কেশবপুরে মাদ্রাসা শিক্ষককে আটকে রেখে নির্যাতন || অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন

কেশবপুর নিউজ ডেস্ক ||

যশোরের কেশবপুরে এক মাদ্রাসা শিক্ষককে প্রায় ২ ঘন্টা পরিত্যক্ত একটি ভবনে ‌আটকে রেখে অমানুষিক নির্যাতন ও অস্ত্র ঠেকিয়ে সাদা কাগজে সাক্ষর করিয়ে নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এই ঘটনায় জড়িত অত্র প্রতিষ্ঠানের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে সোমবার সকালে মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা ক্লাশ বর্জন করে মানববন্ধন, বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে। এ ঘটনায় নির্যাতনের শিকার ঐ শিক্ষক কেশবপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেছেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ভরতভায়না এ.বি.জি.কে. সিনিয়র ফাযিল ডিগ্রী মাদ্রাসায় জ্যেষ্ঠতা লংঘন করে দায়িত্বরত ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ শফিকুল ইসলামের বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ ওঠায় সম্প্রতি ইসলামী আরবী বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিদর্শক টিম অত্র প্রতিষ্ঠানটি পরিদর্শনে আসেন এবং  দায়িত্বরত ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগের সত্যতা পান। যে কারনে পরিদর্শক টিম জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে অত্র প্রতিষ্ঠানের আরবী বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ছাইদ উদ্দীনকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব নেওয়ার জন্য নির্দেশ দেন।

এই নির্দেশের পর ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ শফিকুল ইসলামসহ ৫/৬ জন সহযোগি মিলে গত ২৭ অক্টোবর বিকাল সাড়ে ৪ টার দিকে সন্যাসগাছা ব্রীজের মাথায় সহকারী অধ্যাপক ছাইদ উদ্দীনকে একা পেয়ে পথরোধ করে তাকে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকে। প্রতিবাদ করায় তারা তাকে বাশের লাঠি, লোহার রড ও ইটের খোয়া দ্বারা আঘাত করে মারাত্বকভাবে  আহত করে।  এক পর্যায়ে তারা অধ্যাপক ছাইদ উদ্দীনকে একটি পরিত্যক্ত ভবনে ২ ঘন্টা  আটকিয়ে রেখে অস্ত্র দেখিয়ে ভয়ভীতি ও প্রাণ নাশের হুমকী দিয়ে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব নিবে না মর্মে তার নিকট থেকে সাদা কাগজে সাক্ষর করিয়ে  নেয়। এমনকি তারা সাক্ষর  নেওয়ার সময় মোবাইলে ভিডেও ধারণ করে।

এ ঘটনায় সহকারী অধ্যাপক ছাইদ উদ্দীন বাদী হয়ে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ শফিকুল ইসলাম ও তার সহযোগিদের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

এদিকে আরবী বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ছাইদ উদ্দীনকে মারপিটের ঘটনার বিচার দাবিতে সোমবার সকালে মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা ক্লাশ বর্জন করে মাদ্রসা প্রাঙ্গনে মানববন্ধন, বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে। এ ঘটনায় সুষ্ঠু বিচার দাবীতে বক্তব্য রাখেন নবম শ্রেণীর শিক্ষার্থী রাকিব, ফয়সাল, হাফিজা, রায়হান, সপ্তম শ্রেণীর শিক্ষার্থী তানিয়া, সুরইয়া, ইসামিন, ষষ্ঠ শ্রেণীর শিক্ষার্থী মাগফুর, ফাতেমা প্রমুখ।

এ সময় সহকারী অধ্যাপক ছাইদ উদ্দীনকে মারপিটের ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবী করে সংহতি প্রকাশ করেন মাদ্রাসার শিক্ষক আব্দুল খালেক, শামসুল হক, শওকত আলী, আব্দুল ওহাব, নুর মোহাম্মদ আনছারি, মঞ্জুরুল কাদের, আব্দুর রাজ্জাক, এম এ মান্নান, সেলিম আক্তার, মিজানুর রহমান, শাহিদাতুল তাহিরা, সুরাইয়া, মারুফা, রিংকু রানী প্রমুখ।

You May Also Like