছর এই সড়কে পানি জমেনি এবং যে অংশে ওই ড্রেনটি ভাল আছে সে এলাকায় এখনো পানি জমে না।

You May Also Like