কেশবপুরে উচ্ছেদ আতঙ্কে ৪ পরিবারের ১০ শিক্ষার্থীর উচ্চ শিক্ষা নিয়ে সংশয়

কেশবপুর নিউজ ডেস্ক ||

যশোরের কেশবপুর উপজেলার বিদ্যানন্দকাটি গ্রামে সৎ মায়ের একের পর এক ষড়যন্ত্রে উচ্ছেদ আতঙ্কে ৪ পরিবারের ১০ শিক্ষার্থীর উচ্চ শিক্ষা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে। এছাড়া পুলিশের গ্রেফতার আতঙ্কে বর্তমান ওই পরিবারের সদস্যরা পালিয়ে জীবনযাপন করছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ব্যাপারে হয়রানির হাত থেকে রক্ষা পেতে এলাকার চেয়ারম্যানের কাছে একটি অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়েছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, ২০১৭ সালের ২৮ মার্চ বিদ্যানন্দকাটি গ্রামের খোকন মোড়ল তাঁর নামিয় বিদ্যানন্দকাটি মৌজার হাল- ৬১৩, ৬১৪ দাগের ৮৪ শতক জমি ২৮২৩ নং দলিল মূলে ২ ছেলে আব্দুল গনি ও মঈনউদ্দীনের নামে রেজিস্ট্রি করে দেয়। সেই থেকে জমি ভোগ দখলে রেখে ২০১৮ সালের ২০ নভেম্বর ওই দু‘ছেলের নামে নামপত্তন হয়। জমি রেজিস্ট্রির কিছুদিন পর ২০১৮ সালের ৬ মে আব্দুল গনির মায়ের মৃত্যু হয়। এর কিছুদিন যেতে না যেতেই তাঁর পিতা খোকন মোড়ল সাতক্ষীরা এলাকার খুকুমনি নামের এক মেয়েকে বিবাহ করেন। এরপর থেকে চলতে থাকে ওই পরিবারে সৎ মায়ের অপশাসন। সৎ মায়ের যুক্তিমত তাঁর পিতা খোকন মোড়ল রেজিস্ট্রি করে দেয়া জমি ফেরতের জন্যে চাপ সৃষ্টি করতে থাকে দু‘ছেলের ওপর। এরই জের ধরে খোকন মোড়ল বাদি হয়ে আব্দুল গনি ও মঈনউদ্দীনের নামে থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করে। থানার সালিসে দুই ভাই ২০ শতক জমি ফেরৎ দিতে রাজি হয়। কিন্তু সম্পূর্ণ জমি ফেরৎ দিতে রাজি না হওয়ায় খোকন মোড়ল তার স্ত্রীর যুক্তিতে বাদি হয়ে যশোর যুগ্ম জজ আদালতে পর পর দুটি মামলা করেন এবং বাড়ি থেকে ৪ ছেলে ও তার পরিবারের সদস্যদের উচ্ছেদ করতে নানারকম ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়। বর্তমান খোকন মোড়ল তার ৪ ছেলেকে ওই ভিটায় থাকতে দেবে না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে। পিতার একের পর এক দায়ের করা মিথ্যা মামলায় ৪টি পরিবারের ২০ সদস্যের জীবন যাপন দূর্বিসহ হয়ে পড়েছে।

বিষয়টি নিরসনে গত ৫ এপ্রিল স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে এলাকায় এক সালিসি বৈঠক বসে। কিন্তু তাদের সৎ মা সালিস অমান্য করে আবারও ২ ছেলের নামে থানায় মিথ্যা অভিযোগ দাখিল করে। এরপর থেকে পুলিশ যখন তখন বাড়িতে হানা দিচ্ছে বলে অভিযোগ। ফলে তাদের পালিয়ে জীবন যাপন করতে হচ্ছে।

এমতাবস্থায় শান্তিপূর্ণভাবে বসবাসের আর কোন উপায় না পেয়ে অবশেষে গত ৬ এপ্রিল মঈনউদ্দীন বাদি হয়ে পিতা খোকন মোড়ল ও সৎ মা খুকুমনিকে বিবাদি করে বিদ্যানন্দকাটি ইউনিয়নের চেয়ারম্যানের কাছে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।

আব্দুল গনি অভিযোগ করে বলেন, তার পিতার মামলার কারণে ছোটভাই আবু মুছা ২ বছর আগে বাড়ি থেকে নিরুদ্দেশ হয়েছে। এসব মামলার ঘানি টানতে গিয়ে তার অনার্স পড়ুয়া ২ সন্তানসহ অন্য ভাইয়ের ৮ সন্তানের লেখাপড়া বন্ধ হবার উপক্রম হয়ে পড়েছে। এমনকি ওই মামলায় শিক্ষার্থীদেরও আসামী করা হয়েছে। বর্তমান তারা উচ্ছেদ আতঙ্কে দিনাতিপাত করছে।

খোকন মোড়ল বলেন, তিনি ওই ৮৪ শতক জমি ২ ছেলের নামে দানপত্র দলিল করে দিয়েছিলেন। তাদের কাছ থেকে জমি ফিরিয়ে নিয়ে ৪ ছেলের নামে সমহারে বন্টন করা হবে। এই জমি নিয়ে বিরোধে ছেলেরা তাকে মারপিট করতে আসছে। তাই তাদের নামে থানায় অভিযোগ করা হয়েছে।

থানার উপপরিদর্শক ফকির ফেরদৌস বলেন, তাদের গ্রেফতার করতে নয়। ঘটনার তদন্তে ওই বাড়িতে গিয়েছিলাম। বিষয়টি এলাকার চেয়ারম্যান নিরসনের উদ্যোগ নিয়েছে।   

এ ব্যাপারে বিদ্যানন্দকাটি ইউনিয়ন পবিষদের চেয়ারম্যান আমজাদ হোসেন বলেন, অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি নিরসনে আগামী শনিবার উভয় পক্ষকে নোটিস করে ডাকা হয়েছে। পুলিশি হয়রানি যাতে না হয় সে ব্যাপারেও পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।

You May Also Like