যশোরে ধানক্ষেত থেকে নিখোঁজ গৃহবধূর লাশ উদ্ধার || স্বামী পলাতক

আব্দুর রহিম রানা, যশোর ||

গত রোববার (৭ এপ্রিল) রাতে নিখোঁজ হওয়া গৃহবধূ রিপা বেগমের (২২) মরদেহ মিললো পরদিন বিকেলে বিলের মধ্যে ধানক্ষেতে। তিনি যশোর সদর উপজেলার চুড়ামনকাঠি ইউনিয়নের সরদার বাগডাঙ্গা গ্রামের ইমরান সরদারের প্রথম স্ত্রী। সোমবার বিকেলে সরদার বাগডাঙ্গা বিলের ধানক্ষেতের মধ্যে থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

সাঁজিয়ালি পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ এসআই সুকুমার কুন্ডু জানিয়েছেন, সোমবার বিকেলে বিলের মধ্যে ধান ক্ষেত এলোমেলো অবস্থায় দেখে স্থানীয় লোকজনের সন্দেহ হয়। লোকজন সেখানে গিয়ে দেখেন একজন নারী উপুড় হয়ে পানির মধ্যে পড়ে আছেন। তার পরনে লাল রং এর কামিজ এবং সবুজ রং এর স্যালোয়ার রয়েছে। পরে ওই গ্রামের লোকজন সেখানে গিয়ে নিখোঁজ রিপার মরদেহ বলে সনাক্ত করেন। তার গলাই উড়না পেঁচানো ছিলো। কি কারণে তাকে হত্যা করা হলো বা কি ভাবে তিনি বিলের মধ্যে এলেন তার কোন তথ্য গ্রামবাসি পুলিশকে দিতে পারেননি।

তবে নিহতের স্বামী ইমরান সরদার ও শ্বশুর পালিয়েছে বলে তিনি জানিয়েছেন। পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে সোমবার রাতে ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে পাঠিয়েছে।

নিহতের শ্বাশুড়ি সুন্দরী বেগম জানিয়েছেন, তার ছেলে ইমরান হোসেন পেশায় একজন ট্রাক চালক। ১০ বছর আগে ইমরান হোসেন ঝিকরগাছা উপজেলার বিষেহরি গ্রামের মোশারফ হোসেনের মেয়ে রিপা বেগমকে বিয়ে করে। বিয়ের পরে দাম্পত্য জীবনে তাদের ৭ বছরের এক ছেলে আছে।
নিহতের পরিবারের অভিযোগ, ইমরান হোসেন প্রথম স্ত্রী রিপা বেগমের অনুমতি ছাড়া চারমাস আগে চুড়ামনকাটি ইউনিয়নের ইসলামপুর গ্রামে দ্বিতীয় বিয়ে করেন। দ্বিতীয় স্ত্রীর নাম রোকসানা বেগম। তিনি এক সন্তানের জননী। দ্বিতীয় বিয়ের পর থেকে তাদের সংসারে প্রায়ই অশান্তি লেগে থাকতো। সে কারনে ইমরান প্রথম স্ত্রী রিপার সাথে ভাল আচারণ করতোনা। ফলে স্বামী ইমরানসহ পরিবারের অন্যরা রিপাকে খুন করে লাশ বিলের ধান ক্ষেতে ফেলে
রাখতে পারে।

কোতয়ালি থানার ওসি অপূর্ব হাসান জানিয়েছেন, সাজিয়ালি পুলিশ ক্যাম্পের সদস্যরা সোমবার বিকেলে মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল করেছে। তবে প্রাথমিক ভাবে মনে হচ্ছে এটি হত্যাকান্ড। নিহতের স্বামীকে পাওয়া যায়নি। সে পলাতক রয়েছে। রিপা ছিল ইমরানের প্রথম স্ত্রী। তাকে আটকের জন্য পুলিশ অভিযান শুরু করেছে। সোমবার রাত পর্যন্ত নিহতের পরিবারের কেউ থানায় লিখিত অভিযোগ করেনি।

You May Also Like