ভারতে নজরুল সম্মাননা পুরস্কারকে ভূষিত হলেন কেশবপুরের কৃতি সন্তান মনিরুল ইসলাম

নাহিদ ইসলাম ||

পশ্চিমবঙ্গের ‘নজরুল সম্মাননা পুরস্কার-২০১৯’ এর ভূষিত হয়েছেন কেশবপুরের কৃতি সন্তান, দৈনিক প্রথম আলো পত্রিকার যশোরের সাংবাদিক মনিরুল ইসলাম। কোলকাতার বারাসাতের নজরুল চর্চা কেন্দ্রের আয়োজনে ২য় আন্তর্জাতিক নজরুল উৎসবে তাঁকে এ সম্মানে ভূষিত করা হয়।

অনুষ্ঠানে মনিরুল ইসলাম ছাড়াও দুজনকে ‌’নজরুল স্মৃতি পুরস্কার’ প্রদান করা হয়েছে। তারা হলেন- বাংলাদেশের ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. তপন কুমার রায় ও কলকাতার বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক লায়েক আলি খান।

রোববার রাতে অনুষ্ঠানের শুরুতে নজরুলের মূর্তিতে মাল্যদানের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা করেন ‘নজরুল চর্চা কেন্দ্র’-র প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি অধ্যাপক ড. শেখ জামাল উদ্দীন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি লায়েক আলি খান কবির জীবন ও সৃষ্টি নিয়ে আলোচনা করেন। অধ্যাপক তপন রায় বাংলাদেশে নজরুল চর্চা নিয়ে আলোচনা করেন। কবির সাংবাদিক সত্ত্বা নিয়ে বক্তব্য রাখেন সাংবাদিক মনিরুল ইসলাম।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশের মুক্তিযোদ্ধা মণিমোহন ধর, শিক্ষিকা সাদিয়া শারমিন, পশ্চিমবঙ্গের আমিন ইসলাম, সাজাহান মন্ডল, নূপুর মন্ডল, সুব্রত বিশ্বাস, সঞ্জয় দেবনাথ, দেবযানী চট্টোপাধ্যায়, রথীন সরকার, দুর্গা বেরা, লুৎফর রহমান, সোনালী মিস্ত্রী, রীতা সাহাসহ  বিশিষ্টজনেরা।

উদ্বোধনী সংগীত ও সমাপ্তি সংগীত পরিবেশন করেন আলাপিনী কয়ার ও আরজু মুখোপাধ্যায়। ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন নজরুল চর্চা কেন্দ্রের সম্পাদক শাজাহান মণ্ডল। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন প্রসেনজিৎ রাহা।

কেশবপুরের শহরতলীর কিনু মোড়ল ও আলেয়াতুন্নেছার সন্তান সাংবাদিক মনিরুল ইসলামের জন্ম ২ এপ্রিল, ১৯৮৩ খ্রিঃ। যশোর সরকারি মাইকেল মধুসূদন (এমএম) কলেজ থেকে বাংলা সাহিত্যে ২০০৮ ও ২০০৯ সালে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন। ছাত্রাবস্থায় ২০০৯ সালে বাংলাদেশের শীর্যস্থানীয় বাংলা দৈনিক পত্রিকা ‘প্রথম আলো’র যশোর জেলা প্রতিনিধি হিসাবে সাংবাদিকতায় যোগদান। প্রথম আলোতে বস্তুনিষ্ঠ সরেজমিন সংবাদ লেখার জন্য ২০১২ সালে ‘মাদক বিরোধী সেরা প্রতিবেদন পুরস্কার-২০১২’ পদক অর্জন। বাংলাদেশের তৎকালিন শিক্ষামন্ত্রী জনাব নুরুল ইসলাম নাহিদ ঢাকায় আড়ম্বর এক অনুষ্ঠানে পুরস্কারের পদক মনিরুল ইসলামের গলায় পরিয়ে দেন।

২০০৩ সালে কেশবপুর সরকারি ডিগ্রি কলেজে উচ্চ মাধ্যমিকে (এইচএসসি) অধ্যায়নের সময় সাংবাদিকতায় হাতেখড়ি শুরু হয়। সে সময়ে ঢাকা থেকে প্রকাশিত অধুনালুপ্ত দৈনিক আজকের কাগজ ও দৈনিক ভোরের ডাক প্রত্রিকার লেখালেখির মধ্যদিয়ে সাংবাদিকতা জীবন শুরু হয়। এরপর যশোর শহরের সরকারি এমএম কলেজে বাংলা সাহিত্যে স্নাতক (সম্মান) ডিগ্রি অর্জনের সময় যশোর থেকে প্রকাশিত স্থানীয় দৈনিক গ্রামের কাগজ,অধুনালুপ্ত দৈনিক রানার,দৈনিক কল্যাণ ও দৈনিক যশোর পত্রিকা ঘুরে প্রথম আলোতে থিতু হন। প্রথম আলোর যশোর আঞ্চলিক অফিসেই এখন কর্মজীবনের ঠিকানা।

লেখাপড়ার পাশাপাশি ছাত্রজীবন থেকেই বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃত্ব দেন। এর মধ্যে সরকারি এমএম কলেজের তিন যুগের ঐতিহ্যবাহী সংগঠন ‘উচ্চারণ সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক গোষ্ঠি’র সভাপতি,জাতীয় রবীন্দ্র সংগীত সম্মিলন পরিষদ,যশোর জেলা শাখার সম্পাদকমন্ডলীতে থেকে শুদ্ধ সাংস্কৃতিক চর্চার আন্দোলন বেগমান করা হয়। নাট্য সংগঠন ‘বিবর্তন যশোর’ এ থিয়েটার কর্মী হিসাবে নাট্য আন্দোলনে ভূমিকা রাখা।

You May Also Like