যশোরে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অভিযান || ৭ মাসে ৯৭ জন আটক, মামলা ১৫৯টি

আব্দুর রহিম রানা, যশোর ||

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর যশোরে দু’টি সার্কেলসহ কর্মরত কর্মকর্তা ও সদস্যরা অভিযান চালিয়ে গত ৭ মাসে ৯৭ জন মাদক বিক্রেতাকে গ্রেফতার দেখিয়েছে। এ সময় ১৫৯টি মামলার মধ্যে ১২৩টি নিয়মিত মামলা ৩৬টি মোবাইল কোর্টে মামলা রুজু করেছে। মোবাইল কোর্ট মামলায় মাদকসহ গ্রেফতারকৃতদের সাজা দিয়েছে। এ সময় ৬৯ জন মাদক বিক্রেতাকে পলাতক দেখিয়েছে। মাদক উদ্ধারের মধ্যে ৬শ’ ৫ বোতল ফেনসিডিল, ৪শ’ ৯০ পিস ইয়াবা,৬৩ কেজি ৫শ’ ৮০ গ্রাম গাঁজা,১শ’ ৪৬.৮ লিটার ডিনোচার্ড স্পিরিট, চোলাইমদ, ১শ’ ৭২ লিটার তাঁড়ী ও বাংলামদ উদ্ধার করেছে। এ তথ্য মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর সূত্রের।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর যশোর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের গত জানুয়ারী হতে জুলাই এই ৭ মাসে বিপুল পরিমানের ফেনসিডিল, ইয়াবা ও গাঁজাসহ বিভিন্ন মাদকদ্রব্য উদ্ধার করতে সক্ষম হয়। এ সময় লাগাতার অভিযান চালিয়ে ১শ’ ৫৯টি মোট মামলার মধ্যে ১শ’ ২৩টি নিয়মিত মামলা ও ৩৬টি মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে মামলা রুজু করেছে। এ সময় মাদক নিজ দখলে রাখার অভিযোগে ৯৭ জন মাদক বিক্রেতাকে গ্রেফতার করলেও পলাতক দেখিয়েছে ৬৯জন।

অফিস সূত্রগুলো জানিয়েছেন, যশোর জেলা কার্যালয়ে ক অঞ্চল ও খ অঞ্চলে দু’টি সার্কেল রয়েছে। এই দু’টি সার্কেলসহ মাদকদ্রব্য বিভাগের সাথে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও সদস্যরা গত জানুয়ারী মাসে অভিযান চালিয়ে ২০টি মামলার মধ্যে ৯টি নিয়মিত মামলা ১১টি মোবাইল কোর্ট মামলায় ১১জনকে গ্রেফতার দেখালে পলাতক দেখিয়েছে ৯ জনকে। এ মাসে ৩৪ বোতল ফেনসিডিল, ২৩পিস ইয়াবা, ৩শ’ ৮০ গ্রাম গাঁজা, ৩৫ লিটার ডিনোচার্ড, ৫ লিটার চোলাই মদ, ১০২ লিটার তাঁড়ী ও ২৫০৯ এম এল বাংলা মদ উদ্ধার করেছে। ফেব্রুয়ারী মাসে ২৪ টি নিয়মিত মামলায় ১১ জন গ্রেফতার করেছে। এ সময় পালিয়ে গেছে ১৪ জন। এ মাসে ২৮ বোতল ফেনসিডিল, ২১৯পিস ইয়াবা,৫শ’ গ্রাম গাঁজা,৪০ লিটার ডিনোচার্ড, ১৩০ লিটার চোলাইমদ, ৫১শ’ লিটার জাওয়া, ৫০ লিটার তাঁড়ী উদ্ধার করে। মার্চ মাসে ২৩টি মামলার মধ্যে ৯টি নিয়মিত মামলা ও ১৪টি মোবাইল কোর্ট মামলায় ১৪ জন গ্রেফতার করে। এসময় ৯ জনকে পলাতক দেখিয়েছে। এ মাসে ৫০ বোতল ফেনসিডিল,৩৭পিস ইয়াবা,২৫০ গ্রাম গাঁজা,৪০ লিটার ডিনোচার্ড ও ২.৭শ’ ৫০ লিটার চোলাইমদ উদ্ধার। এপ্রিল মাসে ২৩ টি মামলার মধ্যে ১৪টি নিয়মিত ও ৯টি মোবাইল কোর্ট মামলায় ১৪জন গ্রেফতার ও ১০ জন পলাতক দেখিয়েছে। এ মাসে ৩শ’ ১৮ বোতল ফেনসিডিল,৮পিস ইয়াবা,৭৫০ গ্রাম গাঁজা,২৭ লিটার ডিনোচার্ড ২২.৫ লিটার চোলাইমদ ও ১৪শ’ ৫০ লিটার জাওয়া উদ্ধার,মে মাসে ১৯টি মামলার মধ্যে ১৯টি নিয়মিত মামলায় ১১ জনকে গ্রেফতার করলেও ৮ জনকে পলাতক দেখিয়েছে। এ মাসে ৮ গ্রাম হেরোইন, ৫ বোতল ফেনসিডিল, ৫৪ পিস ইয়াবা, ৪৫০ গ্রাম গাঁজা,২৪.৮ লিটার ডিনোচার্ড স্পিরিট ও ২০ লিটার তাঁড়ী উদ্ধার ,জুন মাসে ২১টি মামলার মধ্যে ২১ টি নিয়মিত মামলায় ১৩ জনকে গ্রেফতার করলেও পলাতক দেখিয়েছে ৯ জনকে । এ মাসে ১১ বোতল ফেনসিডিল, ৮৭ পিস ইয়াবা, ৫০ গ্রাম গাঁজা, ২০ লিটার ডিনোচার্ড স্পিরিট, ২০ লিটার চোলাইমদ ও ১৬শ’ লিটার জাওয়া উদ্ধার এবং জুলাই মাসে ২৯টি মামলার মধ্যে ২৭টি নিয়মিত মামলার মধ্যে ২টি মোবাইল কোর্ট মামলায় ২৩ জনকে গ্রেফতার করেছে। এ সময় ১০ জন পালিয়ে গেছে। এ মাসে ১শ’ ৫৯ বোতল ফেনসিডিল, ৭শ’ ৫০ মিলি লিটার বিলাতীমদ, ৮৫পিস ইয়াবা, ৬১ কেজি ২শ’ গ্রাম গাঁজা,২৪পিস প্যাথেডিন এ্যাম্পুল, ২০ লিটার ডিনোচার্ড ও ৫ লিটার চোলাইমদ উদ্ধার করেছে।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর যশোর ও খুলনা বিভাগীয় কর্মকর্তা আবুল হোসেনের তদারকির এক পর্যায় কর্মরত কর্মকর্তাদ্বয় অভিযান চালিয়ে উল্লেখিত মাদকদ্রব্য উদ্ধার করে। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট থানা গুলিতে মামলা রুজু করা হয়েছে।

You May Also Like