কেশবপুরে ভালুকঘর মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষকে অপসারণের দাবিতে শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন

কেশবপুর নিউজ ডেস্ক ||

শিক্ষকের ওপর হামলার প্রতিবাদে ও সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার এবং ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ’র অপসারণের দাবিতে ভালুকঘর আজিজিয়া ফাযিল মাদ্রাসার ছাত্র-ছাত্রীরা ক্লাস বর্জন করে মানববন্ধন করেছে। সোমবার সকালে কেশবপুর শহরের শহীদ মুক্তিযোদ্ধা দৌলত বিশ্বাস চত্বরে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন শিক্ষার্থী আবু রাসেল, সুমাইয়া, মাফিয়া আক্তার, মো. রায়হান, মো. হাবিব, মো. রুস্তম আলি, আব্দুল বারিক, আবু হুরাইরা, সুরাইয়া খাতুন।

এ সময় তারা বলেন, ২ বছর ধরে অধ্যক্ষ না থাকায় পরিচালনা পরিষদের সভাপতি ওহাবুজ্জামান ঝন্টু তার আপন বড় ভাই মাওলানা আব্দুল হাইকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নিয়োগ দিয়ে মাদ্রাসা পরিচালনা করছেন। ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ একজন দুর্ণীতিপরায়ন ব্যক্তি, তাকে অপসারণ করে এক মাসের মধ্যে নতুন অধ্যক্ষ নিয়োগ এবং সভাপতিকেও অপসারণ করে উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে সভাপতি করতে হবে। আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সন্ত্রাসী মাহফুজকে গ্রেফতার করতে ব্যর্থ হলে মাদ্রাসার কক্ষে কক্ষে তালা লাগিয়ে আন্দোলন অব্যাহত রাখা হবে। এছাড়াও তারা শিক্ষকের ওপর হামলার প্রতিবাদ ও সন্ত্রাসীদের গ্রেফতারের দাবি জানান।  

এলাকাবাসি, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা জানান, ওই মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুল হাইয়ের দুর্নীতির প্রতিবাদ করায় গত ১৭ সেপ্টেম্বর মাদ্রাসা ছুটির পর ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের ছেলে আব্দুল্লাহ আল মাহফুজের নেতৃত্বে একদল সন্ত্রাসী আরবী প্রভাষক হাদিউজ্জামান সোহাগকে মাদ্রাসার পাশে ছাত্র-ছাত্রীদের সম্মুখে বেদম মারপিট করে রক্তাক্ত জখম করে। ছাত্র-ছাত্রী ও এলাকাবাসী তাকে উদ্ধার করে কেশবপুর হাসপাতালে ভর্তি করে। এ ঘটনার পরদিন ১৮ সেপ্টেম্বর ছাত্র-ছাত্রীরা ক্লাস বর্জন করে মানববন্ধন ও ইউএনও অফিস ঘেরাও করে শিক্ষকের ওপর হামলার বিচার ও সন্ত্রাসী মাহফুজের গ্রেফতারের দাবি জানায়। ঘটনার পর থেকে ছাত্র-ছাত্রীরা মাদ্রাসার ক্লাস বর্জন করে আন্দোলন অব্যাহত রাখে।

সোমবার সকালে শিক্ষার্থীরা ভালুকঘর থেকে ৭ কি.মি. দূরে কেশবপুর শহরে মানববন্ধনে অংশ নেওয়ার জন্য আসার সময় ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুল হাইয়ের লোকেরা মোড়ে মোড়ে বাঁধার সৃষ্টি করে। অভিভাবকরা তাদের সন্তানদের এ মানববন্ধনে অংশ নেওয়ার জন্য মোটর সাইকেল ও ভ্যান যোগে কেশবপুর শহরে পৌঁছে দেয় বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান।

মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুল হাই বলেন, মাদ্রাসা ও আমার পরিবারের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করতে জামায়াত, বিএনপি সমর্থিতরা অরাজকতা সৃষ্টি করে মিটিং, মিছিল ও মানববন্ধন করছে। যারা আওয়ামীলীগ সমর্থিত তারা শ্রেণী কক্ষেই রয়েছে।  

এ ব্যাপারে মাদ্রাসা পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি ওয়াহাবুজ্জামান ঝন্টু সাংবাদিকদের জানান, যারা আন্দোলন করছে তারা কেউ ওই মাদ্রাসার শিক্ষার্থী নয়। আরবী প্রভাষক হাদিউজ্জামান সোহাগ ও আব্দুল্লাহ আল মাহফুজের মধ্যে যে মারামারি হয়েছে তা তাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়। বর্তমান হাদিউজ্জামান সোহাগ বিষয়টি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে মাদ্রাসাকে ব্যবহারের চেষ্টা করছে।

কেশবপুর থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. শাহিন জানান, প্রভাষক হাদিউজ্জামান সোহাগ থানায় অভিযোগ করেছিলেন। অভিযোগটি পেয়ে ভালুকঘর ফাঁড়ি ইনচার্জ মো. নাছির উদ্দিনকে তদন্তের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মিজানূর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, যারা আমার অনুমতি ছাড়া মানববন্ধন করেছে আমি পুলিশকে তাদের আটক করার জন্য বলেছি।

You May Also Like