কেশবপুরের ৩ লাখ মানুষ আর্সেনিক ঝুঁকিতে

জি. এম. মিন্টু ||

যশোরের কেশবপুরে সকল অগভির নলকূপের পানিতে বিরাজ করছে আর্সেনিক। চাহিদার তুলনায় গভির নলকূপের সরবরাহ কম বলে উপজেলার প্রায় তিন লাখ মানুষ আর্সেনিক ঝুঁকির ভেতর রয়েছে। উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলীর অফিস সূত্রে জানা গেছে, কেশবপুর উপজেলায় ২ হাজার ৩২২টি অগভির নলকূপ রয়েছে। যার প্রত্যেকটিতেই মাত্রাতিরিক্ত আর্সেনিক রয়েছে। উপজেলার ১১টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌর এলাকায় প্রায় তিন লাখ মানুষের বসবাস।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ত্রিমোহিনী ইউনিয়নে ১৬৩টি, সাগরদাঁড়ি ইউনিয়নে ২৮১টি, মজিদপুর ইউনিয়নে ২১৫টি, বিদ্যানন্দকাটী ইউনিয়নে ১৩৫টি, মঙ্গলকোট ইউনিয়নে ২২৬টি, কেশবপুর সদর ইউনিয়নে ১৮০টি, পাঁজিয়া ইউনিয়নে ১৪২টি, সুফলাকাটী ইউনিয়নে ২০৭টি, গৌরীঘোনা ইউনিয়নে ২১৯টি, সাতবাড়িয়া ইউনিয়নে ১১৯টি, হাসানপুর ইউনিয়নে ১৫০টি এবং পৌর এলাকায় ১৮৫টি অগভির নলকূপ রয়েছে। সব কয়টির পানিতে আর্সেনিক বিরাজ করছে। আর্সেনিক মুক্ত পানির জন্য উপজেলার ত্রিমোহিনী ইউনিয়নে ৭৮টি, সাগরদাঁড়ি ইউনিয়নে ১৪০টি, মজিদপুর ইউনিয়নে ১১২টি, বিদ্যানন্দকাটী ইউনিয়নে ৫৯টি, মঙ্গলকোট ইউনিয়নে ১৫৩টি, কেশবপুর সদর ইউনিয়নে ১৯৪টি, পাঁজিয়া ইউনিয়নে ৩১৯টি, সুফলাকাটী ইউনিয়নে ১১৫টি, গৌরীঘোনা ইউনিয়নে ১৮২টি, সাতবাড়িয়া ইউনিয়নে ১১০টি, হাসানপুর ইউনিয়নে ১৪৩টি এবং পৌর এলাকায় ৩৯টি গভীর নলকূপ রয়েছে। এর ভেতর ২৩টিতে পানি না উঠার অভিযোগ আছে।

উপজেলার পৌর এলাকার মধ্যকুল-ভবানীপুর স্লুইস গেটের পাশে একটি গভীর নলকূপ রয়েছে। ওই নলকূপ থেকে গেটের দু’পারের মানুষ পানি নিয়ে খান। কিন্তু কলটিতে খুবই কম পানি উঠে। গেটের পাশের বাসিন্দা মর্জিনা খাতুন বলেন, কলটি চেপে পানি নিতে খুবই কষ্ট হয়। কারণ হিসেবে তিনি আরও বলেন, কলটি থেকে পানি কম উঠার কারণেই কষ্টের মূল কারণ।

অপর বাসিন্দা ইয়াসিন আলি সরদারের স্ত্রী নূরুন নাহার বলেন, কল চাপতে পারি না বিধায় বাড়িতে বসানো অগভির টিউবওয়েলে পানি বাধ্য হয়ে খেয়ে থাকি।

উপজেলার সদর ইউনিয়নের দোরমুটিয়া গ্রামের বাসিন্দা হুমায়ূন কবীর বলেন, একটি গভির নলকূপের জন্য ইউনিয়ন চেয়ারম্যান, উপজেলা চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্ট অফিসে গত চার বছর যাবৎ যোগাযোগ করেও পাওয়া সম্ভব হয়নি। প্রায় আধা কিলোমিটার দূরে হেটে গিয়ে খাওয়ার পানি আনতে হয়। বাড়ির অন্যান্য কাজ সাধারণ টিউবওয়েলের পানি দিয়ে করতে হচ্ছে। এলাকাটি অত্যন্ত আর্সেনিক প্রবণ এলাকা। যে কারণে সব সময় আর্সেনিক ঝুঁকির ভেতর তাদের থাকতে হচ্ছে।

উপজেলার পাঁজিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারন্যান শফিকুল ইসলাম মুকুল বলেন, তার ইউনিয়ন অত্যন্ত আর্সেনিক যুক্ত এলাকা। চাহিদার তুলনায় গভীর নলকূপের বরাদ্দ কম থাকায় এলাকাবাসী আর্সেনিক ঝুঁকির মধ্যে বসবার করছেন।

উপজেলা জনস্বাস্থ্য উপসহকারী প্রকৌশলী মো. শাহাঙ্গীর আলম বলেন, ২০১৮-১৯ অর্থ বছরে কেশবপুরের পল্লী অঞ্চলে পানি সরবরাহ প্রকল্পে ৫২টি, অগ্রাধিকার মূলক বিশেষ গ্রামীণ পানি সরবরাহ ব্যস্থা প্রকল্পে ৩৫৬টি এবং আর্সেনিক ঝুঁকি নিরসন প্রকল্পে ৩২৩টি গভির নলকূপ বরাদ্দ পাওয়া গেছে। প্রকল্পের কাজ চলমান রয়েছে। ইতিমধ্যে পল্লী অঞ্চলে পানি সরবরাহ প্রকল্পে ২৮টি, অগ্রাধিকারমূলক বিশেষ গ্রামীণ পানি সরবরাহ ব্যবস্থা প্রকল্পে ২৭৭টি গভির নলকূপ স্থাপন করা হয়েছে। আর্সেনিক ঝুঁকি নিরসন প্রকল্পে সাইড সিলেকশান চলছে।

শিঘ্রই উল্লেখিত ৩টি প্রকল্পের কাজ সমাপ্ত হবে বলে তিনি জানান। অফিসের প্রধান ম্যাকানিক মোস্তফা রেজা বলেন, জুন মাসের ভেতর সব গভির নলকূপ স্থাপনের কাজ সমাপ্ত হবে।

উপসহকারী প্রকৌশলী মো. শাহাঙ্গীর আলম আরও বলেন, এ উপজেলার জন্য ৩০০০ গভির নলকূপের চাহিদা প্রেরণ করা হয়েছে। চাহিদা অনুযায়ী বরাদ্দ পেলে আর্সেনিক মুক্ত পানি পেতে কেশবপুরের মানুষের আর অসুবিধা হবে না।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মিজানূর রহমান বলেন, কেশবপুরের প্রতি ১০ থেকে ১৫ পরিবারের জন্য ১টি করে গভির নলকূপ স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে।

You May Also Like