জাতীয় পরিচয়পত্র বিতরনের ছবি তোলা সাংবাদিকের পরিচয়পত্র আটকে দিয়েছে নির্বাচন অফিস

কেশবপুর নিউজ ডেস্ক ||

কেশবপুরে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি কার্ড) নিতে গিয়ে সোমবার স্থানীয় সাংবাদিক দৈনিক জনকন্ঠের প্রতিনিধি কবির হোসেন নির্বাচন অফিসের লোকের কাছে অপমানের শিকার হয়েছে। কার্ড বিতরনের ছবি তোলার অপরাধে ওই সাংবাদিকের পরিচয়পত্রে কার্ড দেয়া হয়নি। শুধু কার্ড বিতরণের ছবি তোলার অপরাধে তাকে অবরোধ করে রাখার চেষ্টা করা হয়। সাংবাদিক পরিচয় দিলে গোটা সাংবাদিকদেরকে উদ্দেশ্য করে নানা রকম গালিগালাজও করা হয়। এ সময় উপজেলা নির্বাচন অফিসার বজলু রহমানসহ কার্ড বিতরনের সকল অফিসারদের সেখানে ডেকে আনা হয়। তারাও এসে অনেকটা ধমকের সুরে কথা বলেন ওই সাংবাদিকের সাথে। উপস্থিত জনতা কার্ড বিতরনকারীদের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ বলতে থাকলে অফিসারগণ সেখান থেকে চলে যান। কিন্তু সাংবাদিকের কার্ড তারা দেয়নি।

সোমবার কেশবপুর মডেল প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সরেজমিনে দেখা গেছে, পুরুষদের হাত ও চোখের বায়োমেট্রিক পদ্ধতির জন্য ৬টি টেবিলের ব্যবস্থা থাকলেও সেখানে মাত্র ২টি টেবিলে দুজন কর্মী কাজ করছেন। ভুক্তভোগিরা জানালেন, প্রায় দুঘন্টা ওই চারজন কোথায় চলে গেছেন। এ ব্যাপারে তাৎক্ষনিক নির্বাচন অফিসার জানান, বাকিরা লাঞ্চে গেছে। তখন ওই জায়গায় প্রায় ৫শ’ জনসাধারন বায়োমেট্রিক পদ্ধতির জন্য অপেক্ষা করছিলেন। এ সময় অতিষ্ট জনতাকে বাকি দুজনের সাথে বাকবিতন্ডা করতে দেখা যায়।

অধিকাংশই অভিযোগ করেছেন, জাতীয় পরিচয়পত্র বিতরনকারীরা খেয়াল খুশি মতো কার্ড বিতরণ করছে। কেউ কিছু বললে তাদের হুমকি ধমকিও দেয়া হচ্ছে বলে অনেকে অভিযোগ করেছেন।

এই ব্যাপারে জনকণ্ঠের কেশবপুর প্রতিনিধি কবির হোসেন জানান, আমার টোকেন, বায়োমেট্রিক সম্পন্ন করার পর কার্ড বের করে হাতে দেবার সময় সাংবাদিক হিসেবে ছবি তোলার অপরাধে বিতরনকারীরা কার্ড দিলো না! তারপর সকল অফিসার এসে তাদের দিয়ে আমার কাছে ক্ষমা চাওয়ালেন! এরপর আমার কার্ড সরিয়ে ফেলে বলছেন, কার্ড খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না! অফিসার উপস্থিত সাংবাদিক ও জনতাকে বললেন আমার কার্ড পৌঁছে দেবেন। এখন বলছেন আমাকে অনলাইন সার্ভারেও পাওয়া যাচ্ছে না! তাহলে টোকেন কিভাবে দিলেন? হাতের ও চোখের বায়োমেট্রিক পদ্ধতি সম্পন্নের সীল কিভাবে দিলেন? নতুন কার্ড থেকে আমার পিতার নাম কিভাবে বললেন? এ সময় উপস্থিত জনতা যারা এ ঘটনা দেখলো তাদের কি জবাব দেবেন কর্মকর্তারা?! সাংবাদিক বলেই কি আমার প্রতি এই প্রতিহিংসা?

সাংবাদিকের জাতীয় পরিচয়পত্র না দেয়ার ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মিজানূর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, তিনি বিষয়টি দেখবেন বলে জানিয়েছেন।

You May Also Like