অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় কেশবপুর মহিলা কলেজের প্রভাষক আঃ রাজ্জাক চূড়ান্ত বরখাস্ত

কেশবপুর নিউজ ডেস্ক ||

জেলা প্রশাসক যশোর, কলেজ কর্তৃপক্ষ, শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং মাধ্যমিক ও উচচ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড কর্তৃক তদন্তে অর্থ আত্মসাৎ ও তথ্য গোপনের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় কেশবপুর হাজী মোতালেব মহিলা কলেজের প্রভাষক আব্দুর রাজ্জাককে স্থায়ীভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। গত ০৯ অক্টোবর ২০১৯ তারিখ কলেজ গভারর্নিং বডির সভায় সিন্ধান্ত মোতাবেক তাকে চাকরি থেকে স্থায়ীভাবে বরখাস্ত করা হয়।

উল্লেখ্য, সদ্য স্থায়ীভাবে বরখাস্থ হওয়া কেশবপুর মহিলা কলেজের প্রভাষক আব্দুর রাজ্জাক ০১/০১/১৯৮৪ খ্রিঃ তারিখ থেকে ৩১/০৫/৯৫ খ্রিঃ তারিখ পর্যন্ত পাথরা পল্লী উন্নয়ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে চাকুরী করেন এবং ০১/০৩/১৯৮৬ খ্রিঃ তারিখ থেকে ৩১/০৫/১৯৯৫ খ্রিঃ তারিখ পর্যন্ত তিনি স্কুল থেকে সরকারি বেতন-ভাতা গ্রহণ করেন । পাশাপাশি ৮৬ সাল থেকে ৯১ সাল পর্যন্ত রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়মিত পড়াশুনা করেছেন। ১৫/১১/১৯৯৩ খ্রিঃ তারিখে রাজ্জাক কেশবপুর  হাজী আব্দুল মোতালেব মহিলা কলেজে প্রভাষক হিসেবে যোগদান করেন। একই ব্যক্তি একই সময়ে দু-টি প্রতিষ্ঠান থেকে ০৫ মাস বেতন-ভাতা গ্রহণ করেন, যা অর্থ আত্মসাৎ ও তথ্য গোপনের সামিল।যে কারণে তার বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাৎ ও তথ্য গোপনের মামলা হয়।

গত ২২/১০/২০০৭ খ্রিঃ তারিখে জেলা প্রশাসক কর্তৃক, ০৪/১১/০৭ খ্রিঃ তারিখে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড কর্তৃক, ২৯/০৩/০৯ খ্রিঃ তারিখে শিক্ষা মন্ত্রণালয় কর্তৃক এবং ১২/০২/১৮ খ্রিঃ তারিখে কলেজ কর্তৃক তদন্তে আব্দুর রাজ্জাকের বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগের সত্যতা পান এবং তদন্ত কর্মকর্তারা আব্দুর রাজ্জাকের বিরুদ্ধে শাস্তিযোগ্য ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য কলেজ পরিচালনা কমিটিকে অনুরোধ জানান। তার  প্রেক্ষিতে  গত ৯ অক্টোবর কলেজ গভারর্ণিং বডির এক সভায় সিধান্ত মোতাবেক ঐ শিক্ষককে চূড়ান্ত বরখাস্ত করা হয়।

এ ব্যাপারে কেশবপুর মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ (ভারপ্রাপ্ত) রায়হানা সাদেক বলেন, আব্দুর রাজ্জাকের বিরুদ্ধে  অর্থ আত্মসাৎ ও তথ্য গোপনের সুর্নিদিষ্ট অভিযোগ থাকা সত্বেও তিনি নিজেকে কথিত সাংবাদিক ও ক্লাবের পরিচয়ে প্রভাব খাটিয়ে একের পর এক প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মিথ্যা  অভিযোগ ও  প্রতিষ্ঠান ধ্বংসের হুমকি অব্যাহত রেখেছেন।

কলেজ গভারর্নিং বডির সভাপতি সোবহান পিশকার সাংবাদিকদের বলেন, অর্থ আত্মসাৎ ও তথ্য গোপনসহ রাজ্জাকের বিরুদ্ধে অসংখ্য অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া  তার বিরুদ্ধে আনিত  অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় কলেজ পরিচালনা কমিটির সভায় সদস্যদের সার্বিক সিধান্ত মোতাবেক তাকে স্থায়ীভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে।    

চুড়ান্ত  বরখাস্থের ব্যাপারে বক্তব্য নেওয়ার জন্য আব্দুর রাজ্জাকের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি স্থায়ী বরখাস্তের  কথা স্বীকার করে বলেন, বরখাস্ত বিধিসম্মত হয়নি।

You May Also Like