বুড়িভদ্রার চরে উচ্ছেদ আতঙ্কে ৩০ টি ভূমিহীন পরিবার

কেশবপুর নিউজ ডেস্ক ||

লিলি বেগমের ২ ছেলে মেয়ে স্কুলে পড়াশুনা করে। স্বামীর ভ্যান চালানোর যৎসামান্য আয়ে চলে তাদের ৪ জনের সংসার। বহু আগেই হারিয়েছেন বাস্তভিটা। এক খণ্ড সরকারি খাস জমি পাওয়ার আশায় জনপ্রতিনিধিসহ প্রশাসনের ঊধ্বর্তন কর্তৃপক্ষের কাছে ধরনা দিয়েও কোন লাভ হয়নি। প্রায় তিন যুগ ধরে বসবাস করছেন মঙ্গলকোট ব্রীজের নিচে। বর্তমান উচ্ছেদ আতঙ্কে রাতের ঘুম হারাম হয়ে গেছে তার। শুধু লিলি বেগমের পরিবার নয়। তার মত আরও অন্ততঃ ৩০ পরিবারে শতাধিক মানুষ রয়েছে অজানা উচ্ছেদ আতঙ্কে। যশোরের কেশবপুর উপজেলার মঙ্গলকোট ব্রিজের নিচে জরাজীর্ণ ঝুপড়ি ঘরে বসবাস ওই ৩০ ভূমিহীন পরিবারের। বুড়িভদ্রা নদীর খনন কাজ শুরু হওয়ার পর থেকে উচ্ছেদ আতঙ্কে মানবেতর জীবন যাপন করছে পরিবারগুলো।

কেশবপুর সদর ইউনিয়নের আলতাপোল গ্রামের বাসিন্দা ভূমিহীন আজিজুর রহমান, লিলি বেগম, শহিদুল ইসলাম, ফতেমা বেগম, আসাদুল ইসলাম, হাবিবুর রহমান, সিরাজ সরদারসহ ৩০টি ভূমিহীন পরিবারের একটু মাথা গোজার ঠাঁই না থাকায় যাযাবর জীবন যাপন করে আসছিল। ৩০ বছর আগে তাঁরা মাথা গোজার ঠিকানা পান মঙ্গলকোট ব্রিজের নিচে বুড়িভদ্রা নদীর চরে। সেখানে ব্রিজের নিচে ও দু‘পাশে একে একে ছোট ছোট টংঘর বেঁধে কোন মতে মাথা গোজার ঠাঁই করে নিয়েছিলেন তারা।

সরজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, ভ্যান চালানো ও দিনমজুরের টাকায় চলে পরিবারগুলোর সংসার। প্রতিদিনের ন্যায় সকালে পুরুষেরা কেউ যায় ভ্যান চালাতে আবার কেউ যায় পরের ক্ষেতে দিনমজুরের কাজ করতে। একদিন কাজ না হলে তাদের অর্ধহারে অনাহারে জীবনযাপন করতে হয়। সকাল হলেই এসব পরিবারের মহিলারা যান সংসারের রান্না-বান্নার কাঠ খোঁজার সন্ধানে। শত অভাবের পরও তারা ছেলে মেয়েদের লেখাপড়া চালাতে পিছপা হন না। তাদের কোন চাহিদা নেই। শুধু একটিই আকুতি মাথা গোজার এক খণ্ড জমি। এই জমির আশায় জনপ্রতিনিধি থেকে শুরু করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে একাধিক বার আবেদন করেছেন। কিন্তু অদ্যাবধি সেই কাঙ্ক্ষিত দাবিটি অপূর্ণই রয়ে গেছে।

ব্রীজের নিচে বসবাসকারী বিধবা রাবেয়া বেগম জানায়, আমরা ভোট দিয়ে জনপ্রতিনিধি নির্বাচন করে থাকি। কিন্তু আমাদের খবর কেউ রাখে না। তাছাড়া আমরা দখলদার নই, এই পৃথিবীতে মাথা গোজার ঠাঁই নেই বলেই ওই স্থানে বাধ্য হয়ে থাকতে হয়। এক মাস আগে থেকে বুড়িভদ্রা নদীর খনন কাজ শুরু হয়েছে। নদী খননের মাটি রাখলে তাদের উঠে গিয়ে খোলা আকাশের নিচে বসবাস করা ছাড়া আর কোন পথ নেই। কিন্তু কোথায় থাকবো, কিভাবে ছেলে মেয়েদের মুখে দুমুঠো অন্ন তুলে দেব এনিয়ে তাঁর রাতে ঘুম হয় না।

সংশ্লিষ্ট এলাকার ইউপি সদস্য গৌতম রায় জানান, ওই ৩০ ভূমিহীন পরিবার বুড়িভদ্রা নদীর চরে বসবাস করে। পাশের আশ্রয়ণ প্রকল্পে ৮০টি পরিবার বসবাস করে। দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় এর অবকাঠামো ধ্বংসের পথে। আশ্রয়ণ প্রকল্পের পরিধি বৃদ্ধিসহ পুনসংস্কার করা হলে এ সমস্যার সমাধান হবে। নতুন ঘর বরাদ্দের জন্যে ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে যোগাযোগ করা হয়েছে।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মিজানূর রহমান সাংবাদিকদের জানান, তারা ওই নদীর তীরের জমি অবৈধভাবে দখল করে বসবাস করছে। আমার হাতে পর্যাপ্ত পরিমানে সরকারি জমি নেই। যে টুকু আছে তা ফকিরদের পুণর্বাসনের জন্যে রাখা হয়েছে। যারা সেখানে বসবাস করছে তাদের নিজেদের জমি নিজেদেরই কিনে নিতে হবে।         

You May Also Like