দীর্ঘ ১০ বছরেও দখলমুক্ত হয়নি কেশবপুরের শ্রীগঞ্জ নতুন ব্রিজের পাশের খাস জমি

কেশবপুর নিউজ ডেস্ক ॥

কেশবপুর পৌর শহরের শ্রীগঞ্জ নতুন  ব্রিজের পাশে  ১ নং সরকারি খাস খতিয়ানের ৩২৩ দাগের প্রায় ৭ শতক জমি উদ্ধারের দায়িত্ব কার ? প্রভাবশালী এক জনপ্রতিনিধির ছত্রছায়ায়  ওই জমির ওপর অবৈধভাবে ঘর নির্মাণ করে বসবাস করছে কয়েকটি পরিবার। সরকারি সম্পত্তি দখল ও চলাচলের রাস্তা বন্ধ করে ওই ঘর নির্মাণের শুরুতেই এলাকাবাসী জেলা প্রশাসকসহ প্রশাসনের একাধিক দপ্তরে আবেদন করেছিলেন। ওই সময় উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কামরুল আরিফ সরেজমিনে তদন্ত করে সরকারি জমিতে নির্মিত অবৈধ বসতঘর উচ্ছেদের নির্দেশ দিয়েছিলেন। কিন্তু দীর্ঘ প্রায় ৮ বছর পার হলেও সংশ্লিষ্ট প্রশাসন সরকারি জমি দখলমুক্ত করতে ব্যর্থ হয়েছেন। এ বিষয়ে এলাকাবাসীর পক্ষে পুনরায় মঙ্গলবার শফিকুল ইসলাম উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) অফিসারের নিকট লিখিত অভিযোগ করেছেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, কেশবপুর-পাঁজিয়া সড়কের নতুন ব্রীজের উত্তর পাশে হরিহর নদীর গা ঘেষে ৭৩ নং কেশবপুর মৌজার ১ নং খাস খতিয়ানের ৩২৩ দাগের প্রায় ৭ শতক  জমির উপর অবৈধভাবে পাকা ঘর নির্মাণ করে আলী আজগর ও আলী আকবর গং দীর্ঘ প্রায় ১০ বছর ধরে বসবাস করে আসছেন। তারা সরকারী জমি ও সাধারণ মানুষের চলাচলের রাস্তা বন্ধ করে বসত ঘর নির্মাণ করেছেন। এ বিষয়ে ২০০৯ সালে এলাকাবাসীরা উপজেলা সহকারী কমিশনার নিকট লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগের তদন্ত করে তৎকালীন সহকারী কমিশনার (ভূমি) কামরুল আরিফ ওই বছরের ০১ মার্চ  অবৈধ দখল উচ্ছেদ করার জন্য নির্দেশ প্রদান করেন। কিন্তু দীর্ঘ প্রায় ১০ বছরেও সরকারী ওই জমি দখলমুক্ত না হওয়ায় এলাকাবাসীর মধ্যে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে।

এলাকাবাসীরা জানান, একজন জনপ্রতিনিধির ছত্রছায়ায় থেকে তারা এই খাস জমি দখল করে বসতবাড়ি নির্মাণ করে অবৈধ কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছে। ভয়ে তাদের বিরুদ্ধে কেউ মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছে না । এলাকাবাসীরা আরো জানান, তারা মাদক ব্যবসাসহ নানাবিধ অপরাধমূলক কর্মকান্ডে জড়িত রয়েছে। তাদের কর্মকাণ্ডে বাধা দিলে বা তাদের বিরুদ্ধে কিছু বললে আলী আজগর গং ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে এলাকাবাসীকে হুমকি, মারপিটসহ বিভিন্নভাবে হয়রানি করে আসছে। তাদের অত্যাচারে আশপাশের এলাকাবাসীরা অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। তাদের বিভিন্ন কর্মকান্ডের প্রতিবাদ করায় রোববার দুপুরে পাশ্ববর্তী ডাঃ কামরুল ইসলামের নির্মানাধীন শিশু হাসপাতালের জানালার গ্লাস ভেঙ্গে দেয় তারা।

এ বিষয়ে ডাঃ কামরুল হাসান মঙ্গলবার কেশবপুর থানায় আলী আহম্মদ, সোহাগ গাজী, রাজু ও সাজুর বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করেছেন।

কেশবপুর থানার সহকারী উপপরিদর্শক মেহেদি হাসান বলেন, শিশু হাসপাতালের জানালার গ্লাস ভাঙ্গার বিষয়ে একটি অভিযোগ পেয়েছি। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়েছে তারাই গ্লাসটি ভেঙ্গেছে।

এ বিষয়ে কেশবপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এনামূল হক বলেন, সরকারি জমি দখল করে বসত ঘর নির্মানের অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

You May Also Like