যশোরের মণিরামপুরে অতি ফলনশীল ধান উদ্ভাবন করলেন কৃষক শাহাজান

আব্দুর রহিম রানা  ||

যশোরের মণিরামপুরে অতি ফলনশীল নতুন জাতের ধান উদ্ভাবন করেছেন কৃষক শাহাজান দফাদার (৩৬)। প্রতি কাঠায় ৩ থেকে সাড়ে ৩ মন ধানের ফলন আশা করছেন তিনি। মাত্র একটি ধান গাছের বীজ সংরক্ষণ করে আউশ মৌসুমে চাষ করে এক কেজি ধানের বীজতলা তৈরি করে বোরো মৌসুমে তিনি ২৮ শতক জমিতে এই ধান রোপন করেন। ১৭ ইঞ্চি ধানের প্রতি বাইলে (থোড়ে) ৮শ’ থেকে ১১২০টি ধানের দানা ধরেছে। তার একটাই চাওয়া সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এই ধান উচ্চতর গবেষণা করুক। ধানের জাত ভাল হলে সারাদেশে কৃষকের মাঝে ছড়িয়ে দেয়া হোক।

শাহাজান উপজেলার চালুয়াহাটি ইউনিয়নের হয়াতপুর গ্রামের মৃত আব্দুল মজিদ দফাদারের ছেলে। দরিদ্র কৃষক পরিবারের সন্তান ২০০০ সালে এসএসসি পাশ করে সংসারের স্বচ্ছলতা আনতে ৫ বছর বিদেশে (ব্রুনাই) থেকে আবার গ্রামে ফিরে কৃষিতে মনোনিবেশ করেন। পাশাপাশি স্থানীয় বাজারে সার-কীটনাশকের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী তিনি।

সরেজমিন সোমবার শাহাজানের ধান ক্ষেতে গেলে দেখা যায়, প্রায় ৪৪ ইঞ্চি উঁচু ধান গাছ অন্যান্য হাইব্রিড জাতের তুলনায় ধান গাছ অনেক মোটা। ধান কাটার উপযোগি হয়ে গেছে। প্রায় ১৭ ইঞ্চি ধানের প্রতি বাইল (থোড়ে) সর্বনিম্ন সাড়ে ৮শ’ থেকে ১১শ’২০টি পুষ্ট ধানের দানা ধরেছে। যা অন্যান্য জাতের ধানের তুলনায় অনেক বেশি। ধানের ভারে বাইল (থোড়) নুইয়ে পড়েছে।

স্থানীয় কৃষি উপসহকারি হাবিবুর রহমান বলেন, অন্যান্য জাতের ধানের প্রতি বাইল ( থোড়ে) গড়ে আড়াইশ’ থেকে সর্বোচ্চ ৫শ’ ধানের দানা হয়। কিন্তু শাহাজানের এ ধানের প্রতি বাইল (থোড়ে) সাড়ে ৯শ’ থেকে ১ হাজার ধানের দানা ধরেছে। এরফলে প্রতি কাঠায় আড়াই থেকে ৩ মন ধানের ফলন হতে পারে।

এ সময় কথা হয় কৃষক শাহাজানের সাথে। তিনি জানান, গত ইরি মৌসুমে পৈত্রিক সূত্রে পাওয়া ২৮ শতক জমিতে হেকেম বাংলাদেশে লিমিটেড কোম্পানির ব্রিডার ভিত্তি-২৮ জাতের ধানের আবাদ করেছিলেন। ওই ক্ষেতে একটি ধানের গাছ অন্যান্য ধানগাছের তুলনায় অধিক মোটা ও বড় হয়েছিলো এবং দীর্ঘ থোড়ে ধানও ধরেছিলো অধিক। এ গাছ কেন এত বড় হলো, এমন ভাবনা তাকে পেয়ে বসলো। এক পর্যায় সিদ্ধান্ত নিলেন এ ধানগাছটি পাকার পর (কাটার উপযোগি) বীজ তৈরির জন্য আলাদাভাবে পরিস্কার করে সংরক্ষণ করবেন। তার স্ত্রী রুপা খাতুনের সহযোগিতায় ওই ধান গাছ আলাদাভাবে পরিস্কার বীজ সংরক্ষণ করে পরবর্তি আউশ মৌসুমে (সেকেন্ড ব্লক) জমির এক কোণায় বোপন করে তা থেকে প্রায় ১ কেজি ধান পেয়েছিলেন। চলতি ইরি মৌসুমে ওই ১ কেজি ধান বীজতলা তৈরি করে ২৮ শতক জমিতে একটি করে গাছ রোপন করেন।

তার চেষ্টা বৃথা যায়নি বলে স্থানীয় কৃষক আব্দুল খালেক মন্তব্য করেন। শাহাজানের উদ্ভাবিত এই ধানের নাম দিতে চান ‘শাহাজান’ ধান। তার আশা ক্রমবর্ধমান দেশের মানুষের খাদ্য চাহিদা পূরণে উদ্ভাবিত এই অতি ফলনশীল জাতের ধান সংশ্লিষ্ট কর্র্তৃপক্ষ উচ্চতর গবেষণা করে ভাল মনে হলে দেশের কৃষকদের মাঝে ছড়িয়ে দিক।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হীরক কুমার সরকার এটি কোন অনুমোদিত ধানের জাত না উল্লেখ করে বলেন, ধান গবেষণা কেন্দ্রের সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তারা এ জাতের ধানের ইতিহাস গবেষণা করে বলতে পারবেন এটির পরবর্তি কার্যকারিতা (ফলন) কেমন হবে। এরপরই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে এটি ভালজাতের ধান হিসেবে স্বীকৃতি পেতে পারে।

You May Also Like