কিশোরী ধর্ষণের অভিযোগে মণিরামপুরে পল্লী দারিদ্র্য বিমোচন কর্মকর্তা গ্রেফতার

আব্দুর রহিম রানা, যশোর ||

যশোরের মণিরামপুরে পল্লী দারিদ্র বিমোচন ফাউন্ডেশনের সহকারী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বাসার কাজের মেয়ে এক কিশোরীকে (১২) ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। সোমবার (১ জুলাই) রাতে পুলিশ অভিযুক্ত গোলাম কিবরিয়াকে (৫৬) পৌরশহরের তাহেরপুরের একটি ভাড়া বাড়ি থেকে আটক করে।

এই ঘটনায় রাতেই কিশোরীর পিতা বাদি হয়ে থানায় একটি ধর্ষণ মামলা করেছেন। পুলিশ ওই কিশোরীকে হেফাজতে নিয়েছে।

গোলাম কিবরিয়া ঝিনাইদহের শৈলকুপা থানার আসাননগর গ্রামের মৃত চাঁদ আলী বিশ্বাসের ছেলে। ২০১২ সাল থেকে তিনি পল্লী দারিদ্র বিমোচন ফাউন্ডেশনের মণিরামপুর শাখায় কর্মরত। স্ত্রী রওশনারাকে নিয়ে পৌরশহরের তাহেরপুরে একটি ভাড়া বাসায় থাকতেন তিনি। সেই বাসায় কাজ করত ১২ বছর বয়সী ওই কিশোরী। পাশাপাশি স্থানীয় একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ত সে। একাধিকবার ধর্ষণের ফলে সেই কিশোরী এখন চার মাসের অন্ত:সত্ত্বা। গোলাম কিবরিয়াকে সে নানা বলে সম্বোধন করত।

কিশোরীর পিতা জানান, ১০ বছর আগে স্ত্রী রাজিয়াকে তালাক দেন তিনি। এরপর দুই মেয়েকে নিয়ে মণিরামপুরের পাড়দিয়া গ্রামে পিতার বাড়িতে চলে আসেন রাজিয়া। পরে রাজিয়ার অন্যত্র বিয়ে হয়। দুই মেয়ে থেকে যায় তাদের নানির কাছে। যশোর শহরে থাকলেও পিতা হিসেবে তিনি দুই মেয়ের লেখাপড়ার খরচ বাবদ মাসে এক হাজার ৫০০ টাকা করে পাঠাতেন। কিন্তু নানি তাদের স্কুলে না পাঠিয়ে ছোট মেয়েকে গোলাম কিবরিয়ার বাসায় কাজ করতে পাঠান।

মামলার এজহারে তিনি উল্লেখ করেন, বাসায় রেখে জোর পূর্বক একাধিকবার মেয়েকে ধর্ষণ করে কিবরিয়া। সর্বশেষ গত ৩ ফেব্রুয়ারি রাত সাড়ে ১১টার দিকে মেয়েটিকে ধর্ষণ করে সে। কয়েকদিন ধরে মেয়েটি পেটে ব্যথা বলছিল। পেটে টিউমার হয়েছে ভেবে যশোরে একটি ক্লিনিকে পরীক্ষা করিয়ে জানতে পারি মেয়ে চার মাসের অন্ত:সত্ত্বা।

ওই কিশোরী পুলিশকে জানায়, রাতে স্ত্রীর কাছ থেকে উঠে তার ঘরে যেত কিবরিয়া। তাকে লেপের নিচে ঢুকিয়ে মোবাইলের ভিডিও দেখাত সে। এরপর তাকে জোর পূর্বক ধর্ষণ করত। বিষয়টি সে নানিকে জানালে তিনি তাকে আর ওই বাসায় কাজে পাঠাননি।

এদিকে অভিযুক্ত গোলাম কিবরিয়ার স্ত্রী রওশনারা দাবি করেন, তার স্বামীর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ মিথ্যে। তিনি বাসায় থাকতে এমন কাজ হতে পারে না।

গোলাম কিবরিয়ার কাছে জানতে চাইলে এই বিষয়ে তার কিছু বলার নেই বলে জানান তিনি।

মণিরামপুর থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) এসএম এনামুল হক বলেন, অভিযুক্ত গোলাম কিবরিয়াকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তিনি পল্লী দারিদ্র বিমোচন ফাউন্ডেশনের সহকারী কর্মকর্তা হিসেবে মণিরামপুরে কর্মরত। মেয়েটি চার মাসের অন্ত:সত্ত্বা বলে জানতে পেরেছি। এই ঘটনায় মেয়ের বাবা বাদি হয়ে থানায় ধর্ষণ মামলা করেছেন। মেয়েটি আমাদের হেফাজতে আছে। ২২ ধারায় তার জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়েছে। তার মেডিকেল সম্পন্নর প্রক্রিয়া চলছে।

আটক গোলাম কিবরিয়ার ডিএনএ পরীক্ষার জন্য আবেদন করা হয়েছে বলে জানান এসএম এনামুল হক।

You May Also Like