আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে রাস্তা নির্মান করার অভিযোগে কেশবপুর পৌর মেয়রের নামে মামলা

কেশবপুর নিউজ ডেস্ক ||

কেশবপুর পৌরসভার মেয়র রফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে বসতঘর ভেঙ্গে রাস্তা করার অভিযোগে আদালতে মামলা করা হয়েছে। শহরের মধ্যকুল ওয়ার্ডে অবসরপ্রাপ্ত ব্যাংক কর্মকর্তা শহীদউল্লাহ তাঁর বসতঘর জোরপূর্বক ভেঙ্গে এক ব্যক্তির চলাচলের রাস্তা নির্মান করায় তিনি আদালতে পৌর মেয়রসহ কয়েক জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন। গত মাসের শেষ দিকে মেয়রের নির্দেশে পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারী ও একদল সন্ত্রাসী প্রকাশ্য দিবালকে বসতঘর ভেঙ্গে রাস্তা নির্মান করা হয়েছে এবং ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে ভাংচুরের মালামাল পৌরসভা চত্বরে ফেলে রাখা হয়েছে বলে তিনি মামলায় অভিযোগ করেছেন।

মামলা সূত্রে জানা গেছে, পৌরসভার মেয়র রফিকুল ইসলাম প্রতিপক্ষ ডাক্তার হাবিবুর রহমানের দ্বারা প্রভাবিত হয়ে জোরপূর্বক শহিদুল্লাহ এর বসতবাড়ি ভেঙ্গে রাস্তা নির্মান করে দেবেন বলে বিভিন্নভাবে হুমকি প্রদান করতে থাকেন। অব্যাহত হুমকিতে ভীত সন্ত্রস্ত হয়ে শহিদুল্লাহ ২০১৮ সালের ০৪ নভেম্বর তাঁর জমিতে পৌর মেয়রের বিরদ্ধে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার আবেদন করেন। আদালত ওই ২০ শতক জমিতে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার আদেশ প্রদান করেন। অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা পৌর মেয়রের উপরে যথাযথভাবে জারি করা হয়। আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে গত ৩০ আগষ্ট সকালে পৌরসভার মেয়র রফিকুল ইসলামের নির্দেশে পৌরসভার কর্মকর্তা- কর্মচারী ও ৫০/৬০ জনের একদল সন্ত্রাসী তাঁর বসতঘর ভেঙ্গে ডাক্তার হাবিবুরের বাড়ি যাবার রাস্তা বের করে দেয়। পৌরসভার ময়লাবহকারী ট্রাকে করে ঘর ভাঙ্গার যন্ত্রপাতি নিয়ে এসে শহিদুল্লাহর বসতঘর ভেঙ্গে প্রায় ১০ লক্ষ টাকা ক্ষয়ক্ষতি করা হয়। ভাংচুরকৃত বসত ঘরের টিন, ইটসহ অন্যান্য মালামাল পৌরসভার গাড়িতে বহন করে নিয়ে পৌরসভার সামনে রেখে দেয়া হয়েছে। প্রকাশ্য দিবালকে বসতঘর ভেঙ্গে রাস্তা নির্মানের ঘটনায় অবসরপ্রাপ্ত ব্যাংক কর্মকর্তা শহিদউল্লাহ যশোর আদালতে গত ৮ সেপ্টেম্বর মেয়র রফিকুল ইসলামসহ অজ্ঞাতনামা কয়েকজনের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলা নং-মিসকেস ৩০,তাং ০৮/০৯/১৯।

মামলার বিবরণে আরও জানা গেছে, রাষ্ট্রয়ত্ব সোনালী ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শহীদউল্লাহ চাকুরি করাকালীন সময়ে ১৯৮৪ সালের ১৮ জানুয়ারী পৌর শহরের মধ্যকুল ওয়ার্ডে ১৫৩৪ সাবেক দাগ ও আর এস ৩৮২৬ দাগের ৫৫ শতক জমির মধ্যে ৩৮২ ও ৩৮৩ নং রেজিষ্টিকৃত কবলা দলিল মূল্যে যশোর-সাতক্ষীরা সড়কের রাস্তা সংলগ্ন পূর্ব পাশে ২০ শতক জমি ক্রয় করেন। সরকার সেরেস্তায় ১৫৮১/৮৪-৮৫ নং নামপত্তনসহ জমা খারিজ কেসে নিজের নামে নামপত্তনে ১৬৫৭ নং পৃথক খতিয়ান খুলে অদ্যবধি যথানিয়মে কর প্রদান করে ভোগদখল করছেন। তিনি সোনালী ব্যাংক থেকে গৃহ ঋন নিয়ে ওই জমির চারপাশে প্রাচীর দ্বারা বেষ্টিত করে চারটি দোকান ঘর, ১৪ কক্ষ বিশিষ্ট সেমি পাকা বসতঘর, ৭টি রান্নাঘর, ৭টি স্যানিটারি পায়খানা নির্মান করে বসবাস করে আসছেন। শহিদুল্লাহ ওই জমিক্রয় করে প্রাচীর দিয়ে ঘর নির্মানের প্রায় দুই বছর পর পার্শবর্তী শংকরি রানী সাহার ভাসুর অশোক সাহার ১৫৩২ দাগের জমি ক্রয় করে বসবাস শুরু করেন ডাক্তার হাবিবুর রহমান। শংকরি রানী ও অশোক সাহার মধ্যে বিরোধপূর্ন জমি অল্প দামে ক্রয় করেন সুচতুর হাবিবুর রহমান। জমি ক্রয়ের পর থেকে শংকরি রানীর সাথে ডাক্তার হাবিবুর রহমানে মধ্যে বিরোধ শুরু হয়। বিরোধের সূত্র ধরে শংকির রানী তার জমির উপর দিয়ে হাবিবুর রহমানের চলাচলের রাস্তা বন্ধ করে দেন। ডাক্তার হাবিবুর রহমান তার বাড়ি থেকে বের হবার রাস্তার জন্য বিভিন্ন জায়গার দেনদরবার করতে থাকেন। শংকরি রানীর জমির উপর দিয়ে রাস্তা বের করতে না পেরে এক পর্যায়ে তিনি শহিদুল্লাহের জমির উপর দিয়ে রাস্তা নির্মানের জন্য বিভিন্ন ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদান করতে থাকেন। ২০০৮ সালে ডাঃ হাবিবুর রহমান ওই জমিতে রাস্তা নির্মানের দাবিতে যশোর আদালতে হিজম্যান রাইটে একটি মামলা করেন। যার নং- ১৩৩/০৮। ওই মামলায় ওই জমিতে রাস্তা আছে কিনা তা সরেজমিনে তদন্তের জন্য শহিদুল্লাহ আদালতে আবেদন করেন। আদালত সরেজমিন তদন্তের জন্য সার্ভেজ্ঞান সম্পন্ন এ্যাডভোকেট আমিনুর রহমনাকে কমিশনার নিযুক্ত করেন। তিনি উভয় পক্ষের উপস্থিতিতে তদন্ত করে ২০১৬ সালের ২৮ জুলাই ফিল্ড বুক, স্কেচ ম্যাপ ও অন্যান্য কাগজপত্রসহ তদন্ত রিপোর্ট আদালতে দাখিল করেন। তদন্ত রিপোর্টে তিনি ওই ২০ শতক জমির উপর দিয়ে ইতোপূর্বে কোন চলাচলের রাস্তা ছিলনা বা পথ হিসেবে কোন আলামত পাওয়া যায়নি মর্মে উল্লেখ করেন।

এ ঘটনার পর থেকে যশোর আদালতে মামলা চলমান থাকা অবস্থায় আদালতকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে ডাঃ হাবিবুর রহমান কেশবপুর পৌরসভার তৎকালীন মেয়র, কেশবপুর থানা অফিসার ইনচার্জ, উপজেলা নির্বাহী অফিসার, যশোরের জেলা প্রশাসকসহ বিভিন্ন দপ্তরে একই অভিযোগ করেন। প্রত্যেকটি অভিযোগের সরেজমিনে স্ব স্ব দপ্তর তদন্ত করে ওই জমিতে বসতঘর থাকায় সেটা ভেঙ্গে রাস্তা হবে না মর্মে আদেশ প্রদান করেন।

এরপরও কেশবপুর থানা, উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও পৌরসভার মেয়র পরিবর্তন হলেই হাবিবুর রহমান নতুন করে অভিযোগ করে হয়রানি করে আসছে বলে অভিযোগে প্রকাশ।

কেশবপুর পৌরসভায় মেয়র রফিকুল ইসলাম বর্তমানে কেশবপুরের বাইরে অবস্থান করায় এবং তাঁর মোবাইল ফোন রিসিভ না করায় তার মতামত পাওয়া যায়নি।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মিজানূর রহমান জানান, এই বিষয়টি আদালতের। যদি উভয় পক্ষ আমার কাছে মিমাংশার জন্য আবেদন করেন তাহলে আমি মিমাংশার চেষ্টা করবো।

You May Also Like